kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার নিজেই করলেন আজহার

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এবার নিজেই করলেন আজহার

বড় হয়েছেন হানিফ মোহাম্মদের গল্প শুনে। ১৪ বছর আগে ইনজামাম-উল হকের ট্রিপল সেঞ্চুরির দিন মাঠে নেমেছিলেন বদলি ফিল্ডার হয়ে।

২০০৯ সালে দেখেছেন ইউনিস খানের ট্রিপলও। এই তিন কিংবদন্তির পাশে এখন আজহার আলী। হানিফ, ইনজামাম, ইউনিসের পর মাত্র চতুর্থ পাকিস্তানি হিসেবে টেস্টে করলেন এই কৃতিত্ব। প্রায় ১১ ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে গড়েছেন ইতিহাসও।

গোলাপি বলে দিবারাত্রির প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি পাননি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কেউই। অথচ দ্বিতীয় টেস্টেই সেই কীর্তির পাশাপাশি ট্রিপল করে অনন্য উচ্চতায় আজহার। ড্রেসিংরুমে প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল হকের করতালিতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন তিনি, ‘এখনো মনে আছে ইনজি ভাইয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরির দিনে বদলি ফিল্ডার হিসেবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমাকে। তখন মনে হচ্ছিল আমিও যদি এমন কিছু করতে পারতাম! সৌভাগ্য তাঁর সামনেই করলাম ট্রিপল। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অর্জনটা মনে থাকবে সারা জীবন। ’

ইনজামামের মতো ২০০৯ সালে ইউনিস খানের ট্রিপলও দেখেছেন কাছ থেকে। পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৯৪৫৬ টেস্ট রান করা ইউনিস না থাকায় হতাশাটা লুকালেন না আজহার, ‘চোটের জন্য এই টেস্টটা খেলতে না পারা ইউনিস ভাইকে ভীষণ মিস করছি। তিনি আমার আদর্শ আর ড্রেসিংরুমে বসছি তাঁর চেয়ারেই। ট্রিপলের পর সেই চেয়ারে বসে সম্মানিত আমি। কোনো সেঞ্চুরি করলে সেটা টেনে আরো বড় করতে পছন্দ করেন ইউনিস। আমিও সেই চেষ্টা করি। ’

পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আজহারের আগে তিন অঙ্কের কীর্তি ছিল হানিফ মোহাম্মদ (৩৩৭, বিপক্ষ উইন্ডিজ, ১৯৫৮), ইনজামাম-উল হক (৩২৯, বিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ২০০২) ও ইউনিস খানের (৩১৩, বিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ২০০৯)। জাভেদ মিয়াঁদাদ ছয়টি ডাবল করেও ছুঁতে পারেননি সেই মাইলফলক। অথচ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবলটা তিন অঙ্কে পরিণত করলেন পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার। ১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউনে হানিফ মোহাম্মদের ৩৩৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিনায়ক চাইলে হানিফের ৩৩৭ রানের ইনিংস পেছনে ফেলাটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। তার পরও যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন তাতে কৃতজ্ঞতা জানালেন মিসবাহকে, ‘সব সময় ২৫০-২৬০ রানের ইনিংস খেলতে পারবেন না আপনি। আমি ২৫০ করার পর ইনিংস ঘোষণার তাড়া ছিল। অধিনায়ক সে সময় যেভাবে সমর্থন করেছেন সেটা ভুলব না। ’ ৪৬৯ বলে ২৩ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩০২ রানের ইনিংসটা উৎসর্গ করলেন মা-বাবা ও দেশবাসীকে। এএফপি


মন্তব্য