kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাসকিনকে এখনই টেস্টে চান না কোচ

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তাসকিনকে এখনই টেস্টে চান না কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেটের সদর-অন্দরে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের সঙ্গে সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের দ্বন্দ্ব অজানা কিছু নয়। অনেক বিষয়েই মতানৈক্য দুজনের, সবচেয়ে বেশি বোধকরি জুবায়ের হোসেনকে ঘিরে।

এই লেগ স্পিনারে হাতুরাসিংহের পক্ষপাত ছিল প্রকাশ্য; যেখানে আবার সব সময় ফারুকের অনুমোদন ছিল না।

 

নানা ঘটনাপ্রবাহে প্রধান নির্বাচকের পদে এসেছে পরিবর্তন। ফারুকের জায়গা নেন মিনহাজুল আবেদীন। আর শুধু শীর্ষ পদ না, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার খোলনলচেই পাল্টে ফেলা হয়েছে। যেখানে কোচ ছাড়াও ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের চেয়ারম্যান, জাতীয় দলের ম্যানেজার নির্বাচনী প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ‘বিপ্লবী’ এই পরিবর্তন সত্ত্বেও কোচের সঙ্গে প্রধান নির্বাচনের দ্বন্দ্ব বোধহয় এড়ানো গেল না। পার্থক্য বলতে, হাতুরাসিংহে-ফারুকের দ্বন্দ্বের উপলক্ষ ছিলেন লেগ স্পিনার জুবায়ের; এবার হাতুরাসিংহে-মিনহাজুলের মতবিরোধের উৎস পেসার তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশের জার্সিতে তাসকিনের অভিষেক ২০১৪-র জুনে। এখন পর্যন্ত ২০টি ওয়ানডে খেলে ৩১ উইকেট এবং ১৩ টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেট শিকার এই পেসারের। মাঝে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য নিষিদ্ধ ছিলেন কিছু দিন। কিন্তু তা শুধরে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তন মন্দ হয়নি। দুই সিরিজের ছয় ম্যাচে নেন ১০ উইকেট। মোদ্দা কথা, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অন্যতম ভরসার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করেন তাসকিন।

কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁকে টেস্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়নি কখনো। মূল কারণ তাঁর ইনজুরি-প্রবণতা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ অক্টোবর থেকে মাঠে গড়ানো প্রথম টেস্টের আবহে হুট করে চাউর হয়ে যায় তাসকিনের অভিষেকের সম্ভাবনা। ইংরেজদের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে হঠাৎ ডেকে আনা হয় তাঁকে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলও বলেন, তাসকিনের ফিটনেস পরখ করে দেখতে চান তাঁরা। আর তাতে উতরে গেলে চট্টগ্রামের প্রথম টেস্টের একাদশে এই পেসারের থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

হাতুরাসিংহের প্রবল আপত্তি ঠিক সেখানেই। সেই আপত্তি তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন কাল গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়, ‘তাসকিন কি কোনো চার দিনের ক্রিকেট খেলেছে? আপনারা কি মনে করেন, কেউ একজন সরাসরি মাঠে নেমেই জাদু দেখিয়ে ফেলবে? না। ’ এখানেই থেমে থাকেননি কোচ। এই মুহূর্তে টেস্ট-মঞ্চে তাসকিনকে নামিয়ে দেওয়া যে প্রকারান্তরে তাঁর ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া, নিজের সেই মতামতও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন হাতুরাসিংহে, ‘ওরাও মানুষ। কেউ যদি জীবনে কখনো চার দিনের ম্যাচ না খেলে, তাহলে মাঠে চার দিন দাঁড়িয়ে থাকা এবং ১৫ ওভার বোলিং করা তার জন্য একেবারেই নতুন। এমন কিছু করে আমি কারো ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাই না। ’ তাসকিন কখনো চার দিনের ম্যাচ খেলেননি, এমন নয়। তবে ১০ ম্যাচের সর্বশেষটি যখন সাড়ে তিন বছর আগে, ২০১৩-র ফেব্রুয়ারিতে—তখন কোচের আশঙ্কা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

আগের প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্বের বড় এক জায়গায় থাকা লেগ স্পিনার জুবায়ের এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। আর তা নিয়ে কালও প্রচণ্ড হতাশা ঝরে হাতুরাসিংহের কণ্ঠে, ‘এটি খুব হতাশার। ওর দক্ষতা ছিল। শুরুর দিকে ওর ছন্দে থাকার সময় আমরা তা দেখেছি। আমাদের ও ম্যাচ জিতিয়েছে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় টেস্টে নিয়েছে ইনিংসে ৫ উইকেট। ভারতের বিপক্ষে টেস্টে নেয় গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। ওর পেছনে প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় করেছি আমরা, তবু তা কাজে না লাগাটা ভীষণ হতাশার। ’

জুবায়ের নেই, তাসকিন খেলছেন না। মাশরাফি বিন মর্তুজাও টেস্ট থেকে নির্বাসনে ৯ বছর। এখন ইনজুরির কারণে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বোলিং লাইনআপ সাজানোই তো কষ্টসাধ্য বাংলাদেশের জন্য। শেষ পর্যন্ত যাঁরা খেলবেন, তাঁদের দিয়ে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখায় ভয় হাতুরাসিংহের, ‘টেস্টে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং লাইন পাওয়ার জন্য আমি লড়াই করছি। আমরা একজন লেগ স্পিনারকে পেয়েছিলাম, কিন্তু সে এখন বিবর্ণ হয়ে গেছে। এর বাইরে যে স্পিনাররা রয়েছে, তারা ভালো। তবে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং লাইন এখনো খুঁজে পাইনি। ’ তবে প্রত্যাশার লাগামটা টেনে ধরার কথাও বলছেন তিনি, ‘এখন আমাদের কাছ থেকে অলৌকিক কিছু আশা করবেন না। যদি টেস্ট জিততে পারি, ভালো। এটি আমাদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস দেবে। আর আমাদের এখন কী নেই, তা নিয়ে আমি বেশি উদ্বিগ্ন নই। যা আছে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার বরং করতে চাই। ’ কিন্তু এমন ভাঙাচোরা বোলিং আক্রমণ নিয়ে টেস্ট জেতা সম্ভব? হাতুরাসিংহের ছোট্ট জবাব, ‘জেতাটা হবে বোনাস। ’


মন্তব্য