kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশের ভাবনায় ফিরেছে স্পিন

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের ভাবনায় ফিরেছে স্পিন

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে এক জোড়া দুঃখবোধ আছে বাংলাদেশ দলে। প্রথমত, ৩-০ ব্যবধানে যে সিরিজ জেতা অসম্ভব মনে হচ্ছে না এখনো, সেটাই কিনা ২-১ ব্যবধানে হারতে হলো! দ্বিতীয়ত, ঘরের মাঠে স্পিনবিষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা বাংলাদেশ কিনা এবার উল্টো নিজেরাই শিকার, তাও আদিল রশিদের লেগ স্পিনে! প্রকাশ্যে এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করে ‘অক্ষমের আর্তনাদ’ বদনামটা নিতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ।

যদিও নিজেদের বৃত্তে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ আক্ষেপ সহসা থামার কোনো লক্ষণ নেই।

 

সুযোগ মুঠো গলে বেরিয়ে যাওয়ার কষ্ট কি আর অত সহজে ভোলা যায়! সেই ২০১০ সালে ব্রিস্টলে জয়ের পর থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে বাংলাদেশ, কবে আসবে ইংল্যান্ড? সিরিজে ১-১ সমতা আনা জয়টাই ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের প্রথম ওয়ানডে জয়। শেষমেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর থেকেই ঘরের মাঠে ইংরেজ সিংহকে বাগে পাওয়ার ইচ্ছার ‘গুনগুন’ শোনা গেছে বাংলাদেশ দলে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে একে একে জায়ান্টদের হারানোর আত্মবিশ্বাসে ভর করে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নও আর অলীক মনে হয়নি। কিন্তু শেষমেশ ফল ২-১, সফরকারীদের পক্ষেই।

 

এবার টেস্টের পালা। স্বভাবতই ওয়ানডের সেই হুঙ্কার নেই, বড়জোর এ ফরম্যাটে তুলনায় মহাপ্রতাপশালী ইংল্যান্ডকে ‘অ্যাম্বুশ’ করার বিলাসিতাই মানায় বাংলাদেশকে। টেস্টের মেজাজে প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে মুশফিকুর রহিমের দল। দুই দলের মধ্যকার সবশেষ টেস্ট সিরিজের প্রেক্ষাপটে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তামিম ইকবালকে নিয়ে যতটা চিন্তিত ইংলিশ বোলাররা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বাংলাদেশি বোলাররা দুজনের কথা ভেবে—অ্যালিস্টার কুক ও জো রুট। প্রথম জনের বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট গড় ৬৬.৬৮, পরের জনের ‘বাংলাদেশ অভিষেক’ হবে চট্টগ্রামে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানের রেসে থাকা রুটকে সমীহ করে বিশ্বের সেরা বোলিং আক্রমণও। সেখানে কোনো রকমে একটা বোলিং আক্রমণ দাঁড় করাতেই হিমশিম খাচ্ছে বলে খবর।

ওয়ানডে সিরিজে সফলতম মাশরাফি বিন মর্তুজা টেস্ট খেলেন না বহুদিন। চোট নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান বাইরে। মোহাম্মদ শহিদের ফিটনেস সন্দেহাতীত নয়। রুবেল হোসেনের কার্যকারিতায় পূর্ণ আস্থা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের। আল-আমিনকে কি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়া যায়? নিঃশঙ্কচিত্তে উত্তর দিচ্ছেন না কেউ। অগত্যা দেশের ‘দ্রুততম’ তাসকিন আহমেদের ওপর মনোযোগ বেড়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। যদিও টেস্টের স্বাদ নেওয়া হয়নি তাঁর। এমনকি চোটের কারণে শেষ প্রথমশ্রেণির ম্যাচটাও তাসকিন খেলেছেন ২০১৩ সালে। টেস্টের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেসে তাই তাঁর ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতি এমন যে জাতীয় দলের নেটে নিয়মিত পেসার শুভাশীষ রায়ের টেস্ট অভিষেক হয়ে যেতে পারে চট্টগ্রামে। এমন অবস্থায় তাই ওয়ানডের মতো টেস্টেও পেস আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার চিন্তাটা একরকম বাদই দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।

অগত্যা স্পিনেই ভরসা। সেখানেও ভাঁড়ার প্রায় শূন্য! একজন সাকিব আল হাসান ছাড়া যে সে অর্থে উইকেট নেওয়ার জন্য আর কাউকে হাতের কাছে পাবেন না মুশফিক। আবার স্পিন ছাড়া এক ইনিংসে এক শ কিংবা তারও বেশি বোলিং করানোর ক্ষেত্রে কোনো বিকল্প নেই টেস্ট অধিনায়কের। সাকিবের সঙ্গে তাইজুল ইসলামকে মূল স্পিন জুটি বানিয়ে তৃতীয় স্পিনার খেলানোর চিন্তা ক্রমাগতই জনপ্রিয় হচ্ছে দলের থিংক ট্যাংকে। সাকিব এবং তাইজুল—দুজনেই বাঁহাতি। ওদিকে ইংল্যান্ড দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানও রয়েছেন কয়েকজন। তাই তৃতীয় স্পিনার ‘পদে’ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন একজন অফ স্পিনার। তাতে দৃশ্যপটে আবির্ভাব সবশেষ যুব বিশ্বকাপের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত অলরাউন্ডার, তবে অফ স্পিন সামর্থ্যই টেস্ট অভিষেকের চৌকাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তাঁকে।

সে তুলনায় ব্যাটিংটা সমৃদ্ধ। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসানের অভিষেকে ব্যাটিং লাইন আপের শক্তি বাড়বে নিঃসন্দেহে। তবে টেস্ট তো আর ওয়ানডে নয় যে শেষদিকে ১৫-২০ রান করে দেওয়া ব্যাটসম্যান সমাদর পাবেন। আট-নয় নম্বরের ওপর নির্ভরতা মানেই ধরে নেওয়া হয় দলটার ব্যাটিং ভাবনাতেই গড়বড় রয়েছে। আদিল রশিদের সঙ্গে ইংল্যান্ড টেস্ট স্কোয়াডে আরো দুই লেগ স্পিনারের যোগদানে বাড়তি সতর্কতা জারি হয়েছে বাংলাদেশ দলে।

এই সতর্কতাও ব্যাটসম্যানদের পদ্মপাতায় জলের মতো ‘অস্থিরচিত্তে’র অব্যর্থ প্রতিষেধক নয়। দীর্ঘ অনভ্যাসে টেস্ট ব্যাটিংয়ের ধৈর্য এখনো স্থায়ী হয়নি বাংলাদেশ দলে। আবার বোলিংয়ে ২০ উইকেট নেওয়া দূরের কথা, টানা বোলিংয়ে সফরকারীদের লম্বা ইনিংসে ফিল্ডিংয়ের ঝক্কি নিতে চাচ্ছে না পুরো দল। আর সে কারণেই ইংল্যান্ডকে ‘অ্যাম্বুশ’ করার অনন্যোপায় চেষ্টা মুশফিকুর রহিমদের। ‘ক্ষণস্থায়ী’ উইকেটে ইংল্যান্ডকে ফেলে দেওয়াকেই সর্বোত্তম পন্থা মনে করছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। টস জিতে ব্যাটিংয়ে কোনো রকমে তিন শ পেরিয়ে স্পিনের ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দাও ইংল্যান্ডকে—‘অ্যাম্বুশ’ ভাবনা এটাই!


মন্তব্য