kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১৬ বছর পর নজরানা

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১৬ বছর পর নজরানা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেই ২০০০ সালে প্রথম শিরোপা। মাঝখানে ১৫ বছর কেটে গেছে।

ফিদে মাস্টার নজরানা খান জাতীয় মহিলা দাবার শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন—এ আশা অনেকেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নজরানা নিজে আশা ছাড়েননি। তাঁর সেই লেগে থাকারই ফল মিলল অবশেষে, এবারের ৩৬তম জাতীয় দাবায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শিরোপা জিতলেন মানিকগঞ্জের এ দাবাড়ু।

সাবেক চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার বাছাই পেরিয়ে আসতে হয়েছিল নজরানাকে। মূল আসরে কিছু করে দেখাবেন, বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্ট শুরুর পর টানা তৃতীয় জয়ে মুখোমুখি হন ১৮ বারের চ্যাম্পিয়ন আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদের। সেই ম্যাচ জিতেই প্রথম শিরোপা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। পরের রাউন্ডেই আবার হারিয়ে দেন গত আসরের রানার আপ ফিদে মাস্টার শারমিন সুলতানাকে। ‘এই জয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। রানী আপাকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেছিলাম। শিরিনের চ্যালেঞ্জটাও সহজ ছিল না। টানা দুটি বড় জয়ে আমি আসলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাই’—কাল ট্রফি হাতে নিয়ে বলছিলেন নজরানা। তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসেই কিনা সপ্তম রাউন্ডে হোঁচট খেতে হয় প্রতিভা তালুকদারের বিপক্ষে, ‘ওর সঙ্গে ম্যাচটা হয়তো আমি জিততে পারতাম। কিন্তু তাতে ঝুঁকি থেকে যেত। সেটা আমি নিইনি, ড্র মেনে নিয়েছি। ’ এই রাউন্ডে রানী হামিদও ড্র করায় কোনো বিপদই হয়নি তাঁর। ১১ রাউন্ডে মোট তিনটি ড্র নজরানার, প্রতিভার পর ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানার সঙ্গেও ড্র করেছিলেন। কিন্তু রানী, শারমিন নিজেরাও পয়েন্ট হারিয়ে সুযোগটা নিতে পারেননি। শেষ রাউন্ডে শারমিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই চলত নজরানার। আহেলী সরকারের বিপক্ষে সেই পয়েন্ট নিয়েই তাঁর শিরোপা পুনরুদ্ধার। এত লম্বা সময়ের বিরতির ব্যাপারে বলতে গিয়ে মেয়েদের দাবার বর্তমান বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন তিনি, ‘খেলার পাশাপাশি চাকরির চেষ্টাও করেছি। শিক্ষকতা করেছি চারটি স্কুলে। খেলা, চাকরি কোনোটাই ভালোভাবে হয়নি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু আমার কিছু করারও ছিল না। আমাদের দেশে শুধু দাবাতেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তো নেই।


মন্তব্য