kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তামিমের আরেকটি ‘প্রথম’

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তামিমের আরেকটি ‘প্রথম’

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : ইনিংসের ২২তম ওভারে। পঞ্চম বল।

ক্রিস ওকসের বাউন্সারে ছোট্ট গোলকটি সাদা বিন্দুর মতো ধেয়ে আসে তাঁর চোখ বরাবর। চোখ না সরিয়ে ব্যাট চালিয়ে দেন সপাটে। বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায় গড়িয়ে গড়িয়ে। হেঁটে হেঁটে রাজসিক দাপটে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছে যান তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে। বিশ্বের ৭৮তম হিসেবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এই তৃতীয় ওয়ানডে তামিম শুরু করেন ৪৯৬২ রানে। লাল-সবুজের ক্রিকেটসৈনিক হিসেবে নতুন ক্লাবের ফিতা কাটার জন্য প্রয়োজন ৩৮ রান। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৬৩ বলে ৩৭ রানে পৌঁছে যান তিনি। এরপর ওকসের বলে ওই চোখ ধাঁধানো শট। গ্যালারিতে ওঠে বাউন্ডারির উল্লাস। কিন্তু বাংলাদেশ দল তো জানে, তাতে কী দারুণ এক অর্জন হয়ে যায় তামিমের! ক্রিজের সতীর্থ সাব্বির রহমান এগিয়ে গিয়ে করমর্দনে অভিনন্দন জানান বাঁহাতি ওপেনারকে। এরপর ডান হাতে ধরা ব্যাট দিয়ে বাঁ হাতের গ্লাভসে হাততালির ভঙ্গিতে সবাইকে যেন উৎসাহিত করেন উৎসবে যোগ দিতে। তামিমের উদ্‌যাপনে অবশ্য বাড়তি মাত্রা নেই। ড্রেসিংরুমের দিকে বাঁ হাত অল্প একটু তোলেন একবার। বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে ছোট্ট করে যেন গ্রহণ করে অভিনন্দন। ব্যস, এইটুকুই!

অথচ অর্জনটা মোটেই ফেলনা নয়। ৪৫ বছরের এবং ৩৭৯৪ ম্যাচের ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র ৭৮ জনের আছে এই কীর্তি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তামিমের অর্জনটি ১৫৯তম ম্যাচের ১৫৮তম ইনিংসে। আর কী আশ্চর্য, দেশ হিসেবে পাঁচ হাজার রানের ব্যাটসম্যান প্রাপ্তিতে আগের সর্বশেষ নাম তো পরশুর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডই! ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি মেলবোর্নে ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডের দুই দলের একটি তারা। কিন্তু ২০১১ সালের আগে তাদের কোনো ব্যাটসম্যান এই ফরম্যাটে করতে পারেনি পাঁচ হাজার রান। সে বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে পল কলিংউড অবশেষে ঘোচান ইংল্যান্ডের আক্ষেপ।

সবার আগে ওয়ানডের পাঁচ হাজার রানের ক্লাবের উদ্বোধন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারের সৌজন্যে। কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসের কল্যাণে। ১৯৮৭ সালের ৩০ জানুয়ারি মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই মাইলফলক লুটোয় তাঁর ব্যাটে। ১২৬ ম্যাচের ১১৪তম ইনিংসে। এরপর আরো ৯ জন ক্যারিবিয়ান যোগ দেন কিং রিচার্ডসের সঙ্গে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর ওয়ানডের পাঁচ হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ পাকিস্তানের। ১৯৮৯ সালের ৮ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেনে জাভেদ মিয়াঁদাদ স্পর্শ করেন সে মাইলফলক। নিজের ১৪৪তম ম্যাচের ১৩৯তম ইনিংসে তাঁর ওই অর্জন। পরবর্তী সময়ে আরো বারো পাকিস্তানি অনুসরণ করেন ‘বড়ে মিয়াঁ’কে ।

এই ক্লাবে সবচেয়ে বেশি সদস্য অস্ট্রেলিয়ার—১৪ জন। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিসবেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে যার শুরু অ্যালান বোর্ডারের ব্যাটে।

ভারতের ১২ জন ব্যাটসম্যানের ওয়ানডে রান পাঁচ হাজারের বেশি। সবার আগে তা সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের। ১৯৯৪ সালের ৩ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দিল্লির ম্যাচে দেশের হয়ে এই ক্লাবের ফিতা কাটেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার ৯ জনের ব্যাটে আঁকা হয়ে গেছে অর্জনের এই আলপনা। একই ম্যাচে যে লঙ্কানদের পাঁচ হাজারি ক্লাবে ঢুকে যান অরবিন্দ ডি সিলভা ও অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ১৯৯৬ সালের মার্চে ক্যান্ডিতে কেনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের খেলা সেটি। যে ম্যাচ রানাতুঙ্গা শুরু করেন ৪৯৬৭ রানে; ডি সিলভা ৪৯৪১ রানে। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারে আগে নামা ডি সিলভা আগে স্পর্শ করেন মাইলফলক; রানাতুঙ্গা পরে নেমে নাম লেখান অভিজাত এ ক্লাবে।

দেশের হয়ে ওয়ানডের পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক প্রথম স্পর্শে ভারতের সঙ্গে অন্য রকম মিল রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আজহার উদ্দিনের মতো হ্যান্সি ক্রনিয়েও যে পরবর্তী সময়ে ম্যাচ পাতানোর দায়ে হন নিষিদ্ধ! প্রথম প্রোটিয়া হিসেবে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে পাঁচ হাজার রান করেন ক্রনিয়ে।

এই অর্জনে জিম্বাবুয়ে কিন্তু এগিয়ে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের চেয়ে। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যাডিলেডে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে ঢোকেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের হয়ে ফিতা কাটেন নাথান অ্যাস্টল। আর ২০১১ সালে কলিংউডের সৌজন্যে অবশেষে পাঁচ হাজারি ক্লাবে সদস্যপদ পায় ইংল্যান্ড।

 


মন্তব্য