kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফুটবলের এপিটাফ লিখে দিল ভুটান

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফুটবলের এপিটাফ লিখে দিল ভুটান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাঁচা-মরার ম্যাচে মারাই পড়ল দেশের ফুটবল। ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে আগামী তিন বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই নির্বাসিত হল লাল-সবুজ।

একসময় যাদের গোনাতেই ধরত না বাংলাদেশ, সেই ভুটানই এখন এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত বাছাই খেলবে। বাংলাদেশ প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে তাজিকিস্তানের কাছে হেরে আরেকটা সুযোগ পায় ভুটানের বিপক্ষে। তাদের কাছেও ইতিহাসের প্রথম হারের স্বাদ নিয়ে এখন এশিয়ার ‘বাতিল’দের দলে। যাদের আগামী তিন বছর (দাক্ষিণ্যের সলিডারিটি কাপ ছাড়া) আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলার কোনো সুযোগই রাখেনি এএফসি।

 

কাল চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে পতনের রাস্তা তৈরি হয়ে যায় ম্যাচের মিনিট চারেকের মধ্যে। কর্নার থেকে বীরেন বাসনেতের বাঁকানো শট দূরের পোস্টে লাফিয়ে শেরিং দর্জি যখন জালে পাঠাচ্ছেন, বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা তখন স্রেফ তাকিয়ে আছেন। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামও যেন নিজের পজিশন নিয়ে বিভ্রান্ত। ২২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল আশরাফুলের ভুলেই। বক্সের ওপরে এসে পড়া একটা লং বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি শূন্যে ঘুষি ছুড়েছেন, সেই বল স্ট্রাইকার চেনচো জিেসনের মাথায় পড়ে আশরাফুলের মাথার ওপর দিয়ে জালে। ম্যাচের এই ২৭ মিনিটে স্বাগতিকদের ২-০ করে ফেলাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। অন্তত মাঠের খেলা তা সমর্থন করে। ভুটান কোচ আগেই বলেছিলেন এই ম্যাচে পজেশনাল ফুটবল খেলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন তাঁরা। সেই প্রতিশ্রুতির হুবহু বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছিলেন তাঁর ফুটবলাররা। বিল্ডআপ করে মুহূর্তে মুহুর্তে তারা ওপরে উঠছিল। চেনচো-দর্জিদের সামলাতে রীতিমতো দিশাহারা সেইন্টফিটের ডিফেন্স। প্রতিপক্ষের অর্ধে স্ট্রাইকার সাখাওয়াত রনি ও হেমন্ত ভিনসেন্ট তখন অলস হেঁটে বেড়িয়েছেন তাঁদের কাছে বলের জোগান নেই। ২২ মিনিটে উইং ধরে একটা আক্রমণে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন, কিন্তু বল যখন তিনি জালে পাঠান ততক্ষণে লাইন্সম্যানের পতাকা ওপরে উঠে গেছে। ২ গোল হজমের পরপরই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এনামুল হক শরিফকে উঠিয়ে উইঙ্গার জুয়েল রানাকে নামান সেইন্টফিট। তাতে খেলার গতি পাল্টায়নি। সেটি বদল হয় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।

এই অর্ধেই মিডফিল্ডে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা মামুনুল ইসলামকে দেখা যায় কিছুটা স্বরূপে। জেনুইন প্লে-মেকারের ভূমিকায় দলটাকে খেলাতে শুরু করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে ডান প্রান্তে ফ্রিকিক পেলে তাঁর বাঁ পায়ের বাঁকানো শটেই ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। ম্যাচ তখন ২-১। বাংলাদেশ সমতায় ফিরে খেলা শেষ করতে পারলেও বাছাইয়ের চূড়ান্ত রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ। ৭৪ মিনিটে মামুনুল-হেমন্ত-এমিলি কম্বিনেশনে গোল হয়েই যেতে পারত। এমিলির হেড দারুণভাবে ফেরান ভুটান গোলরক্ষক হ্যারি গুরং। ঢাকায় গোলশূন্য ড্রয়েও দারুণ খেলেছিলেন হ্যারি। কালও বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার মরিয়া লড়াইয়ে শেষ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এমিলি নেমেছিলেন রনির জায়গায়, ৭৪ মিনিটে তরুণ মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহকে উঠিয়ে এনামুলকে সুযোগ করে দেন সেইন্টফিট। শেখ জামালে মিডফিল্ডারের ভূমিকাতেই চোখে পড়ার মতো ফুটবল খেলছিলেন এনামুল; কিন্তু কাল তিনি নেমে বল পায়ে ছোঁয়ানোর আগেই ৭৬ মিনিটে দারুণ এক গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করে ফেলেন চেনচো। ভুটানে খেলেই দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে তিনি নজর কেড়েছেন, কাল সেই প্রতিভার আরেক ঝলক দেখিয়েছেন এ স্ট্রাইকার। তাতে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার লড়াইটা আরো কঠিন হয়ে যায়। মামুনুলরা শেষ পর্যন্ত আর পারেনইনি ভুটানিদের জালে বল পাঠাতে। ভুটান উল্টো ৪-১ করার সুযোগ হারিয়েছে পেনাল্টি মিস করে।

বাংলাদেশ দল : আশরাফুল, রায়হান, তপু, মিশু, মামুন, আব্দুল্লাহ (এনামুল), মামুনুল, রুবেল, শরিফ (জুয়েল), হেমন্ত, রনি (এমিলি)।


মন্তব্য