kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পিছিয়ে নন পারফরমার মাশরাফিও

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পিছিয়ে নন পারফরমার মাশরাফিও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা যতটা হয়, পারফরম্যান্স নিয়ে ততটা কিছুতেই নয়। তাঁর নেতৃত্বগুণ বেশ প্রশংসিত হলেও বল হাতে দলের জন্য অবদান রাখার ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা সেভাবে হয়ই না বলা চলে।

বারবারই বিগড়ে বসা দুই হাঁটু নিয়েও ঠিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার গল্প যেমন বাজার পায়, বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অনেক মুহূর্ত তেমন গুরুত্ব অবশ্যই পায় না। পেলে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাতেই শুধু সবাই বুঁদ হয়ে থাকতেন না। পারফরমার মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনায়ও সরব হতে দেখা যেত ক্রিকেটভক্তদের। কিন্তু তেমন কিছু কি আদৌ শোনা যায়?

 

যায় না বলেই হয়তো মাঝেমধ্যেই মনে হয় যে সতীর্থদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতেই বুঝি দলে আছেন মাশরাফি! দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটি চালিয়ে নিতেই বোধ হয় রাখা হয়েছে তাঁকে। এ দায়িত্বে তাঁর এমনই উত্তরোত্তর সাফল্য যে এর আড়ালে পারফরমার মাশরাফি সিংহভাগ সময়ই ঢাকা পড়ে থাকেন। এ জন্য একই সাফল্যে অন্যদের নিয়ে গল্পগাথা লেখা হয় যেখানে, সেখানে নীরবেই অনেক কীর্তির মালা তিনি গলায় পরে নিলেও প্রচারমাধ্যমে সেভাবে আসেই না। এই যেমন আব্দুর রাজ্জাককে (২০৭) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটধারী হওয়ার ব্যাপারটি কেউ সেভাবে খেয়ালই করেননি। অথচ আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ২ উইকেট নিয়ে রাজ্জাককে টপকে যাওয়া সাকিব আল হাসানকে সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত হতে হয়েছে। কিন্তু আফগানদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের রাতে সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক ব্যস্ত ছিলেন শুধু দলবিষয়ক প্রশ্নের জবাব দেওয়াতেই। যদিও ওই ম্যাচেই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে বোল্ড করে ওয়ানডে শিকারে রাজ্জাককে পেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনিও।

অবশ্য মাশরাফির নিজেরও এ বিষয়টি মাথায় এসেছে বেশ বিলম্বেই। গত পরশু ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে ৪৪ রানের ঝড় তোলার পর ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়ে সিরিজে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরানো পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হওয়া অধিনায়ক হয়তো সেটি আরো পরেই টের পেতেন। যদি না তামিম ইকবাল প্রশ্ন করতেন, ‘‘ম্যাচের পর তামিম জানতে চাইল, ‘আপনার উইকেট কয়টা হলো?’ আমি বললাম ২১১ (আসলে ২১৪)। তখনই মাথায় খেলল বিষয়টি। আরে, আমি তো রাজ্জাককে পেরিয়ে গেছি। ’’ তাঁর আগেই রাজ্জাককে পেরোনো সাকিব সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে এ দুঃখও করেছেন যে এখন শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা ভালো করছেন বলে তাঁর খুব রান করার সুযোগ মিলছে না। না হলে তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের মালিকানার লড়াইয়েও তিনি দিব্যি তামিমের সঙ্গে শামিল থাকতে পারতেন। মাশরাফি অবশ্য সেই ২০০৯ সাল থেকেই টেস্ট খেলছেন না। তবে সাকিবের সঙ্গে নীরবেই এক লড়াই চলছে মাশরাফির। সেটি ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার। দুজনের আন্তর্জাতিক অভিষেকের ব্যবধান ছয় বছরের। তবে ম্যাচ সংখ্যায় ব্যবধান খুব সামান্য। মাশরাফি যেখানে ওয়ানডে খেলেছেন ১৬৫টি, সেখানে সাকিবও ১৬২টি। আপাতত উইকেটের ব্যবধান আরো কম। সাকিবের (২১৫) চেয়ে মাত্র ১ উইকেট পেছনে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক। আফগানিস্তান সিরিজ থেকে এ পর্যন্ত হওয়া পাঁচ ম্যাচের পরিসংখ্যান অবশ্য দলের সেরা অলরাউন্ডারের চেয়ে অধিনায়ককে এগিয়েই রাখছে। সাকিব ৯ উইকেট নিলেও মাশরাফি নিয়েছেন ১০টি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর পরিসংখ্যান ঘেঁটে সবাই দেখলেন যে এ সাফল্য তিনি দেখালেন আট বছর পর। তাতেও মাঝের সময়টায় তাঁকে ম্রিয়মাণ বলে মনে করানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ গত আট বছরে সাকিবের (১৬৪) পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৮ উইকেট মাশরাফিরই (রাজ্জাকের সঙ্গে যৌথভাবে অবশ্য)। সাকিবের (১৫) পর ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচ সেরা হওয়ার কীর্তিও তাঁরই। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে আবার নেতৃত্বে ফেরার পর থেকে সেরা বোলারের লড়াইটিও তাঁর সাকিবের (৪৪) সঙ্গেই। এই সময়ে মাশরাফি নিয়েছেন ৪০ উইকেট। বোলিংয়ে নীরবে ছন্দটা ধরে রাখলেও মানুষ সরব অন্য কিছু নিয়ে। পরশু রাতের পর মাশরাফি নিজেও তা আরো ভালো বুঝতে পারছেন। চট্টগ্রাম থেকে গত রাতে হাসতে হাসতেই বলছিলেন, ‘দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আমার ব্যাটিং নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, গত দুই বছরে মনে হয় না বোলিং নিয়ে অতটা হয়েছে!’


মন্তব্য