kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকার উত্তাপও গেছে চট্টগ্রামে!

অন্যান্য   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকার উত্তাপও গেছে চট্টগ্রামে!

ছবি : রবি শঙ্কর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘এন আই ফর অ্যান আই’—জেমস বন্ড সিরিজের একটি ছবির নাম। বাংলাদেশ দলের কেউ প্রতিশোধপরায়ণ এ ছবিটি দেখেছেন কি না, বলা মুশকিল।

তবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের ঘটনাক্রমে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের সেন্টিমেন্ট অভিন্ন—ইট ছুড়লে তোমাকে পাটকেল খেতেই হবে। অতএব মহাপরাক্রমশালী ইংল্যান্ড, সাবধান!

ক্রিকেট মাঠে দুই দলের মাঝে ক্ষণিকের উত্তেজনা এবারই প্রথম নয়, আইন করে শাস্তির বিধানও তাই রয়েছে। মাঠের উত্তেজনা মাঠেই রেখে সাজঘরে ফেরার রেওয়াজেও অভ্যস্ত ক্রিকেটারমহল। কিন্তু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডের দুটি ঘটনা উত্তেজনার চোরাস্রোত তৈরি করেছে, তাতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় কালকের শেষ ওয়ানডেটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছে নিশ্চিতভাবেই। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার তাই সিরিজে সমতা ফেরার পর বলে দিয়েছেন, ‘সে সম্ভাবনা তো রয়েছেই। ’ মানে, রিভিউয়ে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উল্লাস আর তাঁর নিজের প্রতিক্রিয়ার জের ধরে ম্যাচ শেষে হাত মেলানোর পালায় তামিম ইকবাল ও বেন স্টোকসের নতুন করে ‘লেগে যাওয়া’ নিয়ে বেশ উত্তপ্তই দুই দলের পরিবেশ। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়েছেন, ‘মাঠের ঘটনা মাঠেই শেষ। ’

মাঠে যে শেষ হয়নি, তা ম্যাচের পর দুই দলের ডাইনিংরুমের একটি ঘটনাতেই পরিষ্কার। ডিনার সেরে বেরোনোর পথে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য করে নাকি গালাগাল করেন স্টোকস, অবধারিতভাবে সে টেবিলে ছিলেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের টেবিল থেকে পাল্টা দিতেই ফিরে আসেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে ওইটুকুই, অন্যদের মধ্যস্থতায় ঘটনা এর বেশি গড়ায়নি।

ঘটনাচক্রে তামিমই এখন ইংল্যান্ডের ‘চক্ষুশূল’! ম্যাচের পর একটি ঘটনার জের ধরে বেন স্টোকস রবিবার রাতেই টুইট করেন, যেখানে জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে হাত না মেলানোর সময় বেয়ারস্টোর কাঁধে ধাক্কা দেওয়ার ‘অভিযোগে’ তামিমের বিষোদ্গার করেছেন তিনি। তবে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ কিন্তু ভিন্ন ধারণাই দেয়। বেয়ারস্টোর দিকে হাত ঠিকই বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু কী একটা কারণে হঠাৎ ছিটকে গিয়ে তামিমকে বলতে শোনা যায়, ‘হোয়াট আর ইউ ডুয়িং?’ তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব স্টোকসের, যিনি এক হাতে ঠেলে সরাচ্ছিলেন তামিমকে। কাছে থাকা সাকিব আল হাসানকে দেখা গেছে ঘটনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে। তবে ঘটনা ওখানেই থামেনি। তামিম আর স্টোকসকে ঘিরে দুই দলের বড় একটা জটলাকেই দেখা গেছে। এরপর ডাইনিংরুমের সেই ঘটনা।

দ্বিতীয় অংশের বিবরণ বেন স্টোকসের টুইটে জানা গেলেও এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি তামিম ইকবাল, ‘এ নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। ঘটনাস্থলে আমি নিজে ছিলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও দেখেছি। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমি অভব্য কোনো আচরণ করিনি। ’ এরপর অধিনায়কের সুর তাঁর কণ্ঠেও, ‘মাঠের ঘটনা মাঠেই থাকুক না। ’

সেটা থাকবেও। সিরিজের শুরুতে জ্বলে ওঠা ‘আগুন’ যে তৃতীয় ওয়ানডেতেও আঁচ দেবে, তা নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই। শুধু রবিবারের ঘটনাই নয়, প্রথম ওয়ানডের কিছু ঘটনাও চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে উত্সাহিত করছে বাংলাদেশ দলকে। প্রথম ওয়ানডেতে নাকি পুরোটা সময় ইমরুল কায়েসকে ‘শুনিয়ে’ গেছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। এটা অবশ্য নিয়মিত ব্যাপার। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জস বাটলারের প্রতিক্রিয়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আড্ডায় প্রতিবাদের ঝড় তুলছে ইমরুলের অভিজ্ঞতাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ দল-সংশ্লিষ্ট একজনের মন্তব্য, ‘বিষয়টি নিয়ে বাইরে হইচই হোক, এটা আমরা মোটেও চাই না। তাই বলে মাঠে ইংলিশরা কিছু বললে আমরা মুখ বুজে থাকব না। ভয়ে কুঁকড়ে থাকার দিন শেষ! সমানে লড়ব। ’

কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে এটাকে কেউ কেউ ইংল্যান্ডের ‘গুডউইল’ সিরিজ বানিয়ে দিচ্ছেন। ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে যেমন লেখা হয়েছে, ‘নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বলেও সফরে আসায় ইংল্যান্ডের প্রতি দারুণ কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ। তবু মাঠে এমন একটা ঘটনা ঘটল!’ ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড আরেক কাঠি সরেস, ‘নিরাপত্তার কারণে হোটেল আর মাঠ ছাড়া অন্য কোথাও বেরোতে পারছে না ইংলিশ ক্রিকেটাররা। সে কারণেই খেলোয়াড়দের মেজাজটা বিগড়ে গিয়ে থাকতে পারে। ’ যদিও কোনো পত্রিকাই ব্যাখ্যা দেয়নি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোন শর্তে লেখা ছিল যে মাঠেও ইংলিশ ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ যত্নআত্তি করবেন মাশরাফিরা? আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেয়ে কোথায় নির্ভার হবেন, তা না উল্টো নাকি মেজাজ গরম বেন স্টোকসদের!

এ ব্যাপারে অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য নেই বাংলাদেশ দলের কারোরই। গতকাল বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড দলকে বহনকারী ফ্লাইটও নির্ঝঞ্ঝাটে অবতরণ করেছে চট্টগ্রামে। অনেক চেষ্টার পর জানা গেছে, সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কোনো তরফে। চোখাচোখিও এড়িয়ে গেছে দুই দল।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের জন্য এ যেন আদর্শ কন্ডিশন!


মন্তব্য