kalerkantho


গরমে এগিয়ে ইংল্যান্ডই

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : গরমে বেশি সিদ্ধ হবে সিংহ আর বাঘ নড়বড়ে দাঁতেও আয়েশে কচরমচর খাবে; বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজপূর্ব দৃশ্যকল্প এটা। যদিও দেড়টা ম্যাচ না গড়াতেই নাটকে মহা টুইস্ট, সিংহ না বাঘই ঘর্মাক্ত! ভ্যাপসা গরমে বেশি হাঁপাচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশই।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এই গরমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কি দুর্দান্ত ফিল্ডিং করল ইংল্যান্ড।

গরমে পানিশূন্যতার কারণে পেশিতে টান পড়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। সেটা আরো স্বাভাবিক শীতের দেশ থেকে গরম কড়াইয়ে এসে পড়া ইংলিশ ক্রিকেটারদের বেলায়। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে ঘটল উল্টোটা। ইমরুল কায়েস তাঁর সেঞ্চুরি ইনিংসের প্রায় অর্ধেকটা খেললেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সাকিব আল হাসানকেও স্যালাইন নিতে হলো পানিশূন্যতায় হাতে ক্র্যাম্প হওয়ায়। অথচ একই আকাশ-বাতাসে পুরোটা সময় লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ৪৮ ঘণ্টা বিরতিতে গতকাল ভরদুপুরেও তুখোর ফিল্ডিং সফরকারীদের।

তাহলে কি জন্মগতভাবে বেশি ফিট বলেই বাংলাদেশের চেনা আবহাওয়াতে বাংলাদেশকে টক্কর দিচ্ছে ইংল্যান্ড? প্রথম ম্যাচের পর তামিম ইকবাল একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, ‘গরম তো সবার জন্যই।

তবে এই গরমে প্রথমে ফিল্ডিং করা দলের পরের ইনিংসে একটু সমস্যা হবেই। আমি নিশ্চিত ইংল্যান্ড আগে ফিল্ডিং করলে ওদেরও সমস্যা হতো। ’ কিন্তু কার্যত সেরকম কিছু কাল হয়নি। ক্রিকেট ম্যাচে ক্যাচ পড়তেই পারে, তাই ফিটনেসের চূড়ান্ত মানদণ্ড গ্রাউন্ড ফিল্ডিং। তো, বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ডের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং মানের তুলনা করে লাভ নেই। তবু অনায়াসে বলে দেওয়া যায়, এই মুহূর্তে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে ইংল্যান্ড। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যে আরো ২০-২৫ রান যোগ হয়নি, তা ইংলিশ ফিল্ডারদের কৃতিত্বে।

তামিমের ব্যাখ্যায় অবশ্য একটা ফুটনোট ছিল, ‘প্রতিপক্ষের ইনিংস যত বড় হয়, ততই ক্লান্ত হয় ফিল্ডিং দল। ’ প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩০৯ রান করেছিল, যে কারণে বল কুড়ানোর জন্য একটু বেশি ছুটতেও হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে দুই দলের ওপর প্রকৃতির প্রভাবের এমন সরলীকৃত ব্যাখ্যা ঠিক মেনেও নেওয়া যাচ্ছে না। ইনিংস তো ঘুরেফিরে সেই ৫০ ওভারেরই। তাহলে?

উত্তরটা মোটেও জটিল নয়, ফিটনেসে নিজেদের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসের মতোই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। উপমহাদেশ সফরের আগে আবহাওয়া নিয়ে বিশেষ চর্চা হয় ইংল্যান্ডে এবং তাদের আতিথ্য দেবে যে দেশ, সেখানেও। যুগে যুগে উপমহাদেশের আবহাওয়া এবং কন্ডিশনে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ইংলিশদের। সে অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েই উপমহাদেশ সফরে আসে ইংল্যান্ড। গরম থেকে বাঁচতে ‘আইস কলার’, ‘আইস জ্যাকেট’ এবং পানিশূন্যতা রোধে নানা রকম ড্রিংকসও থাকে। সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তো আছেনই।

হতে পারে বদলে যাওয়া ইংলিশরা এখন বৈরী পরিবেশে মানিয়েও নিতে জানে দ্রুততম সময়ে। বেন স্টোকসও তো ঢাকার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘ওখানকার কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে দু-চারটা দিন লাগবে। ’ সে তারা মানিয়েও নিয়েছে, মাঠে দুই দলের মুভমেন্টে তারই প্রতিফলন।


মন্তব্য