kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কথার যুদ্ধে সাদা পতাকা

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজের গায়ে আগুন লেগে যাওয়ার মতোই ঘটনা। তামিম ইকবাল আর বেন স্টোকসের মধ্যে এক দফা হয়ে গেছে আগেই।

তবে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার ও মাহমুদ উল্লাহর ‘ফেস অফ’ সে তুলনায় বহুগুণ উচ্চমার্গীয়! ক্রিকেট পরিমণ্ডলে শান্তশিষ্ট হিসেবে পরিচিত বাটলার তেড়ে যান, জবাবে মাহমুদ উল্লাহও এগোতে থাকেন। মাঝখানে দুই আম্পায়ার প্রতিরক্ষার দেয়াল না তুললে যুদ্ধংদেহী দুজনের আরো কাছাকাছি হয়ে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপারই ছিল মাত্র। শেষমেশ সে রকম কিছু হয়নি। তবে দু-পক্ষের গজরানি পুরোপুরি থামেনি।

কিন্তু ম্যাচের পর ঘটনার ‘বাদীপক্ষ’ জস বাটলার যেন মধ্যস্থতাকারী, ‘আসলে বাংলাদেশের মানুষ খুব আবেগপ্রবণ। হয়তো এ কারণেই উইকেট পাওয়ার পর এর বহিঃপ্রকাশটা একটু অন্য রকম ছিল। আমার সেটা ভালো লাগেনি। তবে আমি মনে করি, আমার উচিত ছিল না দাঁড়িয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দেওয়া। ’ এতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। মাঠে প্রতিক্রিয়া দেখান না যিনি, তিনি এভাবে তেড়ে যাবেন কেন? এবার ব্যাটের ফেস খুললেন বাটলার, ‘আসলে ওদের প্রতিক্রিয়া ভব্যতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে আবারও বলছি, এ দেশের দর্শক ও খেলোয়াড়রা খুব আবেগপ্রবণ। ওটা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল। ’

এক ক্যাপ্টেন গেলেন তো সংবাদ সম্মেলনে আরেকজনের আবির্ভাব। মাশরাফি বিন মর্তুজার আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে ম্যাচ প্রেজেন্টেশনের পরই ম্যাচ রেফারির দরবারে হাজিরা দেওয়ার জন্য। এর কারণও বাটলারের আউট হওয়া পরবর্তী ঘটনা। মাশরাফি অবশ্য জানিয়েছেন, ‘ওই ঘটনার সময় আমি দূরে ছিলাম। আসলে তখন সব মনোযোগ ছিল রিভিউর সিদ্ধান্ত কী হয় তা জানতে। তাই ওই ঘটনার দিকে খেয়াল ছিল না। ’ তামিমের সঙ্গে স্টোকসের ‘কথাবার্তা’ও একই কারণে শোনা হয়নি মাশরাফির।

অবশ্য ক্রিকেট মাঠের এ-জাতীয় ঘটনা মাঠেই শেষ হয়ে যায় বলে শোনা যায়। তাই ওই ঘটনার চেয়ে মাঠের ক্রিকেট নিয়েই বেশি আক্ষেপ জস বাটলারের, ‘শুরুতে উইকেট তুলে নিয়েছিলাম। একটা সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশকে ১৯০ রানের আশপাশে আটকে রাখা যাবে। কিন্তু মাশরাফি ওই রকম একটা ইনিংস খেলে দিল। সুযোগ দিয়েছিল, তবে খুব কার্যকর একটা ইনিংস। ’

এর পরও বোলিং নৈপুণ্যে খুশিই ছিলেন বাটলার, যত আক্ষেপ তাঁর ব্যাটিং নিয়ে, ‘ওরা কিছু রান বেশি করেছে। তবু প্রথম ৫০ ওভার ভালোই করেছি। ব্যাটিংয়ে হয়তো আমরা একটু বেশি তাড়াহুড়া করেছি। কখনো কখনো মানিয়ে নিতে হয়। তবে যে টার্গেট ছিল, সেটা এই উইকেটে ৪৫ ওভারে টপকে যাওয়া উচিত ছিল। ’ এর মানে এই হারেও আগ্রাসী ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে আসছে না। চট্টগ্রামে যাওয়ার আগে সে ঘোষণা দিয়েও গেলেন জস বাটলার, ‘গত এক-দেড় বছর হলো দল হিসেবে আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছি। সেভাবেই খেলে যাব। তবে এটা মনে রাখতে হবে, দলে কিছু তরুণ আছে। আমাদের সামনে অনেক ম্যাচ আছে। সে ম্যাচগুলোতেও আমরা এভাবেই খেলতে চাই। ইতিবাচক ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে আসার কোনো কারণ দেখছি না। ’


মন্তব্য