kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুটানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার সেই ম্যাচ আজ

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভুটানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার সেই ম্যাচ আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোচ টম সেইন্টফিট ভুটানে কাল সংবাদ সম্মেলন শুরুই করলেন দুঃসংবাদ দিয়ে। মিডফিল্ডার ইমন বাবুর মা আর নেই।

কাল সকালেই খবরটা শুনেছেন তিনি। ভুটান ম্যাচ ফেলে আজ দেশেও ফিরে আসছেন তিনি। আবাহনীর হয়ে খেলা গুরুত্বপূর্ণ এই মিডফিল্ডারকে হারানোটাও বাংলাদেশের বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে বড় ক্ষতি। দলের অন্যদেরও মন ভেঙে গেছে তাতে। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করার একটা ব্যাপার আছে। মিডফিল্ডে ইমনের ঠিক ওপরে খেলার কথা যাঁর সেই হেমন্ত ভিনসেন্টের কণ্ঠে প্রচ্ছন্ন প্রত্যয়, ‘ইমন, ইমনের মায়ের জন্যও আমাদের খেলতে হবে। ’ ভুটানের একমাত্র স্টেডিয়াম চাংলিমিথাঙে আজ সন্ধ্যায় মুখোমুখি হচ্ছে ভুটান-বাংলাদেশ। ‘থান্ডার ড্রাগন’-এর দেশে এই প্রথম নামছে লাল-সবুজ। এর আগে ক্লাব দল বিভিন্ন সময় সেখানে খেলে এলেও জাতীয় দল ভুটানের মাটিতে কখনোই মুখোমুখি হয়নি তাদের। বাংলাদেশ কখনো হারেওনি তাদের কাছে। এই প্রথম সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাই প্লে-অফের প্রথম লেগে ঘরের মাটিতে তাদের হারাতে পারেনি টম সেইন্টফিটের দল। তার আগের ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে হজম করতে হয়েছে ৫ গোল। সর্বশেষ তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যে দল গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি, একটা সময় তারা যে ভুটানের কাছেও অজেয় থাকবে না—এ তো বাস্তবতা। এই মুহূর্তে সেই বাস্তবতার মুখোমুখিও ফুটবল। জাহিদ হাসান বা মামুনুল ইসলামের মতো সিনিয়র ফুটবলাররা যতই বলুন সেই ভীতি অমূলক, তা আজ প্রমাণ করতে হবে তাঁদের।

প্লে-অফের ফিরতি লেগে জাতীয় দলের অজানা কন্ডিশনও বড় বাধা ভুটানে। একে তো প্রায় আড়াই হাজার মিটার উচ্চতায় তাদের খেলতে হবে, সঙ্গে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, ম্যাচটাও হবে সন্ধ্যার সময়। ৭ অক্টোবর থিম্পুতে পৌঁছে এই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে সেইন্টফিটের দল। ‘এই উচ্চতায় খেলাটা সব সময় কঠিন। তবে এই আবহাওয়ায় খুব বেশি সমস্যা হবে না আমাদের। আমরা অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। টার্ফে খেলতে হবে সেটাতেও আমরা অভ্যস্ত’—ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন সেইন্টফিট। তাঁর জন্যও এই ম্যাচ বিরাট চ্যালেঞ্জের। বাংলাদেশ আজ জিতলেই (গোল করে ড্র করলেও হবে) কেবল কোচ হিসেবে থাকা হচ্ছে তাঁর, নইলে তিনিও ফিরে যাবেন। তবে নিজের চাকরি নিয়ে নয় দল নিয়েই ভাবছেন বলে জানিয়েছেন সেইন্টফিট, ‘আমার ভবিষ্যৎ এখানে গুরুত্বপূর্ণ না। বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের মূল বাছাই পর্ব যাতে খেলতে পারে সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। ’ বাছাই প্লে-অফে ভুটানও খেলছে নতুন কোচের অধীনে, তিনি জার্মান টরস্টেন স্পিটলার। হোম ম্যাচে বাংলাদেশকে চমকে দিতে চান তিনি আক্রমাত্মক ফুটবলে, ‘অ্যাওয়ে ম্যাচে রক্ষণ সামলে আমরা কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় ছিলাম। এখানে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে খেলব আমরা। বলের পজেশন রেখে ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। ’ ঘরের মাঠে তাঁর দল বাড়তি চাপও নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন, ‘জিততেই হবে এমন চাপ নিতে চাই না। শুধু নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার লক্ষ্য থাকবে। আমার খেলোয়াড়রা এই মুহূর্তে ভালো অবস্থায় আছে। নিজেদের নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। ’

অন্যদিকে ৯ ফরোয়ার্ড নিয়ে সেইন্টফিটের স্কোয়াড গড়াই বলে দিয়েছে বাংলাদেশও খেলবে পুরো আক্রমণাত্মক ফুটবল। তবে চাপ নিচ্ছি না—এক কথায় এমনটা বলতে পারছেন না বাংলাদেশ কোচ। যাদের বিপক্ষে কখনো হারা হয়নি, সেই হারের আশঙ্কাই যে এখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে জাতীয় দলের। বাংলাদেশ ফুটবলের লাইফলাইনই ধরা হচ্ছে এই ম্যাচটিকে। উচ্চতার চাপ, মনের চাপ জয় করেই তাই ম্যাচটি জিততে হবে ফুটবলারদের।


মন্তব্য