kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই ব্যাটসম্যান মাশরাফি

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সেই ব্যাটসম্যান মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সময় সময় কমিক্যালই মনে হতো। তবে তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাম্প্রতিককালের কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার আপামরে অসম্ভব জনপ্রিয়।

এমনকি প্রেসবক্সেও, জনপ্রিয়তার সঙ্গে এখানে মিশে সহমর্মিতাও। তাই তাঁর অদ্ভুত শট আর কিম্ভূত আউট হওয়া দেখে হাস্যরসের বদলে হাহাকারই হয় বেশি—সেই মাশরাফির একি অবস্থা! অবশেষে, কাল মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিরে এলেন কাঙ্ক্ষিত সেই মাশরাফি। গোল্লায় যাক ম্যাচ পরিস্থিতি, দুম-দাম চার-ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪।

প্রথমে পরিসংখ্যানের ব্যাপারটা সেরে নেওয়া ভালো। ওয়ানডে ফিফটি মাশরাফির একটাই, কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে। ৪৪ তাঁর দ্বিতীয় সেরা, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পঞ্চাশ থেকে একটি ছক্কা দূরে থামলেন তিনি। ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির জমানায় কারো ৪৪ নিয়ে গল্প ফাঁদা বাড়াবাড়ি মনে হওয়ারই কথা, বিশেষ করে মাহমুদ উল্লাহ ৭৫ রান করেছেন। অবশ্য তিনি স্বীকৃত ব্যাটসম্যান তো রান করবেনই। মাশরাফির রানসংখ্যাও বাড়তি জায়গা দাবি করে না। দাবিটা তাঁর অ্যাটিচুডের। লোয়ার অর্ডারে নেমে সেই মন খুলে ব্যাটিং। এ ব্যাপারটিই হারিয়ে গিয়েছিল মাশরাফির ব্যাটিং থেকে।

কাল আর আদিল রশিদের বলে ব্যাটফুটে যাননি, কভারে ঠেলে প্রথম বলেই রান করেছেন মাশরাফি। ওভার শেষে মঈন আলীর প্রথম বলটাই লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা। ওই ওভারের শেষ বল গিয়ে পড়ে লং অন সীমানার ওপারে। ডেভিড উইলির একটি বলও একই গন্তব্যে পাঠান মাশরাফি। এক বল বিরতিতে বাউন্ডারি হতে দেখে বরাবরের জনপ্রিয় মাশরাফির নামে দুলছে গ্যালারি। ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকসের একটা শর্ট বল চোখ বুজে অনেকটা মাছি তাড়ানোর মতো করে বাউন্ডারিতে পাঠানোর পরও সরব গ্যালারি। এই তো চেনা মাশরাফি, বল এতটাই জোরে পেটাবেন যে পুল শটও চলে যাবে লং অন দিয়ে সীমানার বাইরে। কোথাও নেই স্নায়ুক্ষয়ী ব্যাটসম্যানের বিমর্ষ চেহারা। কেন মাশরাফি ভেবে কাঁপবেন যে ব্যাট হাতেও দলকে উত্তাল নদী পার করতে হবে তাঁকে?

গত কয়েক মাসে এই চাপেই চিড়েচ্যাপ্টা মনে হয়েছে ক্যারিয়ার বিনাশী সাতটি অস্ত্রোপচার করেও বুক চিতিয়ে বোলিং করে যাওয়া মাশরাফিকে। বল হাতে তিনি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, অধিনায়কত্বে অদম্য সাহসী। কিন্তু ব্যাট হাতে নামলেই কেমন যে অসহায়! ব্যাটিং প্রসঙ্গ এলে অলস আড্ডাতেও তিনি নড়েচড়ে বসেন। একটু কি বেশিই চিন্তিত ব্যাটিং নিয়ে, এমন সহমর্মিতায়ও চোয়াল শক্ত মাশরাফির। চাপ যখন চেপে বসে, তখন নিজের সহজাত ব্যাপারগুলো হারিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। হারিয়ে গিয়েছিলও। নইলে ব্যাটিংয়ের জন্য মাশরাফিকে মনে রাখতে এতগুলো দিন পেরিয়ে যাবে কেন?

আক্ষরিক অর্থে বিগ হিটার বলতে যা বোঝায়, বাংলাদেশে সেরকম কেউ নেই। নেই বলেই মাশরাফিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ফ্লোটার’ রোলটা দিয়েছিলেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। ‘ফ্লোটার’ মানে রানের গতি বাড়াতে হলে নামিয়ে দেওয়া হবে অধিনায়ককে, এক-দুইটা ছক্কা মেরে যদি টেনশন কমাতে পারেন তিনি। যত দূর জানা গেছে, সেই থেকে ব্যাটিংয়ে আরো বেশি মনোযোগী হন মাশরাফি। নতুন কিছু শটও রপ্ত করেছেন বলে শোনা যায়। কিন্তু একজন স্লগার নিখুঁত ব্যাটসম্যান হতে গেলেই কি সমস্যা হয়? গত কিছুদিন মাশরাফির ব্যাটিং দেখে সেরকমই মনে হয়েছে জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট একজনের, ‘লোয়ার অর্ডারে মাশরাফিই আমাদের ভরসা, দ্রুত রান তুলতে পারে। কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে বেশি চিন্তা করেই হয়তো একটু গুটিয়ে গেছে। ’ গুটিয়ে যাওয়ার ব্যাপার স্বীকার করার মতো মানুষ নন মাশরাফি। তবে ব্যাট হাতে তাঁর ক্রিজে যাওয়া, সেখানে থাকা এবং ফেরা—কোনো দৃশ্যেই চেনা মাশরাফিকে পাওয়া যায়নি।

ফিরলেন গতকাল। মহাসমারোহে।


মন্তব্য