kalerkantho


ধাক্কা সামলে প্রত্যয়ী বাংলাদেশ

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধাক্কা সামলে প্রত্যয়ী  বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নাজমুল হাসান দুটি ম্যাচের কষ্ট ভুলতে পারছেন না। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে ভারতের কাছে হার আর সবশেষ শুক্রবার রাতের কষ্ট।

এ কষ্টটা অবশ্য দেশের সবারই। এমনকি জাতীয় দলের এক তারকারও কাল সকালে ঘুম ভাঙার পর প্রথম মনে হয়েছে, ‘এই ম্যাচ হারলাম কী করে!’

সাধারণত ম্যাচ হারের পর কোচের দরবারে অনল বর্ষিত হয়। তবে গতকাল সকালে টিম হোটেলের মিটিংয়ে সেরকম কিছু হয়নি। সবাই সবার মতো করে ম্যাচ অ্যানালিসিস করেছেন, সঙ্গে পরের ম্যাচের (আজকের) স্ট্র্যাটেজিও আলোচিত হয়েছে। বিকেলের মিটিংয়ে হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ফেরার চূড়ান্ত পরিকল্পনা।

যত দূর জানা গেছে, প্রথম ওয়ানডেতে নাগালের মধ্যে পেয়েও হারের খাদে পা ফসকে পড়ার হতাশা ভুলে সিরিজ জেতার জন্য মরণঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতিই নিয়েছে বাংলাদেশ। দুপুরে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ তেমনটাই বলছিলেন ফোনে, ‘হারটা অবশ্যই কষ্টের, বিশেষ করে এভাবে। তবে ক্রিকেটাররা পেশাদার। সিরিজের আরো দুটি ম্যাচ আছে।

তাই শেষ হয়ে যাওয়া ম্যাচ নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। ’

হূদয়ভাঙা হারের পরও সিরিজ জয়ের জোরালো আশাবাদ অনেক বড় স্টেটমেন্ট। পারবে তো বাংলাদেশ? অতীতে অবশ্য ইতিবাচক উদাহরণ আছেও। যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচ হেরেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। মাঝের সময়টায় ক্রমাগত আরো শক্তিধর হয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাতে পিছিয়ে পড়েই সিরিজ জেতার আশার ডানা ভাঙেনি বাংলাদেশের। ভুলগুলো শুধরে নিশ্চিন্তে উড়াল দেওয়ার পরিকল্পনাই হয়েছে গতকালের সভায়।

কিন্তু মুঠো গলে জয় বেরিয়ে যাওয়ার কষ্ট কি আর একেবারে মুছে যায়। ভারতের কাছে ওই হারের যন্ত্রণাও তো কেউ ভুলে যাননি। তাই ‘কী করলে কী হতো’—এ জাতীয় আলোচনাও হয়েছে টিম মিটিংয়ে। থরে থরে সাজানো হয়েছে প্রথম ম্যাচে ইংলিশ ট্র্যাজেডির উপাখ্যান।

এক. সাব্বির রহমানের শটটা মিড উইকেট দিয়ে সীমানার ওপারে আছড়ে পড়াই দেখছিলেন ড্রেসিংরুমের সবাই। কিন্তু কোত্থেকে এসে স্যাম বিলিংস অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়ে নিলেন। এটাকে স্রেফ দুর্ভাগ্য মনে করছে দল।

দুই. মাহমুদ উল্লাহ আর মুশফিকুর রহিম দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু দুজনই একইভাবে ফিরেছেন ডিপ মিড উইকেট ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। অনেকটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হারের রি-ক্যাপ যেন!

তিন. ইংল্যান্ডের দিকে ঝুলে থাকা ম্যাচটি ঝট করে বাংলাদেশের মুঠোয় টেনে এনেছিলেন সাকিব আল হাসান। কী হতো ক্র্যাম্পের চিকিৎসা করিয়ে আবার গার্ড নেওয়া তিনি যদি আরেকটু সতর্ক হয়ে ব্যাটিং করতেন, যখন রান রেটের চাপ ছিল না কোনো?

চার. মোসাদ্দেক হোসেনের প্রথম বলে আউট হওয়াটাও ধাক্কা। তাতে শেষ ল্যাপটা আর পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। কাঠগড়ায় টেল এন্ডকে দাঁড় করানোর পাশাপাশি আপাতত সমাধান একটি উপায়েই দেখছে বাংলাদেশ, অন্তত শেষ পর্যন্ত একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে থাকতে হবে। ম্যাচ শেষ করে দিয়ে আসতে হবে।

টেল এন্ডারদের সমস্যা তো আর রাতারাতি উতরে যাওয়া সম্ভব না। তাই বোলিং ইউনিটের শক্তির ব্যাপারে সামান্য ‘কম্প্রোমাইজ’ করে আট নম্বরে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার খেলানোর পক্ষে মত দলের সিংহভাগের।

তবে নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক বিষয়ই সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে সে সভায়। যেমন ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ৩১০ রানের চ্যালেঞ্জে সমানে পাল্লা দেওয়া কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। ইংলিশদের বোলিং নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল, শুক্রবারের ম্যাচ সেসব সরিয়ে দিয়েছে ব্যাটসম্যানদের মন থেকে। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, হারের কষ্ট বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস টলাতে পারেনি এতটুকু। বরং এ অভিজ্ঞতা থেকে শেখার দীক্ষাই নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। যেমন, শুশ্রূষা নেওয়ার পর পাওয়া জ্যাক বলের প্রথম বলটাই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়া সাকিব চেয়েছিলেন ওই ওভারে ইংলিশ সিংহের খাঁচায় তালা ঝুলিয়ে দিতে। বলার অপেক্ষা রাখে না পরেরবার এমন সুযোগ এলে সময় নিয়েই প্রতিপক্ষকে ‘হারবন্দি’ করবেন তিনি।

আর ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত উপলব্ধি; টেল এন্ডারদের ওপর ভরসা না করে থাকতে হবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ক্যাচিং নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—ফিটনেস উপযুক্ত পর্যায়ে না থাকলে কাউকে ফিরিয়ে আনা হবে না দলে।


মন্তব্য