kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বার্মি আর্মি নেই, সমর্থকরা আছেন

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বার্মি আর্মি নেই, সমর্থকরা আছেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গ্যালারিতে কোথাও উড়ছে না ইউনিয়ন ক্রস, বেন স্টোকস সেঞ্চুরি করার পরেও মাঠের দর্শকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো না ‘ইউ ডু দ্য স্টোকি ককি অ্যান্ড ইউ টার্ন অ্যারাউন্ড’। কারণ বার্মি আর্মিই যে আসেনি বাংলাদেশে!

ইংল্যান্ড দলের অফিশিয়াল সমর্থক গোষ্ঠী বার্মি আর্মি।

পৃথিবীর সব জায়গাতেই ইংল্যান্ড দলের পিছু পিছু ছুটে যাওয়া এই সমর্থক গোষ্ঠী নিরাপত্তাজনিত কারণে আসতে অপারগতা জানায় বাংলাদেশ সফরে। বার্মি আর্মি না এলেও মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যে ইংল্যান্ডের কোনো সমর্থকই নেই, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। সংখ্যায় কম হলেও তাঁরা আছেন, এবং কথাবার্তায় জানিয়েছেন নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তাঁদের যেতে হয়নি।

ব্রিটিশ নাগরিক ব্রুস পেশায় পুরকৌশলী। কর্মসূত্রে থাকছেন কাতারে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে দেখতেই স্ত্রী ও বন্ধুর পরিবারসহ চারজন মিলে উড়ে এসেছেন ঢাকায়। দুই ইনিংসের মাঝের বিরতিতে ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারিতে আলাপ জমল ইংল্যান্ডের জার্সি পরে মাঠে আসা ব্রুসের সঙ্গে। তাঁর কাছেই শোনা গেল, ‘আমার জন্য কাতার থেকে ইংল্যান্ডে গিয়ে একটা ক্রিকেট ম্যাচ দেখে চলে আসার চাইতে বাংলাদেশে আসাটা সহজ, বিমানে পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লাগে। ’ হোটেল থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত আসতে একমাত্র যানজট বাদে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি তাদের। ‘হোটেল থেকে ট্যাক্সি ডেকে দিয়েছে এবং ট্যাক্সিই নিয়ে এসেছে স্টেডিয়ামে, কোথাও কোনো কিছু উদ্বেগজনক বলে তো মনে হলো না। তবে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষীদের দেখলাম। ’—এভাবেই খেলা দেখতে আসার অভিজ্ঞতা জানালেন মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী এই ইংল্যান্ড সমর্থক।

ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের জার্সি ও হ্যাট মাথায় খেলা দেখতে আসা উইলিয়াম হাতের কোমল পানীয়তে চুমুক দিতে দিতেই বললেন, ‘কী নিয়ে কথা? ফুটবল না ক্রিকেট?’ রাতে বিশ্বকাপ বাছাইতে মাল্টার সঙ্গে ম্যাচ নয় বরং ইংল্যান্ডের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস থেকে সতর্কতা জারির পরও প্রথম ওয়ানডে দেখতে ইংল্যান্ড থেকে স্ত্রী, বন্ধু এবং বন্ধুপত্নীসহ উড়ে আসার কারণ জানতে চাইলেই উত্তরে গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘পৃথিবীটা দিনকে দিন খুব অস্থির একটা জায়গা হয়ে উঠছে। এখানে নিরাপত্তা কেই বা কাকে দেবে! আমরা তো এলাম, কই কোনো কিছুই তো হুমকি বলে মনে হচ্ছে না। অনেক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা সরু করা হয়েছে, অনেক সশস্ত্র প্রহরী। ’ বিমানে ওঠার আগে যে শঙ্কাটা সতর্কবার্তা পড়ে তাঁর মনে জেগেছিল সেসবের কিছুই তাঁর কাছে প্রকট বলে মনে হচ্ছে না।

ব্রুসরা চারজন ফিরে যাবেন আজই। উইলিয়ামরা টিকিট পেলে দ্বিতীয় ওয়ানডেটা দেখবেন, নইলে ফিরে যাবেন। কেউই দেখতে যাবেন না বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার কিংবা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাস ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার, কিছুদিন আগে পালন করা হয়েছে পর্যটন দিবসও। ব্রুস, উইলিয়ামদের মতো পর্যটকরা হাজার হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে এসে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ দেখেই ফিরে যাচ্ছেন দেশে, তাঁদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলার দায়িত্বটা আসলে কার?


মন্তব্য