kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাজিলের গোল উৎসব আর্জেন্টিনার হোঁচট

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্রাজিলের গোল উৎসব আর্জেন্টিনার হোঁচট

ব্যর্থতার বৃত্তেই মেসিহীন আর্জেন্টিনা। আগের ম্যাচে দু-দুইবার পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছিল ভেনিজুয়েলার সঙ্গে।

গতকাল পেরুর বিপক্ষে দুইবার এগিয়েও ড্র করেছে ২-২ গোলে। আর্জেন্টিনার হোঁচট খাওয়ার দিনে বিখ্যাত জোগো বোনিতোর ছন্দে ব্রাজিল। নেইমারের ঝলকানিতে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা বলিভিয়াকে বিধ্বস্ত করেছে ৫-০ গোলে। লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অন্য ম্যাচগুলোতে উরুগুয়ে ৩-০ গোলে ভেনিজুয়েলাকে, কলম্বিয়া ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে আর ইকুয়েডর ৩-০ গোলে হারায় টানা দুইবারের কোপা চ্যাম্পিয়ন চিলিকে। ৯ ম্যাচ শেষে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উরুগুয়ে, ১৮ পয়েন্ট পাওয়া ব্রাজিল আছে দুইয়ে। সমান ১৬ পয়েন্ট হলেও গোল গড়ে ইকুয়েডর তিন, কলম্বিয়া চার আর আর্জেন্টিনা এখন পাঁচে।

লিমায় গনসালো হিগুয়েইন, সের্হিয়ো আগুয়েরোদের ফেরার ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ১৫ মিনিটে। কর্নার থেকে আগুয়েরোর পা থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়ে দেশের হয়ে প্রথম গোল করেন এভারটনের ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মারিনো ফুনেস মোরি। বিরতির আগে আর্জেন্টিনার দাপট থাকলেও সমতা ফেরাতে দ্বিতীয়ার্ধে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল পেরু। ৫৮ মিনিটে সমতাও ফেরায় তারা। মিগেল আনহেল ত্রাউকোর লম্বা পাস বুক দিয়ে নামিয়ে মারিনো ফুনেস মোরির বাধা পেরিয়ে লক্ষ্য ভেদ করেন অধিনায়ক পাওলো গেররেরো গনসালেস। ৭০ মিনিটে ত্রাউকোর আরেকটি দুর্দান্ত পাসে নেওয়া রুইদিয়াসের শট ডান পোস্ট ঘেঁষে গেলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। উল্টো ৭৭ মিনিটে পাবলো সাবালেতার ক্রস থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন কোপা ফাইনালের পর ফেরা গনসালো হিগুয়েইন। তবে ৮৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান কুয়েভার পেনাল্টিতে ২-২ সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল। মারিনো ফুনেস মোরি ডি-বক্সে পাওলো গেররেরো গনসালেসকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়েছিল পেরু। কার্ড দেখে পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিন ডিফেন্ডার পাবলো সাবালেতা, মারিনো ফুনেস মোরি ও নিকোলাস ওতামেন্দি। তাতে আরো হতাশা বেড়েছে আর্জেন্টিনার।

তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। গতকাল নাতালে টানা তৃতীয় জয়ের পাশাপাশি অনেক দিন পর ছড়াল জোগো বোনিতোর সৌরভও। ১০ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ানে ডি বক্সে ফাঁকায় পৌঁছে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার। ‘সাদা পেলে’ জিকোকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন নেইমার। তাঁর গোলটা জাতীয় দলের হয়ে ৪৯তম। এই গোলে পেছনে ফেলেছেন জিকোকে। পাশাপাশি সব মিলিয়ে পা রাখলেন ৩০০তম গোলের মাইলফলকে। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯, বয়সভিত্তিক ফুটবলে ১৮, বার্সেলোনার হয়ে ৯৫ আর সান্তোসের জার্সিতে করেছেন ১৩৮ গোল। ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের সামনে কেবল রোমারিও (৫৫), রোনালদো (৬২) ও পেলে (৭২)। মাইলফলকে পা রাখার ম্যাচটিতে বলিভিয়ার ইয়াসমানি দুকের কনুইয়ের আঘাতে ডান চোখের পাশে কেটে গেলে ৬৭ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে। ৩৬ মিনিটে মাথা গরম করে আসুগোর সঙ্গে বিবাদে জড়ানোয় হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। তাই নেইমার খেলতে পারবেন না পরের ম্যাচে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে।

২৫ মিনিটে জিউলিয়ানোর অসাধারণ পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেলিপে কৌতিনিয়ো। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে চারজনকে কাটিয়ে দেওয়া নেইমারের পাসে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন ফিলিপে লুইস। ৪৩ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গোলের কারিগরও নেইমার। তাঁর পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ চিপে বল জালে জড়ান তিনি। স্বপ্নের ৪৫ মিনিট কাটানো ব্রাজিল বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া ছিল না ততটা। ৭৫ মিনিটে রবার্তো ফিরমিনহোর গোলে ৫-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে লক্ষ্য ভেদ করতে পারেননি লুই সুয়ারেস। তবে তাঁর পাসে গোল হয়েছে দুটি। উরুগুয়ের হয়ে এদিনসন কাভানি দুটি (৪৬, ৭৯) আর এক গোল নিকোলাস লোদেইরোর (২৯)। এএফপি


মন্তব্য