kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টার্গেটটাই হতে পারত অনেক কম

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টার্গেটটাই হতে পারত অনেক কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডিপ মিড উইকেটে সাব্বির রহমান যখন বেন স্টোকসের আকাশে তুলে দেওয়া বলটা তালুবন্দি করলেন, তখন চোখেমুখে কোনো উল্লাস নেই বোলার মাশরাফি বিন মর্তুজার। ক্যামেরায় ক্লোজআপে ধরা ঘর্মাক্ত মুখটায় নেই আনন্দের ছাপ, বরং হতাশা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক ভালো করেই জানেন, স্টোকসের এই ইনিংসটা ১০১ রানে নয় বরং শেষ হতে পারত ৬৯ রানে। কিংবা ৭১ রানে। ৪২তম ওভারে নয়, বরং আরো ১০ ওভার আগেই এই বাঁহাতির উইকেটপতনের আনন্দ উদ্‌যাপন করতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা হয়নি ফিল্ডারদের বদান্যতায়। ক্যাচিংটা ভালো হয়নি বলেই ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা তিন শ ছাড়াল, অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের কাছে হারের পর ৩১তম ওয়ানডেতে এসে ১৪তম বারের মতো। তাতেই কি জয়ের পাল্লা হেলে পড়ল ইংল্যান্ডের দিকে। কারণ এই সময়ে ৩০ ওয়ানডেতে ১৩ বার তিন শর বেশি রান করে ৯ বারই তো জিতেছে ইংল্যান্ড।

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল মাঝারি। নিয়মিত ওপেনার অ্যালেক্স হেলস বাংলাদেশ সফরে আসতে অনাগ্রহী, তাই জেসন রয়ের সঙ্গী জেমস ভিনস। ছুটির দিনের দুপুরের অর্ধখালি গ্যালারির সামনে প্রথমবারের মতো উইকেট পতনের আনন্দে মেতে উঠতে খুব একটা সময় লাগেনি মাশরাফিদের, অষ্টম ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশ দলপতির হাতে ক্যাচ দিয়েই বিদায় ১৬ রান করা ভিনসের। বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকা রয়কেও (৪১) হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি জায়গা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এই ইংলিশ ওপেনার। পরের ওভারেই ওয়ান ডাউনে নামা জনি বেয়ারস্টো রানের খাতা খোলার আগেই রানআউট হয়ে যান মিড অফ থেকে করা সাব্বিরের দুর্দান্ত থ্রোতে। বিনা উইকেটে ৪০ রান থেকে ইংল্যান্ড ৬৩/৩। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ড্রেসিংরুমেও তখন নিশ্চিতভাবেই জস বাটলারের কপালে জমেছিল ঘাম।

ফতুল্লার অনুশীলন ম্যাচের একাদশটাই খেলেছে প্রথম ওয়ানডেতে, ব্যাটিং অর্ডারও ছিল একই। ডানহাতি আর বাঁহাতির সমন্বয় করতেই বোধ হয় আগে নিজে না এসে ক্রিজে থাকা অভিষিক্ত বেন ডাকেটের সঙ্গে বেন স্টোকসকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাটলারের। ফতুল্লায় এই দুজন মিলে একসঙ্গে জুড়েছিলেন মাত্র ১৬ রান, কাল মিরপুরে তাঁদের যৌথ অবদান ১৫৩ রান! যদিও তাতে দাক্ষিণ্য আছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও! শফিউলের বলে লেগস্টাম্প উড়ে যাওয়ার আগে অভিষিক্ত ডাকেট করেছেন ৬০ রান, সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে স্টোকস পেয়েছেন ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। দুজনের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকা এই ম্যাচটি ভুলে যেতেই চাইবেন মোশাররফ রুবেল। ৫৯ রানে থাকা ডাকেটের ক্যাচ ছেড়েছেন বহুদিন পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা এই বাঁহাতি স্পিনার। তার আগে ডিপ কভারে ৭১ রানে ব্যাট করতে থাকা স্টোকসের ক্যাচও ছেড়েছেন মাশরাফির বলে।

কাঠগড়ায় রুবেল একা নন, দায়ী মাহমুদ উল্লাহও। মিড অনে বেন স্টোকসের ক্যাচ ছেড়ে ৬৯ রানে ‘প্রথম জীবন’টা তিনিই উপহার দিয়েছেন! সিরিজের টাইটেল স্পন্সর ‘রকেট’ বলেই বোধ হয় বারবার রকেটের মতোই বল উঠছিল আকাশে। স্টোকসের ব্যাট থেকে রকেটের মতো আকাশপানে ছুটে যাওয়া একটি বল ধরতে দৌড়ালেন চারজন। বল পড়ল ঠিক তাঁদের মাঝখানে! তারপর এর-ওর মুখ চাওয়া-চাওয়ি!

বেন স্টোকস জীবন পেয়েছেন গোটা তিনেক। কাজে লাগিয়েছেন ভাগ্যদেবীর এই বর। ওয়ানডেতে এত দিন সর্বোচ্চ ইনিংসটা ছিল ৭৫ রানের। টানা দুটি হাফসেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েই গেলেন ডারহামের এই অলরাউন্ডার। চাপের মুখে ৮ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ১০০ বলে ১০১ রান করে যখন মাঠ ছাড়ছেন, তখন চাপের ফাঁস অনেকটাই আলগা। ততক্ষণে ক্রিজে এসে যাওয়া বাটলারও হাত খুলে খেলতে শুরু করেছেন। ৩৮ বলে ৬৩ রান করে যখন বিদায় নিচ্ছেন তখন রান হয়ে গেছে ৩০৮। শেষ বলে সাকিবের দারুণ ফিল্ডিং ক্রিস ওকসকে রান আউট করলে স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ডের রান ৮ উইকেটে ৩০৯। ফতুল্লায় আগে ব্যাট করে ১ উইকেট বেশি হারিয়ে এই রানটাই করেছিল বিসিবি একাদশ। যেটা বেশ সহজেই টপকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ফিল্ডারদের হাত থেকে ক্যাচ না গললে ইংল্যান্ডের রানটা হয়তো সামর্থ্যের মধ্যেই থাকত বাংলাদেশের, যেটা তাড়া করতে নামার আগে দলকে দিত বাড়তি অনুপ্রেরণা। কিন্তু এখন উল্টো বলের চেয়ে বেশি রান করার চাপটাই বোঝা হয়ে এলো পিঠের ওপর।

বাগে পেয়েও সিংহদের খাঁচাবন্দি করার আক্ষেপটা তাই থেকেই গেল!


মন্তব্য