kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হার মেনে নিতে পারছেন না মাশরাফি

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হার মেনে নিতে পারছেন না মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই ম্যাচ হারা যায় না! এই ম্যাচ হারতে পারে না বাংলাদেশ! তাই কী? এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তো ভারতের বিপক্ষে এর চেয়েও সহজ ম্যাচ হারে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। শেষ তিন বলে প্রয়োজন দুই রান—এমন অবস্থায় উইকেট হারায় প্রতি ম্যাচে।

ম্যাচ হেরে যায় এক রানে।

তবুও! শেষ ৫২ বলে প্রয়োজন ৩৯ রান। উইকেটে সেঞ্চুরি করা ইমরুল কায়েস ও সত্তর পেরোনো সাকিব আল হাসান। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন ম্যাচ কী করে হারল বাংলাদেশ?

গ্যালারির দর্শক ও টেলিভিশন পর্দায় চোখ সেঁটে রাখা সমর্থকরা বিশ্বাস করতে পারে না। অবিশ্বাস্যের আঁকিবুকি মাশরাফির চোখে-মুখেও। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে। রাজত্ব হারানো সম্রাটের প্রতিচ্ছবি নিয়ে। অদ্ভুতুড়ে এই পরাজয়ের ব্যাখ্যা খুঁজতে যেন খাবি খান তিনি।

‘ম্যাচটা অবশ্য জেতা উচিত ছিল। ৫২ বলে ৩৯ লাগবে, ৬ উইকেট হাতে। ওখান থেকে ম্যাচ হারা ভীষণ হতাশার’—কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে যান মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই তীরে এসে তরি ডোবানোর স্মৃতিও তুলে আনেন তিনি, ‘ভারতের সঙ্গেও আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। আজকের ম্যাচও হতাশার। ৩০০-র ওপর রান তাড়া করে জিততে পারলে সব দিক থেকে ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম। সিরিজে এগিয়ে যেতাম ১-০ ব্যবধানে। সুযোগটা নিতে পারিনি। আর এই ধরনের হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন। ’ কণ্ঠে আরেক প্রস্থ বিষাদ ঢেলে যোগ করেন, ‘একটা পর্যায়ে যখন ওভারপ্রতি ৭-৮ রান করে লাগত তখন আমরা এভাবে ব্যাটিং করতে পারতাম। কিন্তু যখন ওভারপ্রতি পাঁচ রান করে প্রয়োজন, তখন আরো ধৈর্যশীল ব্যাটিং করা প্রয়োজন ছিল। ’

ওই ধৈর্যটা দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। অহেতুক তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আত্মাহুতির মিছিলে যোগ দেন সবাই। মাশরাফিও স্বীকার করে নেন তা, ‘আউটগুলো দেখলেই বোঝা যাবে, ব্যাটসম্যানরা কতটা তাড়াহুড়োয় ছিল। হয়তো বা আরো স্বাভাবিক থাকতে পারতাম। রান করার তাড়াতেই আমরা আউট হয়েছি। ’ ড্রেসিংরুম থেকে উইকেটে বার্তা পাঠানো হয় ঠিকই। কিন্তু তাতে যে কাজ হয়নি, ম্যাচের ফলে বোঝা যায়। অন্যরা ইমরুলকে সঙ্গ দিতে পারলেই হতো। এমন বার্তা দেওয়া ছিল বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘একটা কথা বলছিলাম, আমাদের শেষ পর্যন্ত ইমরুলের সঙ্গে উইকেটে থাকতে হবে। আমি যখন যাই তখনো ইমরুলের সঙ্গে আলাপ ছিল, ওকে কমপক্ষে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হবে। সেটা হয়নি। তার পরও ইমরুলের যে পরিস্থিতি ছিল, ওই অবস্থায় খুব কঠিন ছিল ব্যাটিং করা। তবু সে দলের জন্য চেষ্টা করেছে। ’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পর তাও মাস ছয়েক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরতি ছিল। সময়ই ওই দুঃখ সামলে দেয় অনেকটা। ইংল্যান্ডের কাছে কালকের হারের পর তো সেই সময়টাও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কালই আবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামতে হবে। এ অবস্থায় দলকে ইতিবাচক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠে, ‘এ অবস্থায় এই হার নিয়ে বার বার চিন্তা করতে পারি। আবার পেশাদার চিন্তাও করা যায়। সিরিজের আরো দুটি ম্যাচ বাকি। সেখানে ভালো ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আমরা জিততে পারি। এখন ইতিবাচক চিন্তা করা ছাড়া উপায় নেই। ’

এমন হারের পর ইতিবাচক চিন্তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর কী হতে পারে!


মন্তব্য