kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হেমন্ত-সাখাওয়াতে মিলবে গোলের অঙ্ক

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হেমন্ত-সাখাওয়াতে মিলবে গোলের অঙ্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : থিম্পুতে গোলের গণ্ডগোল মিটে যাবে বাংলাদেশের! এক মাস আগে ঢাকায় মুড়িমুড়কির মতো গোল মিসের পর সেইন্টফিট কি আলাদীনের চেরাগ হাতে থিম্পু যাচ্ছেন! সেরকম নয়, তবে ফরোয়ার্ড বোঝাই দলে কোচ বিশেষ আস্থা রাখছেন নতুন এক স্ট্রাইকিং জুটির ওপর। গোলের স্বপ্ন দেখছেন হেমন্ত-সাখাওয়াতে।

১০ অক্টোবর ভুটানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আজ যে দলটি রওনা হচ্ছে তার চেহারা অন্য রকম। ২৩ সদস্যের দলে ৯ জন ফরোয়ার্ড! তিন গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডার মিলে বাকি ১৪ জন। দল নির্বাচনে এমন অসামঞ্জস্য সাধারণত দেখা যায় না। টম সেইন্টফিটও বলেছেন অসামঞ্জস্য, তবে করতে হয়েছে অধরা গোলের জন্য, ‘গোল আমাদের করতেই হবে। ভুটানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র আর হারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই দলে স্ট্রাইকার অনেক বেশি নিয়েছি। ’ ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মাঠে এই বেলজিয়ান কোচের অভিষেক হয়েছে ভুটানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে। হোমে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও পারেনি তাঁর দল। এ জন্য অ্যাওয়ে ম্যাচে গোলের কোনো বিকল্প নেই, জিতলে তো হলোই নইলে ন্যূনতম ১-১ গোলে ড্র হলেও বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে এশিয়ান কাপের মূল বাছাইয়ে।

পরম প্রার্থিত গোলের জন্য দলটি ফরোয়ার্ডময় হয়ে গেছে। প্রায় ১৩ মাস পর ফিরেছেন পুরনো দুই স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান ও এনামুল হক। দলে এত ফরোয়ার্ডের ভিড়েও কোচের মন বসে গেছে হেমন্ত-সাখাওয়াতে। সরাসরি না বললেও দুই ফরোয়ার্ডে তাঁর সন্তুষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘হেমন্তের পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে। লিগে মোহামেডানের বিপক্ষে দারুণ একটি গোল করেছে। রনি (সাখাওয়াত হোসেন) নিজের ক্লাবের হয়ে দুটি গোল করার পর অনেক ভালো খেলছে। অনুশীলনেও তারা ভালো ফিনিশিং করছে। ’ অনুশীলনে এখন নিত্য পাঠ— গোল, বিভিন্ন কম্বিনেশনে স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের পরীক্ষা চলছে। এই মহড়ায় এগিয়ে সাখাওয়াত হোসেন ও হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। নিজেদের ভেতর যে ম্যাচ হয়েছে তাতেও একই দলে খেলেছেন দুজন— সাখাওয়াতের পেছনে ছিলেন হেমন্ত। কোনো অলক্ষুণে ইনজুরি না হলে ভুটান ম্যাচেও এভাবে দেখা যাবে দুজনকে। তা আরো পরিষ্কার হয়ে যায় হেমন্তর কথায়, ‘আমাদের দুজনকে ডেকে কোচ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ট্রেনিংয়ে যেরকম কমিউনিকেশন হচ্ছে সেটা ম্যাচে ধরে রাখতে পারলে গোল হবেই। ’

ঢাকা ম্যাচে তিনটি দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করা সাখাওয়াত হোসেনও বিশ্বাস করেন তিনি থাকবেন মূল একাদশে, ‘ভুটান ম্যাচে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। একটা গোল করতে পারলে এখন এতটা চাপের মধ্যে থাকতে হতো না। তবে এখনো আমি বিশ্বাস করি, ভুটানের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলি আমরা। ওদের মাঠে গিয়ে আমরা গোল করব। ’ গত কেরালা সাফে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের এই স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বরের ম্যাচের আগে আগে তিনি ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন। ক্লাব দলের হয়েও গোল পাননি। সেই ম্যাচের পর লিগে তিন ম্যাচে দুই গোল করায় গোলের বিশ্বাসটা তাঁর ফিরেছে, ‘আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা আগের চেয়ে ভালো। জাতীয় দলের ট্রেনিংয়ে ভালো করেছি। আমি জানি, এই ম্যাচেও আমরা গোলের সুযোগ পাব। ’ জাতীয় দলের জার্সিতে ১৬ ম্যাচে ৭ গোল করা এই স্ট্রাইকার তাই ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়েই ভুটান রওনা হচ্ছেন।

সঙ্গে যাচ্ছেন ‘নতুন’ হেমন্ত ভিনসেন্টও। ২০১৪ সালে গোয়ায় অভিষেকেই চমকে দিয়েছিলেন এই ফুটবলার, প্রীতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দুটি গোলেই ছিল তাঁর পরোক্ষ অবদান। এরপর ২০১৫ সালের শুরুতে বঙ্গবন্ধু কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল করে দলকে তুলে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। সেই ম্যাচ দিয়ে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয়, আবার সেই থেকেই ক্রমশ অচেনা এবং ছন্দহীন। ‘ইনজুরি আমাকে বেশ ভুগিয়েছে। অনেক দিন ভালো খেলতে পারিনি। ক্লাবে এখন ভালো খেলছি, দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারছি। ভুটান ম্যাচে ভালো খেলে আমি পুরনো হেমন্ত হয়ে ফিরতে চাই’—বলেছেন ঢাকা আবাহনীর ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। হেমন্তের নিজেকে খুঁজে পাওয়া আর সাখাওয়াত আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ায় মিলেও যেতে পারে ভুটান ম্যাচে বাংলাদেশের গোলের অঙ্ক।


মন্তব্য