kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আত্মবিশ্বাস ফেরাতেই ভুটান মিশন

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : খুব করুণ এক জায়গায় এসে ঠেকেছে ফুটবল। তার দুয়ারে কড়া নাড়ছে শঙ্কা ও লজ্জা।

ভুটান ভয় হয়ে গিলে খেতে পারে বাংলাদেশ ফুটবলকে! মামুনুল-সোহেল রানাদের পায়ে ফুটবল বিশ্বাস-অবিশ্বাসের এমন দোলাচলে যে সেখানে উচ্চাশার সুযোগ কম। একমাত্র টম সেইন্টফিটই বিশ্বাস করেন সব চাপ শঙ্কা উড়ে যাবে থিম্পুতে, বাংলাদেশ পাবে এশিয়া কাপ বাছাইয়ের টিকিট। এই বিশ্বাস ফেরানোর ব্রত নিয়েই কাল ভুটান রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ দল।

শঙ্কার কারণ সাম্প্রতিক সময়ের অনুজ্জ্বল ফুটবল। ঠিক এক বছর আগে ঢাকায় এশিয়া কাপ বাছাই প্লে-অফের হোম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তবু আশার কারণ গত কয়েক সপ্তাহে ঘরোয়া ফুটবলে খেলোয়াড়দের উন্নতি ধরা পড়েছে কোচের চোখে। সাখাওয়াত-হেমন্ত-জুয়েল রানারা গোলে ফিরেছেন। বেলজিয়ান কোচ টম সেইন্টফিট অনেক কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত দল বাছাই করেছেন, ‘দল গড়া হয়েছে তিনটি ব্যাপারকে গুরুত্ব দিয়ে। ক্লাব ফুটবল, জাতীয় দলের ট্রেনিংয়ের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের কৌশল; থিম্পুর উচ্চতা ও ঠাণ্ডার কথা মাথায় রেখে দলটা বাছাই করা হয়েছে। তারা জানে ম্যাচটা আমাদের জিততে হবে। ১-০ গোলে জিতলেও আমরা সন্তুষ্ট। শেষ কথা হলো আমাদের এশিয়া কাপের বাছাই পর্বে পৌঁছাতে হবে। ’

এই দলে একেবারে নতুন কারো সংযোজন হয়নি। তবে ১৩ মাস পর দুই স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান ও এনামুল হকের ফেরাটা বেশ চমকপ্রদ। দুজনই সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলেছেন গত বছর ৩ সেপ্টেম্বরে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর ইনজুরি দলের বাইরে ঠেলে দিয়েছিল জাহিদ হাসানকে। প্রায় চার মাস পর শেখ রাসেলের হয়ে সর্বশেষ দুটি ম্যাচ খেলে তিনি আবার জাতীয় দলে। কোচ দলে নিয়েছেন ঢাকায় ভুটান ম্যাচে বাদ পড়া মামুনুল ইসলামকেও। এ ছাড়া দলে ফিরেছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও দুই গোলরক্ষক মুক্তিযোদ্ধার মামুন খান ও মোহামেডানের নেহাল। বাকি ১৭ জনই ছিলেন ৬ সেপ্টেম্বর ভুটান ম্যাচের স্কোয়াডে। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে তিনজনকে—ইয়ামিন মুন্না, মনসুর আমিন ও মাশুক মিয়া জনি।

কিন্তু স্কোয়াডে যে ডিফেন্ডার মাত্র পাঁচজন! কোচের সোজা জবাব, ‘আমাদের গোল দরকার তাই বেশি ডিফেন্ডার নেওয়া হয়নি। কেবল ইনজুরি থাকলেই আমি ডিফেন্ডার পরিবর্তন করব। ’ আগের ম্যাচের মতোই মামুন মিয়া, তপু, রায়হান ও আতিকুর রহমানই থাকতে পারেন ডিফেন্সে। তবে গত ম্যাচের মতো আশরাফুল রানার হাতে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড থাকবে কিনা, বলা যাচ্ছে না। ম্যাচের আগে অধিনায়ক চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় দল কমিটির প্রধান বাফুফে সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ।

দলের যেহেতু গোল চাই তাই স্কোয়াড বোঝাই করে ফরোয়ার্ড নেওয়া হয়েছে। তবে ৯ ফরোয়ার্ড বলেই শুরু থেকে সবাই গোলের জন্য ভুটানের ডিফেন্সে হামলে পড়বে, তা নয়। ‘আমাদের কৌশল হলো, পুরো দলকে ডিফেন্সে নেমে খেলতে হবে। আমার মনে হয় ভুটান শুরু থেকে আক্রমণে উঠবে, তারা চেষ্টা করবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪০০ মিটার ওপরে ও ঠাণ্ডার সুবিধা কাজে লাগাতে। তাই প্রথমার্ধে আমরা গোল না খাওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী হব’, বলেছেন বেলজিয়ান কোচ। গোলের জন্য অন্ধ হয়ে খেলতে শুরু করলে উল্টো গোল খেয়ে বসার শঙ্কা থাকে। তাই প্রথমার্ধে কাউন্টার অ্যাটাকই মূল ভরসা। পাল্টা আক্রমণে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, রুবেল মিয়া ও জুয়েলই হতে পারে কোচের বড় অস্ত্র।

কোচের আশা, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমি খেলোয়াড়দের উন্নতি দেখেছি। রনি (সাখাওয়াত) অনেক সুযোগ নষ্ট করলেও সে ভালো ফুটবলার। ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিল সে। হেমন্তও তাই। এমিলিও (জাহিদ হাসান) কয়েক মাস দলের বাইরে ছিল। জাতীয় দলের হয়ে তার ১৭ গোল আছে, সুতরাং দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সে। ভুটানের সঙ্গে আগের ম্যাচে আমাদের স্ট্রাইকাররা ফর্মে ছিল না। ’ সাখাওয়াত হোসেন, জুয়েল রানা, হেমন্ত ক্লাব ফুটবলে গোল করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁদের সেই ফর্ম জাতীয় দলের জার্সিতেও অনূদিত হলে ১০ অক্টোবর বাংলাদেশের থিম্পু জয় হবে।


মন্তব্য