kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

আমার জন্য সব কিছু মিলে গেছে

মার্চের আগেও জীবনটা অন্য রকম ছিল ইবাদত হোসেনের। ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও জীবিকার তাগিদে বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে। রবি-পেসার হান্টের বিজয়ী হয়ে এইচপি স্কোয়াডে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের দলেও জায়গা পেয়েছেন, দল পেয়েছেন বিপিএলেও। ইবাদতের দিনবদলের গল্পটাই শুনল কালের কণ্ঠ স্পোর্টস

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আমার জন্য সব কিছু মিলে গেছে

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এত দিন ধরে যাঁরা ছিল দূরের তারা, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই খেললেন সতীর্থ হিসেবে। থাকলেন একই হোটেলে।

কেমন লাগল অভিজ্ঞতাটা?

ইবাদত হোসেন : খুবই ভালো, এত তাড়াতাড়ি মুশফিক ভাই-নাসির ভাইদের সঙ্গে একই দলে খেলব, এটা ভাবতেই পারিনি। মাঠে নামার আগে অধিনায়ক হিসেবে নাসির ভাই খুব উৎসাহ দিয়েছেন। বোলিংয়ের সময় বলেছেন ‘ইবাদত, তুমি যেটা সবচেয়ে ভালো পারো সেটাই করো। ’ আমিও তা-ই করার চেষ্টা করেছি। পুরো ম্যাচ খেলতে পারলে আরো ভালো লাগত।

প্রশ্ন : ৫ ওভারের পর তো বোলিং করেননি...

ইবাদত : প্রচণ্ড গরম ছিল তো। পেশিতে টান পড়েছিল। ব্রেক থ্রুটা আমিই এনে দিয়েছিলাম, প্রথম দুটি উইকেটও আমার। পুরো ম্যাচ খেলতে পারলে হয়তো উইকেট আরো বেশি পেতাম।

প্রশ্ন : কোর্টনি ওয়ালশের পরামর্শেই তো আপনাকে বিসিবি একাদশে নেওয়া। তা এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির কাছ থেকে কী শিখলেন?

ইবাদত : প্রথম দেখায় ওয়ালশ তেমন কিছু বলেননি। পরে নেটে আমার দুটি বল দেখার পর কাছে আসেন। তখন ইমরুল (কায়েস) ভাই ব্যাট করছিলেন। ওয়ালশ জানতে চাইলেন আমি কী করতে চাই? বললাম যে চাই ব্যাটসম্যান যেন ফ্রন্টফুটে খেলতে এসে এজড হয়। তা-ই হয়, তখন ওয়ালশ বলেন যে তুমি খুব ভালো বোলার।

প্রশ্ন : খুব কম সময়ের মধ্যেই আকিব জাভেদ ও কোর্টনি ওয়ালশের মতো দুজন বোলিং কিংবদন্তির কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ হলো আপনার। নিজেকে কি সৌভাগ্যবান ভাবেন এ জন্য?

ইবাদত : ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ক্রিকেটার হওয়ার। শেষটা দেখার যে ক্রিকেট খেলে আমি কত দূর কী করতে পারি। পেসার হান্ট হলো, জিতলাম। এরপর এইচপির ক্যাম্পে আকিব জাভেদ এলেন। আমি আকিবের শেখানো কৌশলগুলো ভালো করে রপ্ত করার চেষ্টা করেছি, শিখতে চেষ্টা করেছি। এরপর বোলিং কোচ হিসেবে ওয়ালশ বাংলাদেশে এলেন, তাঁর কাছ থেকেও শিখতে চাইছি। সব মিলিয়ে মনে হয় আমার জন্য সব কিছু ঠিকঠাক মিলে গেছে। এ জন্য আসলেই খুব ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে।

প্রশ্ন : বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে কি তাহলে এখন পেশাদার ক্রিকেটারের জীবনে?

ইবাদত : বিমানবাহিনী প্রধান আবু এসরার স্যারকে ধন্যবাদ। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন। সবই আমি পাচ্ছি। ইউনিটে থাকা বা বাহিনীর অন্যান্য দায়িত্বে অংশ নেওয়া, এসব থেকে আমাকে ছাড় দিয়েছে বিমানবাহিনী। আমি এখন শুধু আমার কাজটা অর্থাৎ ভালো বোলিং করাটা করে যেতে চাই। বিপিএল বা জাতীয় দল কোনো কিছু নিয়েই ভাবছি না। ভালো বল করলে নির্বাচকরাই আমাকে খুঁজে নেবেন।


মন্তব্য