kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাশরাফির জন্মদিনে...

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাশরাফির জন্মদিনে...

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একটা সুনসান উড়াল সড়ক পেরোলেই ফাঁকা রাজপথ। হোটেল র‍্যাডিসন থেকে তাই নিজের আত্মার সংসারে পৌঁছাতে বড়জোর মিনিট পনেরো লাগে।

তবু কাল পড়ন্ত বিকেলেও শুকনো মুখ মাশরাফি বিন মর্তুজার, ‘নাহ্, এখনো যাওয়া হয়নি। ’ মানে নিজের বাসায় ঢুঁ মারা হয়নি তাঁর। যদিও দিনটা খুবই ‘স্পেশাল’। ৩৩ পেরিয়ে নিজে ৩৪-এ পা রাখার দিনে ছেলে সাহিলেরও যে দ্বিতীয় জন্মদিন। কিন্তু ক্রিকেটারের জীবন বলে কথা; পিতা-পুত্রের জন্মদিন পালন অগ্রাধিকার পায় না।

অবশ্য এ তো বহু পুরনো তথ্য যে, জন্মদিন-বিয়েবার্ষিকী পালনের রেওয়াজ নেই মাশরাফিদের পরিবারে। তবে আত্মার মানুষগুলোর সান্নিধ্য তো আর ঘটা করে উৎসবের পর্যায়ে পড়ে না। গতবার যেমন ঘুমন্ত ছেলে কপালে চুম্বন এঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন প্রথম প্রহরেই। এবার সেটা হয়নি। টিম হোটেলে রাত কাটিয়ে সকালে ওঠার পর থেকেই টানা মিটিং। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে এ সভাটা ক্রিকেটারদের ওয়ান টু ওয়ান ছিল। কিন্তু তিনি অধিনায়ক, তাই সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১২টায় শেষ সভায় টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হয়ে থাকলেন মাশরাফিও, ‘অধিনায়কের ঝামেলা আছে ভাই (হাসি)। মিটিং করতে করতে দিন শেষ!’ মিটিং শেষে সোজা মাঠে এবং টানা অনুশীলনে। ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন না, তাই উপহারও নেন না। উল্টো কাল ভক্তদের অন্য রকম ‘উপহার’ দিলেন মাশরাফি; আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের পর গোড়ালিতে চোট নিয়ে বিশ্রামে যাওয়া অধিনায়ক যে বোলিং করেছেন নেটে!

ঘেমে-নেয়ে নেট থেকে বেরোনোর পর অধিনায়কের ‘পিছু’ নেন তামিম ইকবাল, ‘ভাই, আর কত টাকা জমাবেন? জন্মদিন উপলক্ষে অন্তত আজকে আমাদের খাওয়ান!’ কিন্তু মাশরাফি অনড়, ‘প্রশ্নই আসে না। ’ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ অবশ্য আশ্বস্ত করলেন, ‘ওর অনারে টিম ডিনার আছে আজকে। স্পন্সর প্রেসিডেন্ট (নাজমুল হাসান)। ’ অভাবিত জনপ্রিয়তা নিয়ে এমনিতেই দলে এবং মিডিয়ার ঘনিষ্ঠ অংশ মাশরাফিকে কম বিব্রত করে না! তাই ডিনারের উপলক্ষ সবার সামনে ফাঁস হয়ে যাওয়াতে আরেক দফা ‘নেওয়া হলো’ মাশরাফিকে! অনুমান করা যায় যে, ‘মেইন কোর্সে’ স্টেক থাকবে আর ‘সাইডস’ হিসেবে অবধারিত মাশরাফিকে নির্দোষ ‘জ্বালানো’! বোর্ড সভাপতি যখন গৃহস্থ, তখন ডিনারে কি কেক কাটা-টাটা হবে? মাহমুদের কাছেই জানা, ‘চারটা কেক এসেছে। কিন্তু একটাও কাটেনি। ’ এ সংস্কারটা জ্ঞানত একবারই ভেঙেছেন মাশরাফি। গত বছর মিরপুরের ভিআইপি বক্সে সাংবাদিকদের চাপাচাপিতে কেক কেটেছিলেন, কিন্তু মুখে দেননি এক টুকরোও।

অভিনন্দনের জোয়ারও সেভাবে আপ্লুত করে না মাশরাফিকে। নানার নির্দেশে সেই যে ছোটবেলায় জন্মদিন পালনের চর্চা পেছনে ফেলেছে মাশরাফি পরিবার, তা আর ফিরিয়ে আনা হয়নি। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনেরা, ভক্তরা তা শুনবে কেন, অভিনন্দন বার্তা আসছেই। অবশ্য শুরুটা হয়েছে বাংলাদেশ দলের ভেতর থেকে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাশরাফির রুমেই আড্ডারত ছিলেন তামিম। ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছুঁতে অধিনায়কের জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তার ‘উদ্বোধন’ও করেছেন জাতীয় দলের এ ওপেনার, ‘আমি, তাসকিন এবং আরো কয়েকজন মাশরাফি ভাইয়ের রুমেই ছিলাম। তখনই উইশ করেছি। ’

অধিনায়ককে অভিনন্দন জানিয়েছেন তামিম, কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছেন ‘অভিসম্পাত’! সেটা অবশ্য আগেই পেয়েছেন বাংলাদেশ ওপেনার, “জানেন, মাশরাফি ভাই কি করেছেন? (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) সেঞ্চুরি করার পর ড্রেসিংরুমে আমার কাবার্ডে লিখেছেন, ‘ওয়ানডের সাত নম্বর সেঞ্চুরি এসেছে ১৭ মাস পর। পরেরটা আসবে ৫ মাস ২৯ দিন পর। ’ বলেন, এভাবে কেউ লেখে?” টিমমেটের কপট রাগের জবাবে মাশরাফির পাল্টা, ‘টেস্টেরটা বললি না কেন? এই সময়ে তিনটা সেঞ্চুরি লিখেছি, ওইটার কথাও বল!’

দলের হেভিওয়েট ব্যাটসম্যানকে উসকে দিতেই এটা করে থাকবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। অন্তত কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের কাছে ‘বিচার’ দিয়ে তেমন ধারণাই হয়েছে তামিমের, “কোচকে বললাম দেখো, তোমার ক্যাপ্টেন আমাকে নিয়ে কী ভাবছে? কোচ কি বলল জানেন? বলে, ‘পারলে ওকে চ্যালেঞ্জ করো!”

তামিম চ্যালেঞ্জটা নিয়ে জেতা মানেই দলের মঙ্গল। ক্রিকেট অধিনায়কের জন্মদিনে এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে!


মন্তব্য