kalerkantho


সবাই নেটে আর সৌম্য ইনডোরে

মাসুদ পারভেজ   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সবাই নেটে আর সৌম্য ইনডোরে

কালো শোকের প্রতীক, এখন থেকে সম্ভবত ব্যর্থতারও। অন্তত সৌম্য সরকারের ফেসবুক পেজে এক পাক ঘুরে এলে তা-ই মনে হবে যে কারো। নিজের প্রোফাইল পিকচারের জায়গাটি কালো আবরণে ঢেকে দিয়েছেন গত বেশ কিছুদিন ধরেই রানে না থাকা এ ব্যাটসম্যান। যেটি ফতুল্লায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭ রান করে আউট হওয়া সৌম্যর ভেতরে ভেতরে জ্বলে-পুড়ে খাঁক হওয়ার নমুনাও। যদিও তাঁকে দেখে সেটি বোঝার উপায় সামান্যই। গতকালও যখনই সংবাদমাধ্যমের কারো সঙ্গে দেখা হলো বা কথা, মুখে সব সময়ই এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে রাখলেন। রান কবে করবেন? কারো কারো এমন জিজ্ঞাসার জবাবও হাসতে হাসতেই দিলেন, ‘চেষ্টা তো করছি, বাকিটার জন্য ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে আছি। ’

সৌম্য যখন ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে, তখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকালের প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ সূচনার জন্য বাংলাদেশ শিবিরও কি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে? কিংবা সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য স্বাগতিক দলের পরিকল্পনার কতটা জুড়ে আছেন গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের নায়ক? আপাতত কোনো প্রশ্নেরই আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোর সংলগ্ন মাঠে কাল মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের নেট অনুশীলন একটি বার্তা অবশ্য দিচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ইংলিশ বোলারদের তুলাধোনা করা ইমরুল কায়েস থেকে শুরু করে দলের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের কেউই নেটে ব্যাটিং করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হননি। হলেন কেবল একজন, যিনি ইনডোরে বোলিং মেশিন থেকে ছোড়া বলেই ব্যাটিং অনুশীলন করে গেলেন শুধু।

সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব আর এর আগে যেখানে উৎসবের রঙে রঙিন হওয়ার কথা সৌম্যর, সেখানে উল্টো বিবর্ণ হওয়ার নমুনাই যেন হয়ে উঠছেন তিনি। অথচ ইংলিশদের বিপক্ষে রণপরিকল্পনার পুরোভাগেই থাকার কথা ছিল সাতক্ষীরার এই তরুণের। কি অস্ট্রেলিয়ার উইকেট, কি দেশের উইকেট, সবখানেই অবাধে স্ট্রোক খেলতে অভ্যস্ত এই বাঁহাতির ব্যাটে রানখরা এমন প্রবল যে টিম ম্যানেজমেন্টকেও সম্ভবত অন্য রকম করে ভাবতে হচ্ছে। যদিও নিজেদের মাঠে যেমন উইকেটে খেলার ভাবনা বাংলাদেশ শিবিরের, তা তো সৌম্যর মতো দলের আরো স্ট্রোক প্লেয়ারদের কথা ভেবেই। যাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যই পাচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারও।

ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচের পর সেটি খুব স্বাভাবিকও। সেখানকার উইকেটে বল খুব ভালো ব্যাটে এসেছে। ব্যাটসম্যানরাও প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন। ফ্রন্টফুটে ‘ভি’-র মধ্যে খেলে অভ্যস্ত ইমরুল কায়েসকে দেখেও মনে হয়েছে তাঁর শটের ভাঁড়ার কত সমৃদ্ধ! নিজের সীমাবদ্ধতা ঝেড়ে ফেলে তিনিও অনায়াসে পুল খেলেছেন, ইংলিশ বোলারদের শর্ট পিচ বল নিয়মিত বিরতিতে আছড়ে ফেলেছেন সীমানার বাইরে। ব্যাটিং করতে নেমে ইমরুলের রণমূর্তি ধারণ টিম ম্যানেজমেন্টকেও একাদশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

অবশ্য বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ইমরুলের সেঞ্চুরির বাইরেও প্রস্তুতি ম্যাচে রানে না থাকা কারো কারো ব্যাটে রানের দেখা মিলেছে। আফগানিস্তান সিরিজে মলিন মুশফিকুর রহিম ফিফটি করেছেন। ফিফটি না করলেও ৪৬ রানের ইনিংসে ঝরঝরে মনে হয়েছে নাসির হোসেনকেও। যিনি কিনা ম্যাচ খেলারই সুযোগ পান কদাচিৎ। অথচ রান না করেও ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ দেওয়া হয়েছে যাঁকে, সেই সৌম্যই ফিরতে পারেননি রানে। সেটি তাঁর রানের ফুলঝুরি ছোটানোর পক্ষে অনুকূল উইকেট পেয়েও। সে জন্যই বোধ হয় একই রকমের উইকেটে প্রথম ওয়ানডে খেলার ভাবনায় খুব সহজে ঠাঁই করে নিতে পারছেন না তিনি।

তাই নেটে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া সৌম্য যখন একা একা ইনডোরে, তখন নেট দেখতে দেখতে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বলছিলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা এখন ফ্ল্যাট উইকেটে খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ’ বরাবরের মতো তাই বলার উপায় নেই যে নিচু আর ধীরগতির উইকেটে ইংলিশদের জন্য ফাঁদ পাতছে বাংলাদেশ। তাঁরা মনে করে ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর গড়ে দিলে বোলাররা সেই পুঁজিকে যথেষ্ট বলে মনে করাতে সক্ষম। কিংবা ইংলিশদের সাধ্যের মধ্যেই বেঁধে ফেলার ক্ষেত্রে বোলারদের সক্ষমতায়ও বিশ্বাস কম নেই স্বাগতিক শিবিরের। বিশ্বাস আছে ব্যাটসম্যানরাও হতাশ করবেন না।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিশ্বাসটা হারিয়েছে কেবল সৌম্যর ওপর থেকেই!


মন্তব্য