kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাব্বিরের কণ্ঠে বাঘের গর্জন

নোমান মোহাম্মদ   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাব্বিরের কণ্ঠে বাঘের গর্জন

ছবি : মীর ফরিদ

ওই এক ম্যাচই দুই দলের টার্নিং পয়েন্ট। অ্যাডিলেডের সেই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

শুরু হয় রূপকথামাখা ক্রিকেটযাত্রার। পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে সিরিজ জিতে এই ফরম্যাটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে ঘোষণা করে লাল-সবুজের ক্রিকেটসৈনিকরা।

সেই পরাজয় আবার ইংল্যান্ডের জন্যও টার্নিং পয়েন্ট। বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠতে না পারার ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেনি তারা, পারেনি মনে নিতেও। ফলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের খোলনলচে পাল্টে ফেলে তারা। ফল? এই বছর দেড়েকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের আশ্চর্য পুনরুত্থান। নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার, পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতে সিরিজ। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইবার। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে হারে বটে। তবে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের নিষ্পত্তি যখন হয় শেষ খেলায়—সেখানে ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা বোঝা যায়।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের এই প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় মুখ্য ভূমিকা ব্যাটসম্যানদের। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর যে ৩০টি ওয়ানডে খেলেছে তারা, এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে দুটি। বাকি ২৮ খেলার মধ্যে ১৩টিতে রান করেছে ৩০০-র বেশি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় রানের তিনটি ইনিংস এ সময়ের। মাসখানেক আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ৪৪৪ রান তো এই ফরম্যাটের ইতিহাস-সর্বোচ্চ। ১০ বছর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান ছাড়িয়ে গেছে তা। এ ছাড়া গত বছরের জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০৮ এবং এ বছর ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৯৯ রান তোলে ইংল্যান্ড। এর আগে ২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ম্যাচে ৪ উইকেটে ৩৯১ ছিল তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ওই ম্যাচের প্রতিপক্ষ? বাংলাদেশ।

কাল থেকে শুরু হওয়া সিরিজে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা, তা বলাই যায়। এউইন মরগান, অ্যালেক্স হেলস, জো রুটের মতো তিন ব্যাটসম্যান না থাকার পরও। আর ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের ৩০৯ রান টপকে স্বাগতিকদের আগাম সতর্কবার্তাই যেন জানিয়ে রাখল ইংল্যান্ড।

কিন্তু তাতে কী ভয়ে গুটিয়ে দল বাংলাদেশ। নিজেদের ‘বাঘ’ হিসেবে ঘোষণা করে পাল্টা হুঙ্কার স্বাগতিক ক্যাম্প থেকে। দলের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে আসা সাব্বির রহমানের কণ্ঠে কাল তেমনই ঝাঁজ, ‘যে দল স্বাগতিক, তারাই হচ্ছে বাঘ। আমরা এই সিরিজে খেলছি স্বাগতিক হিসেবে। ইংল্যান্ড আগে কী করেছে, তা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা ভালো ব্যাটি-বোলিং-ফিল্ডিং করতে পারছি কি না, সেদিকে মনোযোগ দেব। ’ প্রতিপক্ষকে ভালো দলের মর্যাদা দিতেও কুণ্ঠাহীন তিনি। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের চেয়ে ওয়ানডেতে সমীকরণ যে ভিন্ন হবে, প্রচ্ছন্নে সে হুমকি যেন দিয়ে রাখেন এই ডাকাবুকো ব্যাটসম্যান, ‘ইংল্যান্ড অনেক ভালো দল। তিন শ রান তাড়া করে জেতা এত সহজ না। সেটি করে ওরা প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে। ওদের ব্যাটসম্যানরা অনেক ভালো, অনেক অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু সেদিন আমাদের অনেক মূল বোলাররা বল করেনি। ওয়ানডেতে তাই পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ’ আবার ভিন্ন না হয়ে যদি রানের পাহাড় গড়ে তোলে ইংল্যান্ড, তাতেও সমস্যা দেখছেন না সাব্বির। নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে তাই তাঁর ঘোষণা, ‘নিজেদের মাঠে খেলা বলে সুবিধা থাকবে আমাদের। উইকেট ভালো থাকবে। ওরা যদি তিন শ, সাড়ে তিন শও করে, তবু আমরা তা তাড়া করে জিততে পারি। সে সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। ’

সে সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার জন্য ব্যাটিং অর্ডারে মহাগুরুত্বপূর্ণ এক জায়গা তিন নম্বর পজিশন। যেখানে হন্যে হয়ে যোগ্য একজনকে খুঁজছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। টেস্টে মমিনুল হক ও টি-টোয়েন্টিতে সাব্বিরের জায়গা ওই পজিশনে পাকা। ওয়ানডেতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে খেলানো হয় সাব্বিরকে। ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো সেখানে খেলতে নেমেই তিনি করেন ৬৫ রান। তিন নম্বরে খেলার প্রস্তাবটি কোচের ছিল জানিয়ে তাঁর দাবি, দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনেই ব্যাটিং করতে প্রস্তুত, ‘গত ম্যাচে কোচ আমাকে তিন নম্বরে খেলার কথা বলেন। আমি হ্যাঁ বলেছি। গত কিছুদিন ধরেই আমি এ পজিশনে ব্যাটিং করেছি। এমনকি প্রিমিয়ার লিগেও তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছি। ওখানে মানিয়ে নিয়েছি। এ জন্যই কোচ আমাকে তিনে পাঠিয়েছেন। তবে দল যেখানে চাইবে সেখানেই আমি খেলতে প্রস্তুত। ’

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত যেমন বাংলাদেশও। সিরিজের আবহে স্বাগতিক ক্যাম্পে যে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই, সাব্বিরের কথায় বোঝা যায় তা। আর সেই আত্মবিশ্বাসের বড় এক উৎস দুই দলের মুখোমুখি সর্বশেষ ম্যাচে। ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডের দ্বৈরথ যে নিজেদের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে, কাল তা বলে যান সাব্বির। সঙ্গে জানিয়ে যান সিরিজ জয়ের আশাবাদ, ‘বিশ্বকাপে ওদের আমরা হারিয়েছি। সে কারণে আত্মবিশ্বাস আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যদি ভালো খেলি, সিরিজ জিততে পারব। ’

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এমন এক আশ্চর্য সাফল্যরথে সওয়ার, সিরিজ জয়ের লক্ষ্য যে সেখানে ন্যূনতম! তা প্রতিপক্ষ যদি নিয়মিত তিন শ পেরোনো ইংল্যান্ডও হয়!


মন্তব্য