kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ক্যাম্প ঢাকায় হলেও অলিভার জার্মানিতে!

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্যাম্প ঢাকায় হলেও অলিভার জার্মানিতে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অদ্ভুতভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় হকি দলের ক্যাম্প। প্রধান কোচ অলিভারের তত্ত্বাবধানে নয়, আজ থেকে প্রাথমিক দলের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে স্থানীয় কোচ মাহবুব হারুনের অধীনে।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন গতকাল প্রাথমিক দলের ৩৫ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছে। তাঁদের স্থানীয় কোচের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে আজ।

ডাক পাওয়াদের মধ্যে ৯ জন এখন জার্মানিতে বিভিন্ন দলের হয়ে লিগে খেলছেন। বাকি থাকেন ২৬ জন, তাঁদের নিয়েই প্র্যাকটিস শুরু করবেন মাহবুব হারুন। তবে এর মধ্যেও আবার কয়েকজন জার্মানিতে যেতে পারেন দু-একদিনের মধ্যে। অবশিষ্ট যাঁরা থাকবেন, দেশে তাঁদেরই প্র্যাকটিস হবে। জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য মামুনুর রশীদ বলেছেন, ‘উপদেষ্টা কোচ পিটার গেরহার্ড ঢাকায় এসেছেন। তিনি এবং হারুন ভাই মিলে দেশে ক্যাম্প চালাবেন। এটা এএইচএফ কাপের জন্য দল তৈরির প্রক্রিয়া হলেও আমাদের আসল উদ্দেশ্য কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য শক্তিশালী দল গড়া। ’ এএইচএফ কাপ হবে হংকংয়ে আগামী নভেম্বরের ১৯ থেকে ২৭ তারিখ। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশই সর্বোচ্চ রেটিংধারী দল, সুবাদে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে তিনবার। নিচের সারির ১০ দলের এ টুর্নামেন্টে এবারও বাংলাদেশ ফেভারিট। কঠিন হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড, যেখানে বিশ্ব হকির সেরা দলগুলোও খেলে। আগে কখনো বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ড টপকাতে পারেনি। তাই এবার আগে থেকেই ভালো দল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে হকি ফেডারেশন।

কিন্তু দল গঠন প্রক্রিয়া হাস্যকর। কিছুদিন আগে ঘটা করে জার্মানির পুরো কোচিং স্টাফ নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেশন। আর এখন দেখা যাচ্ছে, প্রধান কোচ অলিভার থাকবেন জার্মানিতে, ঢাকায় দল তৈরির কাজ করবেন হারুন। তাহলে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে কেন জার্মান কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেওয়া? তবে মাহবুব হারুন বলেছেন, ‘যে ৯ জন জার্মানিতে আছে, তাদের দেখছেন অলিভার। এখানে আমি আর পিটার মিলে একটা মূল দল দাঁড় করাব ২০ জনের। এই দলে জার্মানিতে থাকা ৯ জনের সবাই না-ও থাকতে পারে। এ দলটাকে নিয়ে ছয়টা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলানো হবে। ’ তাহলে প্রধান কোচ অলিভারের দরকারই বা কী। দলটা হারুন ও পিটার গেরহার্ড মিলে তৈরি করলে তাঁরাই তো চালাতে পারেন। দুই কোচেরই জাতীয় দল চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। প্রধান কোচকে বিদেশে রেখে ঢাকায় ক্যাম্প চালানোর পরিকল্পনাটা অবশ্য একেবারে অভিনব নয়। কিছুদিন আগে ফুটবলেও এটা চালু ছিল, লোডউইক ডি ক্রুইফ থাকতেন নেদারল্যান্ডসে আর ঢাকায় সাইফুল বারী প্র্যাকটিস করাতেন। এই করে ফুটবলের বারোটা বেজেছে। এখন হকি কর্মকর্তারাই বুঝবেন হকির ভালোমন্দ।

কিছুদিন আগেও বেশ জোরেশোরে শোনা গিয়েছিল হকি দলের জার্মানিতে ক্যাম্প আয়োজনের কথা। মাহবুব হারুনের কথায় এখনো নতুন সহসভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীরের সেই প্রতিশ্রুতি জারি আছে, ‘তিনি আজও (কাল) আমাকে বলেছেন আগামী ১৩ অক্টোবর ২০ জনের দল জার্মানি নিয়ে যাওয়ার কথা। তারপর ওখানে ১৫ দিনের ক্যাম্প হবে, প্র্যাকটিস ম্যাচ হবে। ’ এদিকে পরশু হকির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৪ তারিখের মধ্যে জার্মানি যাওয়া না হলে জাতীয় দলের যাঁরা জার্মানিতে আছেন, তাঁদেরও ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে। এখানেই হবে জাতীয় দলের প্র্যাকটিস।

ডাক পাওয়া ৩৫ জন : গোলরক্ষক—অসীম গোপ, জাহিদ হোসেন, আবু সাইদ নিপ্পন, মুহিতুল ইসলাম, প্রবীর কুমার ঘোষ। রক্ষণভাগ—মামুনুর রহমান চয়ন, খোরশেদুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ শিটুল, ইমরান হাসান পিন্টু, রেজাউল করিম বাবু, শফিউল আলম শিশির, রোকনুজ্জামান সোহাগ, বেলাল হোসেন, তাপস বর্মণ, আশরাফুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সবুজ, মেহেদী হাসান। মাঝমাঠ—সারোয়ার হোসেন, সাব্বির হাসান, রাসেল মাহমুদ জিমি, রোমান সরকার, ফজলে হোসেন রাব্বি, নাঈমউদ্দীন, কামরুজ্জামান রানা, হাসান যুবায়ের নিলয়, মাহবুব হোসেন, রাজু আহমেদ। আক্রমণভাগ—পুষ্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণ কুমার দাশ, রাব্বি সালেহীন রকি, মোহাম্মদ মহসিন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক, মিলন হোসেন, দ্বীন ইসলাম ইমন, আরশাদ হোসেন।


মন্তব্য