kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনেক অপেক্ষার পর আশরাফুলের ২৬

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অনেক অপেক্ষার পর আশরাফুলের ২৬

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথম রাউন্ডের চার দিন চলে যায়। দ্বিতীয় রাউন্ডের দুই দিনও।

মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট হাতে ক্রিজে ফেরার অপেক্ষার শেষ হয় না। অবশেষে কাল বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পান। তবে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় হয় না। ঢাকা মেট্রোর এ ব্যাটসম্যান আউট হন ২৬ রান করে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ পাতানোর দায়ে আশরাফুল নিষিদ্ধ ছিলেন তিন বছর। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এবারের জাতীয় লিগের শুরু থেকে খেলছেন। অবশ্য বৃষ্টির কারণে প্রথম রাউন্ড ভেসে গেলে মাঠে নামা হয়নি। খুলনায় দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় বরিশালের প্রথম ইনিংস ৪১৯ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে আশরাফুল ছিলেন সফলতম বোলার। ৬২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। এরপর ঢাকা মেট্রো দ্বিতীয় দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ১৪৫ রানে। কাল তৃতীয় দিনের শুরুতে পঞ্চম ওভারে মেহরাব হোসেন আউট হলে ব্যাট হাতে ক্রিজে যান আবার। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে মুখোমুখি প্রথম বলেই মারেন বাউন্ডারি। ৮৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ৬৩ বলে ২৬ রান করে আউট হন আশরাফুল।

তাঁর দল ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংসে অল আউট হয়ে যায় ২৪৫ রানে। ফলো অন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১৩৩ রানে। বরিশালের চেয়ে এখনো ৪১ রানে পিছিয়ে তারা।

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের প্রথম স্তরের আরেক খেলা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হয়েছে পরিত্যক্ত। ঢাকার বিপক্ষে খুলনা রয়ে গেছে সেই ১ উইকেটে ১৭২ রানে।

দ্বিতীয় স্তরের রাজশহী-চট্টগ্রাম ম্যাচে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে তিন দিনেই। যেখানে রাজশাহী জিতেছে ইনিংস ও ২৪২ রানে। শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের খেলায় চট্টগ্রামের ১৪১ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৫৫৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। মিজানুর রহমান ও জহুরুল ইসলামের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল হামিদুল ইসলামের সামনে। কিন্তু ৯০ রানে দিন শুরু করে কাল তিনি আউট মাত্র দুই রান যোগ করে। ৪১৭ রানে পিছিয়ে থাকা চট্টগ্রাম দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হয় ১৭৫ রানে। ইয়াসির আলীর অপরাজিত ৭৮ রান ছাড়া বলার মতো অবদান নেই আর কারো। ফলে রাজশাহী ম্যাচ জিতে যায় বিশাল ব্যবধানে।

দ্বিতীয় স্তরের সিলেট-রংপুরের চতুর্থ দিন আজ মাঠে গড়াবে রোমাঞ্চকর সমাপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে। জিততে হলে যে সিলেটের চাই আর ৭৫ রান; রংপুরের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। নিজেদের কাজটি অবশ্য কঠিন করে যান সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। শেষ ইনিংসে ১৫৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৭৯ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। ৬ উইকেটই বাঁহাতি স্পিনার সোহরাওয়ার্দী শুভর। এর আগে সিলেটের প্রথম ইনিংসে অবশ্য সেঞ্চুরি করেন জাকির হাসান (১১২)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে) :

বরিশাল-ঢাকা মেট্রো : বরিশাল : ৪১৯। ঢাকা মেট্রো : ৯৯.৩ ওভারে ২৪৫ (শামসুর ৪৯; মনির ২/২৯) এবং ৪৯ ওভারে ১৩৩/১ (শাদমান ৬৫*; মনির ১/১৫)।

খুলনা-ঢাকা : খুলনা : ৫০.৫ ওভারে ১৭২/১ (এনামুল ৮৪, মোসাদ্দেক ৭১; শাহাদাত ১/৩৪)।

রাজশাহী-চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম : ১৪১ ও ৫৬.২ ওভারে ১৭৫ (ইয়াসির ৭৮*; হাবিবুর ৩/২৭, মামুন ৩/৩৩, মুক্তার ৩/৫৪)। রাজশাহী : ১৩৬.৫ ওভারে ৫৫৮/৯ ডিক্লে. (মিজানুর ১৪৪, জহুরুল ১৩১, হামিদুল ৯২, মুক্তার ৬০; আরিফ ৪/১১৭)।

ফল : রাজশাহী ইনিংস ও ২৪২ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : মিজানুর রহমান।

সিলেট-রংপুর : রংপুর : ২১৭ ও ৫২.৫ ওভারে ১৮৩ (সাজেদুল ৪৪*; শাহানূর ৪/৪৪)।

সিলেট : ৯৩ ওভারে ২৪৭ (জাকির ১১২; সঞ্জীত ৩/৫৫) এবং ২৭ ওভারে ৭৯/৭ (ইমতিয়াজ ২৬; সোহরাওয়ার্দী ৬/৩৮)।


মন্তব্য