kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাবি জানিয়ে রাখলেন ইমরুল

মাসুদ পারভেজ, ফতুল্লা থেকে   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দাবি জানিয়ে রাখলেন ইমরুল

ছবিঃ মীর ফরিদ, ফতুল্লা থেকে

ইমরুল কায়েস নীরবে রান করে চলেছেন তো আরেকজনের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হওয়ার আগে আরেকটু অপেক্ষা করে দেখার নীতি বাংলাদেশ শিবিরের। এ জন্যই যে সৌম্য সরকারের নামের পাশে সেঁটে আছে ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’-এর তকমাও।

অকারণে নয় অবশ্যই, সত্যি সত্যিই বড় দলের বিপক্ষে আলোর ঝলকানি দিয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট। একাধিক দৃষ্টান্ত তো হাতের কাছেই আছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে স্বস্তির অক্সিজেন বিলিয়েছেন সৌম্য। গত বছর এপ্রিলে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতা হয়ে গেছে, শেষ ম্যাচটি জিতলে হোয়াইটওয়াশও হয়ে যায়। তা সেই ম্যাচেই সৌম্য করলেন তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, খেললেন অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস। মাস দুয়েক পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হেরে বসা বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত সিরিজ জয়ের পথও দেখিয়েছে সাতক্ষীরার এই তরুণের ব্যাট। অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংসের শেষ দুই ওয়ানডেতেই হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা, সেই সঙ্গে সিরিজ সেরাও। অথচ এখন মনে হচ্ছে নিজের সেরা সময়টা তিনি কত পেছনে ফেলে এসেছেন যেন! গত বছরের ১৫ জুলাই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজ ভাগ্য গড়ে দেওয়া ইনিংসটি খেলার পর থেকে বাঁহাতি এ ওপেনার নিজেকে হারিয়েই খুঁজছেন একরকম। পরিসংখ্যানও সাক্ষ্য দিচ্ছে যে তাঁর অবস্থা বেগতিক। কারণ এর পরের সাড়ে ১৪ মাসে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে খেলেছেন ৫২ ম্যাচ। ৫৪ ইনিংসে মাত্র ১৭.৩৯ গড়ে ৯২২ রান করাকে সৌম্যর নিজের কাছে নিশ্চয়ই তাঁর নামের সঙ্গে বড্ড বেমানান মনে হচ্ছে।

পারফরম্যান্স চলনসই নয়, তবু বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর ওপর থেকে আস্থার হাত সরিয়ে নিচ্ছে না। বরং কিছুদিন আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের পরামর্শে এর কারণও স্পষ্ট, ‘সৌম্যকে পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার না করে দেশের হয়ে খেলা ওর ইনিংসগুলো দেখুন। ’ সেই ইনিংসগুলো বড় বড় দলের বিপক্ষেও। তাই সামনে যখন ইংল্যান্ড, তখন আস্থাও সম্ভবত আরো বেশি করে আসছে যে এই সৌম্য রানে ফিরলেন বলে...।

রানে ফেরার আশায় পুরো আফগানিস্তান সিরিজ গেছে। যে সিরিজের তিন ম্যাচে তাঁর রান ০, ২০ ও ১১। প্রথম ম্যাচে কোনো রান না করেও সৌম্যর পুরো সিরিজ খেলার সৌভাগ্য হলেও হয়নি ইমরুল কায়েসের। প্রথম ওয়ানডেতে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেও পরের দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা হারানো এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অবশ্য সব ফরম্যাটেই নীরবে রান করে চলেছেন।

সব শেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সৌম্য যেখানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১৫ ম্যাচে ২৩.২৬ গড়ে করেছিলেন ৩৪৯ রান, সেখানে ব্রাদার্সের পক্ষে ৯ ম্যাচ খেলেই ৩৯.২২ গড়ে ৩৫৩ রান এসেছিল ইমরুলের ব্যাটে। শুধু তাই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিপিএলের তৃতীয় আসরেও মেহেরপুরের এই তরুণ ছিলেন সফলতম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৬.০৯ গড়ে মাত্র ১৭৭ রান করেছিলেন সৌম্য। আর চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে সমানসংখ্যক ম্যাচে ২৮.৩৬ গড়ে ৩১২ রান করে ইমরুল ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারার (৩৪৯) পরেই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা ব্যাটসম্যান।

তাতেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে ঠাঁই না পাওয়া ইমরুল গতকাল ফতুল্লায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেললেন ৯১ বলে ১২১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। যা প্রথম ওয়ানডের একাদশ গঠনের হিসাবটা জটিলও করে দিল কিছুটা। কারণ টি-টোয়েন্টিতে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত সাব্বির রহমান আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও একই পজিশনে নেমে রানে ফিরেছেন। দলের চোখে ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’ যখন কালও আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে, তখন ইমরুলও একাদশে ঢোকার জোর দাবি জানিয়ে রাখলেন। সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাখলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনও, ‘দেখার মতো ইনিংস খেলেছে ও। অনেক দিন মনে রাখার মতো একটি ইনিংস। আশা করি, সে প্রথম ওয়ানডের একাদশে থাকবে। ’

মিনহাজুল শুধু আশাই করতে পারেন, কারণ একাদশ গঠনে নির্বাচকদের কোনো ক্ষমতা নেই। সেটি হাতুরাসিংহের হাতে। তা তিনি নীরবে রান করে চলা ইমরুলে ঝুঁকবেন নাকি সৌম্যে আরো আস্থা রাখবেন? প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ইমরুল সেই প্রশ্নের মীমাংসাকে বেশ জমিয়েও তুললেন।


মন্তব্য