kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফুটবলের নিয়তি লেখা ভুটান ম্যাচে

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফুটবলের নিয়তি লেখা ভুটান ম্যাচে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : থিম্পু গিয়ে জিতবে বাংলাদেশ। এর পক্ষে বাজি ধরার মতো লোক দেশেও খুব খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ঢাকায় এশিয়া কাপ ফুটবল বাছাইয়ের প্লে-অফের হোম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ড্র করার পর এই ফুটবল দল নিয়ে উচ্চাশা চুকে গেছে। তবে আগামী ১০ তারিখে এই অ্যাওয়ে ম্যাচের ওপর বাংলাদেশের ফুটবলের অনেক কিছুই নির্ভর করছে।

থিম্পু জয় করলে বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অবারিত হবে। এশিয়া কাপের মূল বাছাইয়ে অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। হারলে? এশীয় অঞ্চলের নিম্ন সারির দলগুলোর একটি হিসেবে আনুষ্ঠানিক সিল পড়বে বাংলাদেশের গায়ে। নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় সলিডারিটি কাপ বাদে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিফা-এফসির কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে না। আসলে এএফসির নতুন ফরম্যাটে নিচের সারির দলগুলোর জন্য (এশিয়া কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে বাদ পড়া) কোনো ম্যাচ নেই।

বাস্তব প্রেক্ষাপটে ভুটানও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল দলকে নিয়ে কেউ বিলাসী স্বপ্ন দেখতে নারাজ। আগামী নভেম্বরে বাদ পড়াদের টুর্নামেন্ট সলিডারিটি কাপেই তাদের নিয়তি দেখছেন অনেকে। কিন্তু বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এই টুর্নামেন্ট খেলার পক্ষে নয়, ‘কোথায় খেলবে, তা জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি ঠিক করবে। আমি অনুরোধ করব, সলিডারিটি কাপে না গিয়ে বরং সাফের জন্য দলটি নতুন করে তৈরি করার জন্য। ’ আগামী বছর ডিসেম্বরে হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, এখন থেকেই তার জন্য নতুন দল গড়ার কাজ শুরু করতে চান সভাপতি। মালয়েশিয়ার ওই টুর্নামেন্টের চেয়ে তিনি ঘরোয়া লিগ শেষ করার ওপরই বেশি জোর দিতে চান, ‘ভুটানের সঙ্গে হেরে গেলে নভেম্বরে সলিডারিটি কাপের প্রস্তুতির সময় পাওয়া যাবে না। কারণ ফুটবলাররা ফিরেই আবার ক্লাবের হয়ে লিগ খেলতে শুরু করবে। ’ দেশে বিপিএল প্রায় মাঝপথে আছে, এখন বিরতি চলছে ভুটান ম্যাচের জন্য। জাতীয় দলের আরেকটি টুর্নামেন্টে যাওয়া মানে লিগ আরেক দফা পেছানো। তা ছাড়া ভুটানের সঙ্গে প্লে-অফ উতরাতে না পারলে দলটি ওই টুর্নামেন্টে গিয়েও যে কিছু অর্জন করতে পারবে না, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে সালাউদ্দিনের কাছে।

তবে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চান না, ‘সলিডারিটি কাপ না সাফ—এটা এই মুহূর্তের ইস্যু নয়। ১০ তারিখে ভুটান ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা সবাই। ম্যাচের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ’ এই ম্যাচ নিয়ে বাফুফের এই সহসভাপতি আশাবাদী। আশার একটা কারণ দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, কখনো ভুটানের কাছে না হারার রেকর্ড। তা ছাড়া ঢাকা ম্যাচে একতরফা খেলেছে স্বাগতিকরা। এত সুযোগের পরও একটি গোল কেউ করতে পারেনি। মানে দলে কোনো গোল করার লোক নেই! গত বছর দল চলেছে এভাবেই, স্ট্রাইকার সংকটে। এর পরও সংকট কাটানোর জন্য বাফুফে কর্তারা বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেননি। তাই টম সেইন্টফিট এখন বাতিলের খাতায় নাম লেখানো স্ট্রাইকারদের ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে দেখছেন, কিছু অবশিষ্ট আছে কি না। নতুন বেলজিয়ান কোচ নিয়ে কাজী নাবিলের বিশ্লেষণ, ‘কোচের দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অনেক বছর তো আমরা পাসিং ফুটবল খেলেছি, তাতে কোনো রেজাল্ট আসেনি। এই কোচ নতুন ট্যাকটিকসে খেলানোর চেষ্টা করছেন, প্রথম ম্যাচে তো বেশ কয়েকবার গোল দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ’ সাবেক কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফের সময় বাংলাদেশ বিল্ডআপ ফুটবল খেলেছে, কিন্তু সাফল্যহীন। নতুন কোচ সেইন্টফিট খেলাচ্ছেন ‘ডিরেক্ট ফুটবল’। তিনি মনে করেন, বিল্ডআপ ফুটবলে বল হারালে কাউন্টারে ভুটানি স্ট্রাইকার চ্যানচোকে আটকাতে পারবে না বাংলাদেশ। এর পরও তাঁর খেলার ধরন নিয়ে দলের ভেতর অনেকে অসন্তুষ্ট। কারণ তাদের সামর্থ্য কম, তাই নতুন কোচের কৌশল আত্মস্থ করতে পারছেন না। জাতীয় দল কমিটির প্রধানও স্বীকার করেছেন খেলোয়াড়দের সামর্থ্যহীনতার কথা, ‘কোচ কিংবা ফেডারেশনের লোকজন গিয়ে তো আর মাঠে খেলে আসতে পারবে না। খেলোয়াড়দেরই খেলতে হবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো তাদের সামর্থ্য আরো বাড়াতে হবে। ’

ঢাকায় সেই সামর্থ্যহীনতা একবার স্পষ্ট হয়েছে। এবার শেষ সুযোগ থিম্পুতে। সেখানে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। কারণ এই ম্যাচের হাতে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের চাবি।


মন্তব্য