kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গরমের সঙ্গে লড়াইয়ে ইংল্যান্ড

নোমান মোহাম্মদ   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গরমের সঙ্গে লড়াইয়ে ইংল্যান্ড

আগের দিনই কথাটি বলেছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার—‘আমরা যত থিতু হতে থাকব, নিরাপত্তা ইস্যু তত পর্দার পেছনে চলে যাবে। ’ বাংলাদেশ সফরে আসা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনেই বোঝা যায় তা।

হোটেল থেকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসার পথজুড়ে কালও ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। একাডেমি মাঠে অনুশীলনের পুরোটা জুড়ে তটস্থ নিরাপত্তাকর্মীরা। কিন্তু নিজেদের ঝালাই করে নেওয়ার পথে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বোলারদের চোখেমুখে সামান্যতম উদ্বেগের ছায়াও নেই।

উৎকণ্ঠা যা, তা ওই প্রচণ্ড গরম নিয়ে! নিরাপত্তা ইস্যু কিছুটা পর্দার পেছনে গিয়ে সামনে চলে এসেছে ওই আবহাওয়ার উত্তাপ।

ইংল্যান্ড দলের উপমহাদেশ সফরে চ্যালেঞ্জের শুরুর দিকে থাকে এই বিরুদ্ধ কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া। উইকেট-প্রতিপক্ষ পরে, আগে তো ওই গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আর বাটলারের নেতৃত্বে ইংরেজরা ঢাকায় পা রাখার পর থেকেই কিনা তাপমাত্রা বাড়ছে হু হু করে। কাল একাডেমি মাঠে অনুশীলনে তাঁদের হাঁসফাঁসটা বোঝা গেল। নীল-সাদার বরফতোয়ালে কিছুক্ষণ পরপরই ঘাড়ের ওপর ফেলে রেখে শরীর যেন সইয়ে নিয়ে চান তাঁরা। কিন্তু তাপমাত্রা-আর্দ্রতার যুগল ‘আক্রমণে’ বেশ কাহিল ছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।

তবে এ তো আর অপ্রত্যাশিত কিছু না। ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়ের কণ্ঠে তাই এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার তাগিদ, ‘কী পরিমাণ ঘাম হচ্ছে, তা বোঝা যায় না। পরের মুহূর্তেই হয়তো অদ্ভুতুড়ে অনুভূতি হয়। তবে এ নিয়ে বেশি ভাবার কিছু নেই। নিজেদের কাজ করতে হবে। শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই তো অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ। এর মাধ্যমেই আমরা যেন শুক্রবারের (প্রথম ওয়ানডে) জন্য প্রস্তুত হতে পারি। ’ আর এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের সময় মনোযোগ যে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দাবি রাখে, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

বাংলাদেশও যেমন ইংল্যান্ডের কাছে পাচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের কাছে হেরেই তো গ্রুপ পর্বে বিদায় হয় দলটির। এর পর থেকে অবশ্য দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে ইংল্যান্ড। তবে বাংলাদেশে আসে তিন প্রতিষ্ঠিত তারকা এউইন মরগান, অ্যালেক্স হেলস ও জো রুটকে ছাড়া। প্রথম দুজন নিরাপত্তার কারণে, শেষের জনকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম। তবে ওই ত্রয়ী ছাড়াও ফর্মে থাকা তারকার অভাব নেই। জেসন রয় তেমনই একজন। ওপেনিংয়ে হেলসের সঙ্গে তাঁর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং বেশির ভাগ সীমিত ওভারের ম্যাচেই ইংল্যান্ডের ছন্দ ঠিক করে দেয়।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে হেলস নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের পর তিন সেঞ্চুরি করা জেসন রয় আসন্ন সিরিজে আরো বেশি রানের জন্য মুখিয়ে, ‘বছর দেড়েক ধরে অবিশ্বাস্য সময় যাচ্ছে। এর প্রতিটি মিনিট আমি উপভোগ করছি। তবে আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে। করতে হবে আরো অনেক রান ও সেঞ্চুরি। গড়পড়তায় সন্তুষ্ট থাকার লোক আমি নই। সব সময় আরো ভালো করতে চাই। আরো সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডকে জেতাতে চাই অনেক ম্যাচ। ’ হেলস না থাকায় তাঁর ওপেনিং সঙ্গীতে আসছে পরিবর্তন। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা বেন ডাকেট ও অভিজ্ঞ মঈন আলীর মধ্যে একজনই হয়তো নেবেন সে জায়গা। আজ বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বোঝা যাবে তা। ওপেনার হিসেবে যিনিই আসুন, তা প্রাপ্য বলে জানান জেসন রয়, ‘ডাকেট ও আরো কয়েকজনের সঙ্গে নেটে ব্যাটিং করেছি। ঠিক জানি না ওয়ানডেতে কার সঙ্গে ওপেন করব। যে-ই আসুক, তা তার প্রাপ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ তাদের। যদি ডাকেট আসে, তাহলে থিতু হওয়ার ব্যাপারে আমি তাকে সাহায্য করব। ’

তবে বিরুদ্ধ কন্ডিশন হোক আর ওপেনিংয়ে নতুন সঙ্গী, জেসন রয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শনে পরিবর্তন আসছে না কোনো। কাল সে ঘোষণা দিয়ে রাখেন জেসন রয়, ‘ব্যাটিংয়ের মানসিকতা বদলাব না, হয়তো টেকনিক্যালি দু-একটি জায়গায় মানিয়ে নেব। তবে চাইব দলকে ভালো শুরু এনে দিতে। প্রথম ১৫-২০ বল তাই আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন পর্যন্ত একটাই পূর্ণ নেট সেশন করলাম। দেখি, কালকের (আজকের) ম্যাচের পর কিভাবে সামনে এগোনো যায়। ’

ওই সামনে যত এগোবে, নিরাপত্তা ইস্যু পেছনে পড়ে যাবে তত। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারের কথাটি সত্য মনে হবে আরো বেশি করে।


মন্তব্য