kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০০ টাকার টিকিটে ভিআইপিতে!

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : শর্ষের ভেতরেই তাহলে ভূত! গত পরশু রাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের সময় ভিআইপি গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়া মাশরাফি বিন মর্তুজা ভক্ত মেহেদি হাসানের আসলে সেখানে বসার টিকিটই ছিল না। তাঁর কাছে পাওয়া গেছে ১০০ টাকা মূল্যের সাধারণ গ্যালারির টিকিট।

তাহলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের আশপাশের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড গ্যালারিতে তিনি গেলেন কী করে?

রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়তে পড়তে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর (অব.) হোসেন ইমাম, ‘১০০ টাকার টিকিট নিয়ে ছেলেটি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে ঢুকেছিল। আমাদেরই একজন তাকে এখানে নিয়ে এসেছিল। ’ সেই একজন কে, তা অবশ্য তিনি জানাতে চাননি। তবে মেহেদিকে সাধারণ গ্যালারির টিকিটে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে এনে বসিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকেও পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে বলে জানিয়েছেন ইমাম, ‘আমাদের যে তাকে ভেতরে নিয়ে এসেছিল, তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। পুলিশ তাঁর বাসায় অভিযান চালালেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ’

যাঁকে খোঁজা হচ্ছে, বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টা না বললেও একাধিক সূত্রে তাঁর নাম জানা গেছে। তাঁর নাম সুমন এবং আফগানিস্তান সিরিজের সময় তিনি কর্মরত ছিলেন বিসিবির লজিস্টিকস কমিটির অধীনে। মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পরশু রাত থেকেই লাপাত্তা। তবে তাঁর মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসার সুযোগ পাওয়া মেহেদি রাতেই পুলিশকে জানিয়েছেন কিভাবে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। মাঠ থেকে বের করে বিসিবির নিরাপত্তা কমিটির সদস্যরা মেহেদিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর থানায়। সেখান থেকে রাতেই আবার তাঁকে আনা হয় স্টেডিয়ামে।

এ জন্যই আনা হয়েছিল যাতে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে কিভাবে গেলেন, তা সরেজমিন দেখাতে পারেন। ১০০ টাকার টিকিটে যেখান দিয়ে ঢুকতে হয়, সেই পাঁচ নম্বর গেট দিয়েই স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ছাত্র। পরে সুমন তাঁকে লিফটে স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে নিয়ে বসিয়েও দিয়ে যান। অবশ্য মেহেদির মাঠে ঢুকে মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরার কাণ্ডে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও নিশ্চিত হওয়ার খবর দিয়েছেন বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টা, ‘আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি যে সে মাশরাফির পাগল ভক্ত। ’

যে কারণে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও কাল বিকেলে বলছিলেন, ‘ওই ছেলের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। ’ মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভুইয়া মাহবুব হাসানের কণ্ঠেও একই সুর, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে মেহেদির মাঠে নেমে পড়ার মধ্যে অসৎ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ছিল না নাশকতার কোনো পরিকল্পনাও। সে মাশরাফির ভক্ত। অধিনায়ক পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পর সে খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। পরে মাশরাফি উঠে দাঁড়িয়ে খেলার পর সে আর আবেগ সামলাতে না পেরে মাঠে ঢুকে পড়েছিল। ’ অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় গতকাল রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য