kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইংল্যান্ডের নতুন নেতৃত্ব নতুন চ্যালেঞ্জ

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইংল্যান্ডের নতুন নেতৃত্ব নতুন চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১১ মাস আগে, একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন ৩ রানে। অধিনায়ক হিসেবে এই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই বাংলাদেশে এসেছেন জস বাটলার।

নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক এউইন মরগান বাংলাদেশ সফরে আসতে অনিচ্ছুক থাকাতেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের এ সিদ্ধান্ত। এসব তো পুরনো খবর, সবশেষ খবর হচ্ছে বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনটা করে ফেলেছেন ল্যাংকাশায়ারের এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সেখানেই জানিয়েছেন চেয়ারের মানুষটা বদল হলেও লক্ষ্যটা বদল হয়নি। গত দুটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারসহ ওয়ানডেতে ম্যাড়মেড়ে দল হয়ে থাকা ইংল্যান্ড গত বছর দেড়েকে একদমই বদলে ফেলেছে খোলনলচে! মাঠে তারা খেলছে রোমাঞ্চকর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। নিজেদের কন্ডিশনে ভালো খেলতে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই ভালো খেলাটা ধরে রাখাই ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশ সফরে প্রথমবার মাইক্রোফোনের সামনে এসে এমনটাই বলে গেলেন বাটলার।

নটিংহ্যামে মাত্র এক মাস আগে, ওয়ানডের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়া ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামা দলের একটা বড় ফারাক থাকবে। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়া অ্যালেক্স হেলস এবং গত দেড় বছরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্টের বর্ষসেরার পুরস্কার পাওয়া জো রুট নেই। যাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে ওভারে ১২ রানের বেশি গড়ে ১৬১ রান স্কোরবোর্ডে জুড়েছিলেন বাটলার, সেই মরগানও তো নেই! ভালো খেলতে থাকা একটি দলের বিপক্ষে এই ত্রয়ীর অভাব ঘুচবে কী করে? উত্তরে বাটলার দেখিয়ে দিলেন তরুণদের, ‘গত বছর দেড়েক হেলস ও রুট ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাচ্ছিল। তাদের এখানে না থাকাটা অন্যদের জন্য একটা সুযোগ। দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ও রোমাঞ্চকর ক্রিকেটার আছে। ফলে দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেক। এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা বেন ডাকেট কাউন্টিতে অসাধারণ সময় কাটিয়েছে, ইংল্যান্ড লায়নসের হয়েও খেলেছে। স্যাম বিলিংসও জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছে, সেও লম্বা সময়ের জন্য দলে আসতে পারে। ’ এই নতুন এবং পুরনো, সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ উপমহাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেটে মানিয়ে নেওয়া। বাটলার বলছেন, এ ক্ষেত্রে কাজে দেবে দুবাইতে গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা, ‘কন্ডিশন আমাদের বেশ পরীক্ষাই নেবে। তবে গেল শীতে দুবাইতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি আমরা, সেখানকার পিচে আমরা ভালোই খেলেছি। আমাদের সব কন্ডিশনেই মানিয়ে নেওয়া এবং জিততে পারাটা শিখতে হবে। তবু আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেলতে চাই আর যত দ্রুত সম্ভব রান তুলতে চাই। আমার মনে হয় শুরুর ১০-১৫টি বল একটু সমস্যা হয়, এই সময়টা কাটাতে পারলে উইকেটের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা যায়, টাইমিংটাও বোঝা যায়। ক্রমাগত প্রান্তবদল করতে হবে কারণ বাউন্ডারি পাওয়াটা হয়তো কঠিনই হবে। যা-ই হোক, আমরা আমাদের খেলাটাই খেলব তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে। ’

দলে নতুন মুখ, অনভ্যস্ত কন্ডিশন...অধিনায়কের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলতে এ দুটি কারণই যথেষ্ট। আর সেই অধিনায়কও যদি হন নতুন তাহলে তো সংকট আরো গভীর! অভয় দিলেন বাটলার, ‘১৮ মাস ধরে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে আছি। মরগানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো, ক্রিকেট নিয়ে দুজনের চিন্তা একই রকম। অধিনায়ক হিসেবে সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আমার অপেক্ষায়, তবে অভিজ্ঞতা যত বাড়বে ততই বেশি দায়িত্ব আসবে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়াটা অনেক সম্মানের, আমি যত পারি দায়িত্বটা উপভোগের চেষ্টা করব। তবে এটা খুবই স্বল্পকালীন দায়িত্ব, মাত্র তো তিনটি ম্যাচ। অধিনায়ক হতে কেমন লাগে তারই একটা স্বাদ পাওয়া যাবে এই তিন ম্যাচে। ’

বছর ছয়েক আগেও বাংলাদেশে সবশেষ পূর্ণাঙ্গ সফরে ইংলিশরা এসেছিল সেসময়ের নিয়মিত অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে ছাড়াই। এবারেও ওয়ানডেতে নেই নিয়মিত অধিনায়ক মরগান। তবে প্রতিপক্ষের মনোজগতের তফাতটা আকাশপাতাল! তখন বাংলাদেশ ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো একটা দল। আর এখন দেশে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে রীতিমতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ! তাই অধিনায়কত্বের অভিষেকটা ফুল-চন্দনে আশা করছেন না বাটলার, ‘নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ খুব ভালো করছে, তাদের অনেক সাফল্য আছে। গত ১৮ মাস ধরে আমরাও রোমাঞ্চকর ক্রিকেটই খেলছি। আমাদের মনোযোগটা নিজেদের নিয়েই থাকে। আমরা বিশ্বের সেরা দল হতে চাই, সেটা হতে গেলে আমাদের সব কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে। ’

উপমহাদেশের প্রথাগত সব অসুবিধার সঙ্গে ইংল্যান্ডের সামনে এবার নতুন বাংলাদেশ। গরম, কন্ডিশন, স্পিন, নতুন মুখ—এমন সব কিছুর সঙ্গে এই বাংলাদেশকে সামাল দেওয়াটাই হবে বাটলারের আসল চ্যালেঞ্জ।


মন্তব্য