kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইনজুরির ভয় জয় করে তৈরি মাশরাফি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইনজুরির ভয় জয় করে তৈরি মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নানা রকম কুসংস্কারে ছেয়ে থাকে তাঁর মন। পরশু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দিন সকালে যেমন মনে দেয় ‘কু-ডাক’।

আর কী আশ্চর্য, ম্যাচে তো ঠিকই বোলিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন মাশরাফি বিন মর্তুজা!

ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে গিয়ে পড়ে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বোলিং করেন। অবশ্য তা ছোট রানআপে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা হয়তো তেমন নেই। তবে বোলিং অনুশীলনে ফিরতে আরো দু-এক দিন লাগবে বলে কাল জানান মাশরাফি, ‘পায়ে ব্যথা আছে। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। আরো দু-এক দিন হয়তো বোলিং করতে পারব না। তারপর, দেখা যাক কী হয়!’ টেলিফোনে এমনটা বলার ঘণ্টা দুয়েক পর বিসিবি থেকে পাঠানো হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের দল। তাতে অধিনায়ক যথারীতি মাশরাফি। সিরিজে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাতে কেটে যায় আরো।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেই বলে যান মনের ওই কু-ডাকের কথা। এর কোনো ব্যাখ্যা তাঁর কাছে নেই বলে কালও জানান মাশরাফি, ‘অন্য কোনো দিন তো এমন হয় না। কিন্তু কাল (পরশু) সকালে উঠে কেন যেন পুরনো ইনজুরির কথা মনে পড়ছিল। এ কারণে যখন পড়ে যাই, ভয় লাগে বেশ। যাহোক, বড় কিছু তো হয়নি। কয়েক দিন বিশ্রাম নিলে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। ’

এমনিতেই মাশরাফির ক্যারিয়ারের সমান্তরালে বয়ে চলে দীর্ঘশ্বাস। দুই হাঁটুতে সাত অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে খেলে চলা তো চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। আর তাঁর অধিনায়কত্বের সঙ্গে ইনজুরির কেমন যেন শাপযোগ রয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজে; ২০০৯ সালে। প্রথম টেস্টেই ইনজুরির শিকার। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড-স্কটল্যান্ড সফরে আবার নেতৃত্ব পান। সেখানে ঠিকঠাকই ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে চক্রের চক্র পূরণ করে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজেও অধিনায়কত্ব তাঁর কাছে। কিন্তু আবারও ইনজুরি। মাত্র এক ওভার বোলিং করেই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় মাশরাফিকে।

পরবর্তী সময়ে মাঠে ফেরেন, কিন্তু অধিনায়কত্বে আগ্রহী ছিলেন না তেমন। এমনকি এবারও মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে যখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পান, ওই কুসংস্কারের কারণেই ছিলেন কিছুটা দ্বিধায়। তা ঝেড়ে মাশরাফি নেন নেতৃত্ব। শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বর্ণসময়ের। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু। পরের বছর দুয়েকে ইনজুরি সামাল দেন ভালোভাবেই। অধিনায়ক হলেই ইনজুরিতে পড়তে হবে—ওই কুসংস্কার মন থেকে চলে যায় একরকম।

কিন্তু পরশু ম্যাচের সকালে যে মনে আবার সেই অশুভ সংকেত! আর সত্যি সত্যিও তো বোলিং করতে গিয়ে পড়ে যান মাশরাফি। পুরনো ব্যথা তাঁর সর্বাঙ্গে, ডান পায়ের গোড়ালিতেও ছিল। সেখানে আবার ব্যথা পাওয়ায় ফুলে ওঠে জায়গাটি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির বাংলাদেশ অধিনায়ক তবু বিশ্রামে যাননি। পরের দিকে বরং ছোট রানআপে বোলিং করেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে না হয় সেভাবে পার পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে পূর্ণ ফিট হয়েই মাঠে নামতে চান তিনি। সে জন্য আরো কিছুটা সময় পেলে ভালো হতো বলে জানান কাল, ‘গোড়ালিতে ফোলা আছে এখনো। সকাল থেকেই বুঝতে পারছি, হাঁটতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করি এটি বড় কিছু না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে তো আরো চার-পাঁচ দিন রয়েছে। আরো কয়েক দিন হাতে পেলে ভালো হতো। ’

ক্যারিয়ারের শুরুতে ঝড়ের মতো তাঁর আগমন। এরপর একের পর এক ইনজুরির ঝড়ে বিপর্যস্ত মাশরাফি। দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচারই করাতে হয় সাতবার। সঙ্গে টুকটাক কত ইনজুরি! নড়াইল এক্সপ্রেস তাতে গতি হারান। কিন্তু মনোবল নয়। এ কারণেই তো এবারও ভরসা রাখা যায়। গোড়ালির এই ইনজুরির কি আর সাধ্যি আছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে মাশরাফিকে দর্শক বানিয়ে দেওয়ার!


মন্তব্য