kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এ প্রদীপ নিভে যাবে না তো!

সনৎ বাবলা   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এ প্রদীপ নিভে যাবে না তো!

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দল ফাইনাল জিততে না পারলেও মানুষের হূদয় জিতে নিয়েছে। ফাইনালের ট্র্যাজেডি শেষে খেলোয়াড়দের কান্না দর্শক-সমর্থকদের হূদয় ছুঁয়ে গেছে।

সাধারণের ভালোবাসা এবং ফেডারেশনের বিশ্লেষণে রোমান-আশরাফুলরাই হকির নতুন আশা। জাগরণের নতুন সূত্রধর।

সাম্প্রতি কালে বাংলাদেশের হকিতে খুব আশা জাগানিয়া কিছু ছিল না। বরাবরের মতোই ম্যাড়মেড়ে, কখনো-কখনো কর্মকর্তাদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে বড় খবর হয়েছে হকি। কিন্তু এই বয়সভিত্তিক এশিয়া কাপে মাঠের খেলাটাই হয়েছে বড় খবর। স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়দের স্টিকে জেগেছ নতুন আশা। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক নিজের চোখে দেখেছেন, ‘আমাদের ছেলেরা এখন আর ভারত-পাকিস্তান নামে ভয় পায় না। বরং তারা এই পরাশক্তিদের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়দের এই অ্যাপ্রোচটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তাদের সঠিকভাবে লালন করা গেলে অবশ্যই সিনিয়র দলের চেহারা পাল্টে যাবে। ’ ভারতকে হারিয়ে চমক দিয়ে তারা টুর্নামেন্ট শুরু করে ফাইনালে নেহাত দুর্ভাগা বলে হেরেছে সেই ভারতের কাছে। এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছে যে একবারের জন্যও মনে হয়নি তারা এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে খেলছে।

এই দলকে নিয়ে তাই নতুন স্বপ্ন দেখেন সাধারণ সম্পাদক, ‘এদের নিয়েই তো এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে। তারা যেভাবে খেলছে তা ঠিক আছে। এখন তাদেরকে শুধু বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো কোচ-ট্রেনারের অধীনে রেখে আরেকটু পরিণত করে তুলতে হবে। কিন্তু আমাদের তো সেরকম সংগতির বড় অভাব। ’ যেমন ঢাকায় এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলটি মালয়েশিয়া সফরে যাবে। সেখানে ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে আরো পরিণত হবে। কিন্তু রানার্স-আপ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের জন্য এমন কিছু আয়োজনের সংগতি নেই ফেডারেশনের। তাই এমন একটা টুর্নামেন্ট খেলার পরও দলের সবার হাতে তুলে দিতে পারেনি সামান্য অর্থ। ৯ সিনিয়রকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিলেও বিকেএসপিতে পড়ুয়ারা কিছুই পায়নি। তাই রাজু-নাইমদের মন খারাপ হলেও আব্দুস সাদেকের প্রতিশ্রুতি, ‘সবাইকে আমরা দেব। টুর্নামেন্ট তো সবে শেষ হয়েছে, কয়েক দিন পরেই দেওয়া হবে। তাদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনাও করা হবে। কিভাবে এই দলটিকে আরো ভালোভাবে তৈরি করে সিনিয়র জাতীয় দলে রূপ দেওয়া যায়, সেটা নিয়েই আমরা চিন্তাভাবনা করছি। ’

মজার ব্যাপার হলো, এই খেলোয়াড়রা আস্তে আস্তে সিনিয়র জাতীয় দলে যাবে অথচ জাতীয় দলের জার্মান কোচিং স্টাফ বসে আছেন জার্মানিতে। ভবিষ্যতের খেলোয়াড়রা ভারতের সঙ্গে কেমন খেলছে, সেটা দেখারই সুযোগ হয়নি ওই কোচিং স্টাফদের। এই কোচিং স্টাফ চলে ফেডারেশনের নব্য সহসভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীরের নির্দেশনায়। তিনি চলেন তাঁর মতো অঙ্ক কষে! তাতে হকির আখেরে লাভ কী হবে, সেটা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক অবশ্য হকির তহবিল গঠনে বিসিবি সভাপতিকে পাশে পেয়েছেন, ‘বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ক্রিকেটের যেকোনো স্পন্সর চুক্তির সময় হকিকে ১০ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই হকির এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে না। ’ ফাইনাল শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মিডিয়ার কাছেও একই কথা বলেছেন। এর আগে অবশ্য তিনি হকি কোচের বেতন ক্রিকেট বোর্ড থেকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এভাবে দেশের একটি খেলা অন্যটির পাশে দাঁড়ালে এগোনো সহজ হয়। ফুটবলের রমরমা দিনে যেমন ফুটবল ফেডারেশন সহযোগী হয়েছিল ক্রিকেটের।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনূর্ধ্ব-১৮ দল উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ হকির নতুন দিগন্ত। তারা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে মাঠে খেলে। তাদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন ফেডারেশনের।


মন্তব্য