kalerkantho


এই বাংলাদেশই আসল বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এই বাংলাদেশই আসল বাংলাদেশ

ইতিহাস বলে তাঁর আশঙ্কা প্রায় সময়ই সত্যি হয়। সত্যি হলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও।

মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজেই বলছিলেন, ‘সকাল থেকেই কেমন যেন লাগছিল। ইনজুরি নিয়ে ভয় ভয় করছিল। ’

ইংল্যান্ড সিরিজ শুরুর পাঁচ দিন আগে সেই ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশেও। মোহাম্মদ শাহজাদকে বোল্ড করে ২৭৯ রান তাড়া করতে নামা আফগানিস্তানের ইনিংসে প্রথম ধাক্কাটি দেওয়ার পরপরই। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বল করতে গিয়েই বেকায়দায় পড়ে তাঁর ডান পা। তাতেই উইকেটের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান মাশরাফি। এই মাঠেই ২০১০ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পড়ে গিয়ে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন। ২০০৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের সময়ও তাই হয়েছিল। তাই আবারও মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়া ছিল স্বাভাবিক।

যদিও ফিজিওর শুশ্রূষায় উঠে দাঁড়িয়ে আবারও বোলিং করা মাশরাফি সবাইকে নির্ভারও করেছেন দ্রুতই। পরে অবশ্য জানিয়েছেন, ‘এই গোড়ালিতে আমার আগে থেকেই সমস্যা। পরে তো ছোট রানআপে বোলিং করলাম। ব্যথা আছে, ফুলেও গেছে। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ১০ দিন সময় পেলে ভালো হতো। ’ সেই সিরিজের আগে কাঙ্ক্ষিত ব্যাপারটি ঘটে যাওয়াও অধিনায়কের কণ্ঠে স্বস্তি ফুটিয়েছে। সিরিজ জিতে ইংলিশদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের পালেও জোর হাওয়া লাগিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

সেই হাওয়া লাগাল আফগানদের ১৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েই। সিরিজের প্রথম দুটো ম্যাচে অবশ্য লড়াই হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডিই। তবে কাল ওয়ানডেতে বাংলাদেশের শততম জয়টি যেভাবে এলো, সেটিকেই যেন স্বাগতিকদের সামর্থ্যের সত্যিকারের ছবি বলতে চাইলেন তামিম ইকবাল। শেষ ম্যাচে ১১৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া পুরো সিরিজে করেছেন ২১৮ রান। সুবাদে সিরিজসেরাও হওয়া এ বাঁহাতি ওপেনার রাতের সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের এভাবেই জেতা উচিত ছিল ওদের বিপক্ষে। কোনো সন্দেহই নেই যে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ম্যাচে ওরা ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ওদের থেকে কোনো কিছু নিয়ে নেওয়ার নেই। তবে আজ আমরা অনেক এগিয়ে ছিলাম ওদের চেয়ে। সামনের বড় সিরিজের আগে সবার আত্মবিশ্বাসও এই জয়ে ফিরল। ’

মাত্র ১ রানে জীবন পাওয়া তামিমও রীতিনীতি ভেঙে খেললেন বড় ইনিংস। হাসতে হাসতেই বলছিলেন, ‘জীবন পেলে আমি সাধারণত ভালো কিছু করি না। আমার রেকর্ডও তাই বলে। ’ তবে চাইলে আরো বড় কিছু করতে পারতেন তিনি। তা না পারার জন্য অনুতপ্ত তামিমের মধ্যে বড় কিছুর ক্ষুধা রয়ে যাওয়াটাও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষে ভালো কথাই, ‘আজ আমার ১৫০-১৬০ করার সুযোগও ছিল। এটা করতে না পারা আর কারো নয়, আমারই দোষ। আমি নিজেই করতে পারিনি। ’

তবে শেষ ম্যাচে দল যেটা পেরেছে, তাতে অধিনায়কের কথায় স্বস্তির হিমেল হাওয়াই বয়ে গেল যেন, ‘সিরিজের শুরু থেকে আমরা এভাবেই খেলতে চেয়েছি। তৃতীয় ম্যাচে এসে খেলতে পারলাম। আশা করি, এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনের ম্যাচগুলো খেলতে পারব। ’ সাড়ে আট বছর পর দলে সুযোগ পেয়েই খেলতে নামা ২৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনও আত্মবিশ্বানের জোগান দিয়েছেন বলে দাবি অধিনায়কের, ‘এই পারফরম্যান্স ওর জন্য যেমন, তেমনি দলের জন্যও ইতিবাচক। কারণ ও এসেছে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে। সেখান থেকে এসে কেউ যদি পারফরম করে, তখন দল আরো চাঙ্গা হয়। ওকে যে ভূমিকা রাখার জন্য আনা হয়েছে, সেটি রাখতেও পেরেছে। আশা করি, সামনে আরো ভালো করবে। ’

আশঙ্কা পেরিয়ে আসা অধিনায়ক নিশ্চয়ই চাইবেন যে তাঁর এ আশাও পূরণ হোক!


মন্তব্য