kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন চূড়ায় তামিম ইকবাল

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন চূড়ায় তামিম ইকবাল

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিরতি অন্য কারো ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি করে থাকতেও পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নেওয়া লম্বা বিরতি অন্তত তামিম ইকবালের ফর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি।

পারলে গত মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে করা টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির এত দিন পর এই আফগানিস্তান সিরিজেও এভাবে ঔজ্জ্বল্য ছড়াত না তাঁর ব্যাট।

তাঁর ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিলেন ফ্লপ। আফগানিস্তান সিরিজও সাতক্ষীরার তরুণের জন্য ব্যর্থতায় শেষ হলেও তামিমের ব্যাটে হেসেছে রান। অবশ্য ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই তাঁর ব্যাটে নিয়মিতই বড় ইনিংসের দেখা মিলছে। এই বছর দেড়েকের মধ্যেই টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, একই ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি এবং টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি যেন পূর্ণ মহিমায় প্রস্ফুটিত তামিমকেই তুলে ধরছে।

অন্যদের মতো তাঁর জন্যও আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল প্রায় ১১ মাস পর খেলতে নামা প্রথম ওয়ানডে। না খেলার অনভ্যাস ও জড়তা ঝেড়ে তিনি ঠিক ৯৮ বলে ৮০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছিলেন। ওই ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ম্যাচের শেষে। যে ম্যাচটি বাংলাদেশ কোনো রকমে জেতার পর তামিমও হয়ে গিয়েছিলেন বড়জোর ‘পার্শ্বনায়ক’। সাকিব আল হাসানের ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া বোলিং এবং নিজের প্রথম ৬ ওভারে ৪৯ রান খরচ করা তাসকিন আহমেদের শেষের দিকে ২ ওভারে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার সাফল্য যে কিছুটা আড়ালই করছিল তাঁর ইনিংসকে।

অথচ মাত্র ৭ রানে জেতা ম্যাচটিতে তামিমের ৮০ রানের ইনিংস না হলে বাংলাদেশের হেরেই যাওয়ার কথা ছিল। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ঠিক ঠিক হেরে যাওয়ার পর মান বাঁচানোর ম্যাচে তামিম ঠিকই আবার জ্বলে উঠলেন। অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বলে মাত্র ১ রানে আসগর স্ট্যানিকজাইয়ের সৌজন্যে পাওয়া জীবনের মর্ম বোঝা ব্যাটিংও করেছেন। এবার আর সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েই থামেননি। সেঞ্চুরিও করেছেন। তার পরও পরিসংখ্যান একটি আফসোসের জায়গা ঠিকই চিহ্নিত করে রাখছে।

১১৮ বলে ১১ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১১৮ রানের ইনিংসটি আরেকটু বড় হলে যে তামিমের মাঝখানে মুশফিকুর রহিম ঢুকে পড়তে পারতেন না। মুশফিক কিভাবে ঢুকে পড়লেন? শুনুন তাহলে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পরপরই দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে তামিমের ইনিংসগুলো ছিল ১৩২, ১১৬* ও ৬৪ রানের। সব মিলিয়ে তাঁর ৩১২ রান তিন ম্যাচের সিরিজে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২০ রান ওই একই সিরিজে করেছিলেন মুশফিক। এই আফগানিস্তান সিরিজে তামিম করলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১৮ রান। কাল আর ৩টি রান বেশি করলেই তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় নামটি তামিমেরই হতো।

তা না হলেও আরেকটি ক্ষেত্রে কাল ঠিকই ‘প্রথম স্থান’ দখল করে নিয়েছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। আগে থেকেই তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি তাঁর দখলে। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭টি সেঞ্চুরি তাঁরই। টি-টোয়েন্টিতে তো বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটে দেখা সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশেরই একমাত্র। আর ওয়ানডেতে এত দিন ছয়টি করে সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি আর সতীর্থ সাকিব আল হাসান ছিলেন একই সমতায়। কাল করে ফেললেন তারকা অলরাউন্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়া সেঞ্চুরিটিও। তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের রেকর্ডটিও এবার তাঁর হয়ে গেল।

তা হওয়ার পথে আরো কিছু সেঞ্চুরি না পাওয়ার বেদনাও তাঁর হূদয়ে বাজার কথা। গত বছর পাকিস্তান সিরিজে পর পর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তামিম ১২ ম্যাচ পর পেলেন আরেকটি সেঞ্চুরি। এই সময়ের মধ্যে ফিফটিই করেছেন পাঁচটি। এর মধ্যে গত বছর জুলাইতে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করা ম্যাচটিতে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসটি অবশ্য আর বড় করার উপায়ও ছিল না। প্রোটিয়াদের ১৬৮ রান তাড়ায় ম্যাচটি জিতিয়েই ফিরেছিলেন তামিম। তবে এর মধ্যে আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচটির মতো সেঞ্চুরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা মিস করার নজিরও আছে বেশ কয়েকটিই। তাই সেঞ্চুরির সংখ্যা আরো বাড়েনি।

তা না বাড়লেও তামিমের ফর্মটা ছিল এবং এখনো আছেও!


মন্তব্য