kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

স্রেফ দুর্ভাগ্যের কাছে হেরেছি

ফাইনালে শেষ মিনিটের গোলে হৃদয় ভেঙে গেছে বাংলাদেশ দলের। আর ম্যাচ ফেরার সুযোগ ছিল না বলে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকির শিরোপাটা শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতেই উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশ খেলেছে মনে রাখার মতো খেলা। ১২ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন স্বাগতিক দলের আশরাফুল ইসলাম। স্বপ্নভঙ্গের পর এই বাংলাদেশের পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট মুখোমুখি হয়েছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্রেফ দুর্ভাগ্যের কাছে হেরেছি

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এত ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত পারলেন না।

আশরাফুল ইসলাম : আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

এই ম্যাচে যেকোনো দল জিততে পারত। আমরা হেরেছি স্রেফ দুর্ভাগ্যের কারণে। ফাইনাল হারার মতো খেলেনি আমরা।

প্রশ্ন : ভারতকে আগে হারানোয় আত্মবিশ্বাসের জায়গায় আপনারা এগিয়েও ছিলেন।

আশরাফুল : আমার মনে হয়, ওদের চেয়ে ফাইনালে আমরা বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। নিজেদের ভেতর টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষুধাও ছিল। ভালো খেলে শেষ মিনিটে হেরে গেছি। আসলে ওই সময়ে গোল হতে পারে, এটা আমাদের মাথায় ছিল না। ম্যাচ পেনাল্টি শ্যুট-আউটে যাচ্ছে, এরকমই ধারণা ছিল সবার।

প্রশ্ন : ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ অনেক পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল। ফাইনালে মাত্র তিনটি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছে। এত কমে যাওয়ার কারণ?

আশরাফুল : প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি কর্নারের কারণে হেরেছে বলেই এই ম্যাচে তারা বাড়তি সতর্ক ছিল এ ব্যাপারে। আমাদেরকেও স্ট্রাইকিং জোনে গিয়ে পেনাল্টি আদায়ের সুযোগ দেয়নি। এ জায়গায় অনেক উন্নতি করেছে তারা। এর পরও এ ম্যাচে আমরা তিনটি থেকে দুটি গোল বের করেছি। কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না।

প্রশ্ন : পেনাল্টি কর্নারের সুবাদে ১২ গোল করে আপনি হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এত ভালো পেনাল্টি কর্নার মারার কারণ কী?

আশরাফুল : আসলে এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। গত দুই মাস তো আমি পেনাল্টি কর্নার মারা প্র্যাকটিস করেছি। অনেক বৈচিত্র্য যোগ করার চেষ্টা করেছি, সামনেও করব। আধুনিক হকিতে গোলের একটা বড় অস্ত্র হলো পেনাল্টি কর্নার। ইউরোপীয় দলগুলো এ সুযোগটা খুব ভালোভাবে নেয়।

প্রশ্ন : প্রতিপক্ষ ভারত কেমন খেলেছে ফাইনালে?

আশরাফুল : তারা ভালো খেলেছে। ফাইনাল ম্যাচটি খুব উপভোগ্য হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের সঙ্গে তারা আগে একটি ম্যাচ খেলার সুবাদে অনেক কিছু শুধরে নেমেছিল ফাইনাল খেলতে। আমরাও অবশ্য পেনাল্টি কর্নারের চেয়ে ফিল্ড গোলের দিকে বেশি ঝুঁকেছিলাম এই ম্যাচে।

প্রশ্ন : আপনাদের দলটা তো পুরোপুরি বিকেএসপির। না-কি?

আশরাফুল : বিকেএসপিতে সেই ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে খেলছি। অনেকে বিকেএসপি ছেড়ে এলেও একসঙ্গে খেলার সুবাদে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো। একে অন্যকে খুব ভালোভাবে চেনে-জানে, এটাই আমাদের সুবিধা। এ জন্যই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা ছিল খেলায়।


মন্তব্য