kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবাহনী-শেখ জামালের রোমাঞ্চকর ড্র

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিলেট থেকে প্রতিনিধি : এই নিয়ে মাত্র দুটি ম্যাচে শেখ জামালের কোচের চেয়ারে বসেছেন স্টেফান হ্যানসন। অল্পসময়েই বুঝতে পেরেছেন, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর চেয়ে তাঁর সমস্যাটা একটু আলাদা! অন্য দলগুলো যেখানে গোলের জন্য মাথাকুটে মরছে, সেখানে শেখ জামালের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা গোল পাচ্ছেন নিয়মিতই।

কিন্তু হতাশ করছে রক্ষণ। সিলেট-পর্বে শেখ জামাল ২ ম্যাচে করেছে ৮ গোল, হজম করেছে ৭টি। এই বিপরীত সমস্যার কথাই আবাহনীর সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর বলে গেলেন শেখ জামালের সুইডিশ কোচ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জেতেনি কোনো দলই, দুই দলের কোচের কণ্ঠেই ১ পয়েন্ট পাওয়ার তৃপ্তির চেয়ে ২ পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপ।

দুই দলেই মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড়, ইউরোপিয়ান কোচ এবং পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে থাকা শেখ জামালের পরের জায়গাটা আবাহনীর। সব মিলিয়ে দারুণ দ্বৈরথের হাতছানি, যার প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠের খেলাতেও। গোল হয়েছে ৬টি, গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে আরো অনেক এবং দেখা গেছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তের গতিশীল ফুটবল। প্রথমার্ধের শেষ অঙ্ক যেন নিয়ে বসেছিল সব উত্তেজনা! ৪২ মিনিটে ওয়েডসন অ্যানসেলমের গোলে শেখ জামালের এগিয়ে যাওয়া, গোলের পর স্যালুট ঠুকে তাঁর ট্রেডমার্ক উদ্যাপন। তবে বেশিক্ষণ সুখ সইল না পূর্ব গ্যালারিতে ব্যানার নিয়ে আসা শেখ জামাল সমর্থক গোষ্ঠীর। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে দারুণ গোলে সমতা ফেরান আতিকুর রহমান ফাহাদ। এক মিনিট পরই শেখ জামালের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়ে যায় আবাহনী, বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল করেন মোহাম্মদ লিঙ্কন। তাঁকে অবশ্য খলনায়ক হতে দেননি গোলরক্ষক মাকসুদুর রহমান মোস্তাক, বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন অ্যান্ড্রু লি টাকের শট। তবে প্রায়শ্চিত্ত করতে বেশি সময় নেননি এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে করা গোলে আবাহনীকে এগিয়ে দেন লি। তার আগে অবশ্য ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ড। শেখ জামালের খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাতাহাতি করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ফাহাদ, কার্ড দেখে রেফারিকেও শুনিয়েছিলেন দুকথা। তাতেই আরেকটা হলুদে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ফাহাদকে।

বিরতির পর সানডে চিজোবার গোলে ব্যবধানটা ৩-১ করে ফেলেছিল আবাহনী, কিন্তু ১০ জনের দল নিয়ে ধরে রাখতে পারেনি লিডটা। ৫৬ মিনিটে ল্যান্ডিং দারবোয়ের গোল আর ৭৬ মিনিটে ওয়েডসনের ম্যাচে দ্বিতীয় গোলে ৩-৩ করে ফেলে শেখ জামাল। এরপর তৈরি হয়েছে অনেক সুযোগই, কিন্তু গোল করতে পারেনি কোনো পক্ষই। আবাহনী কোচ জর্জ কোটানের দৃষ্টিতে ‘লিগের প্রথম ম্যাচের সেরা ম্যাচে’ দর্শক ৬ গোল দেখলেও দুই দলের ভাগে মাত্র ১ পয়েন্ট করে। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের ১ পয়েন্ট করে বাড়লেও ব্যবধান কমেনি।

 


মন্তব্য