kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

রাজুকে আগেই টেক্সট পাঠিয়েছিলাম

অপেক্ষায় থাকতে থাকতে যখন একরকম হালই ছেড়ে দিচ্ছিলেন, তখনই আচমকা তাঁর জন্য খুলে গিয়েছিল আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার পথ। সেই পথ ধরে সাড়ে আট বছর পর বাংলাদেশ দলে প্রত্যাবর্তন মোশাররফ হোসেন-এর। আফগানিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচে দলভুক্ত হওয়া এ বাঁহাতি স্পিনার কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়েও বিস্ময় লুকাতে পারছিলেন না

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজুকে আগেই টেক্সট পাঠিয়েছিলাম

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : নিজের কাছেও কি এই সুযোগ পাওয়াকে রূপকথা মনে হচ্ছে না?

 

মোশাররফ হোসেন : তা তো অবশ্যই। এত দিন পর এভাবে সুযোগ পাওয়াটা রূপকথার মতোই।

প্রশ্ন : সত্যি করে বলুন তো আজ থেকে দুই মাস আগেও আপনি এমন কিছুর কথা ভেবেছিলেন কি না?

মোশাররফ : দুই মাস আগে তো দলের আশপাশেই ছিলাম না। ওই সময় পর্যন্ত ভাবনাটা এমন ছিল যে যত দিন পারি মনের আনন্দে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাব এবং চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার। এরপর সুযোগ হলে হবে, না হলে নেই। সত্যি বললে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্নটা সেভাবে দেখিনি।

প্রশ্ন : দলে সুযোগ পাওয়ার পর ভেংকটপতি রাজুকে ফোন দিয়েছিলেন?

মোশাররফ : ওনার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আরো আগেই হয়েছে। ৩০ জনের প্রাথমিক দলের বাইরে থেকেও যখন আমি ২০ জনের দলে ঢুকে গেলাম, তখনই রাজুকে টেক্সট পাঠিয়ে খবরটি জানিয়েছিলাম। উনি আমাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। এইচপির (হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের) স্পিন উপদেষ্টা হিসেবে এসে উনি আমার বোলিং খুব পছন্দ করেছিলেন।

প্রশ্ন : বলা যেতে পারে, তাঁর হাত ধরেই আপনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম হতে চলেছে।

মোশাররফ : একদম তাই। ওনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। উনি বলে না গেলে হয়তো আমার কথা কারো মনেই পড়ত না। আমি তো কলকাতায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। ডাক পেয়েই তত্ক্ষণাৎ ক্যাম্পে যোগ দিতে দেশে ফিরে আসি। এরপর আমি পরিশ্রম করেছি এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো বোলিংও করেছি। তবে তিনি আমার নামটি সুপারিশ করে না গেলে এর কিছুই হতো না। নতুন করে শুরুটা ওনার হাত ধরেই।

প্রশ্ন : ৩৫ বছর বয়সে আপনার সুযোগ পাওয়াটা আরো অনেককে কী বার্তা দিতে পারে বলে মনে করেন?

মোশাররফ : আমার সুযোগ পাওয়াটা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি উদাহরণও। আমি যে বয়সে সুযোগ পেয়েছি, সেই বয়সে বাংলাদেশে সাধারণত কারো সুযোগ হয় না। ৩০-এর পর একটু খারাপ করলেই আর বিবেচনা করা হয় না। এতে করে অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং এর প্রভাব ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সেও পড়ে। এতে দেখা যায় ক্লাবও সেই খেলোয়াড়কে নিতে চায় না। আমি যেমন হতাশ না হয়ে আগ্রহ নিয়ে খেলে গেছি আর আশা করেছি, যেকোনো সময়ে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছেও। তাই তরুণদের বলব, ওরা যেন আশাটা হারিয়ে না ফেলে।


মন্তব্য