kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জয়ের আলোয় শেখ রাসেল

সামীউর রহমান, সিলেট থেকে   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জয়ের আলোয় শেখ রাসেল

অবশেষে জয়! তপ্ত মরুর বুকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো প্রশান্তি এনে দেওয়া জয়। খরা শেষে জীবনের সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে আসা জয়ের আনন্দ।

টানা হারের বৃত্তে পাক খেতে থাকা শেখ রাসেল একটি জয়ের প্রত্যাশায় কত কি না করেছে! কোচ বদলেছে, গিয়েছে শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.)-এর দরগায়। খুব করে স্রষ্টার আনুকূল্য চেয়েছেন কোচ, খেলোয়াড় কর্মকর্তা সবাই। সবার চাহিদাই কাল মিলেছে একবিন্দুতে। পল এমিলের একমাত্র গোলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে শেখ রাসেল।

ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকা মোহামেডান এখন ক্ষয়িষ্ণু শক্তি, অন্যদিকে মাঠের শক্তিতে এগিয়ে শেখ রাসেল। জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ আতিকুর রহমান মিশু, ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে খেলতে আসা জামাল ভুঁইয়া ও দেশসেরা ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলিকে নিয়ে শক্তিশালী দলই গড়েছিল শেখ রাসেল। শুরু থেকে দায়িত্বে ছিলেন কোচ মারুফুল হক। ম্যানেজমেন্টের ঐকান্তিক চেষ্টা ও মাঠে খেলোয়াড়দের আপ্রাণ প্রচেষ্টার পরও দুর্ভাগ্য শুরু থেকেই সঙ্গী শেখ রাসেলের। কখনো রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত, কখনো একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট, কখনো বা দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোট। প্রিমিয়ার লিগে একে একে গড়িয়ে যায় আটটি ম্যাচ। তাতে জয়ের দেখা আর পাওয়া হয়নি শেখ রাসেলের। কর্ণফুলীর তীর থেকে ব্রহ্মপুত্রের পাড় হয়ে মাঝে বুড়িগঙ্গাপাড়ের ঢাকা হয়ে প্রিমিয়ার লিগের খেলা হচ্ছে সিলেটে। এখানে এসেই ভাগ্যবদল, শেখ রাসেল পেল এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়ের দেখা।

টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ছিল ম্যাচের প্রথমার্ধ। দুই দলই সমানতালে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি দর্শকরা। মোহামেডানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি পল এমিল-সাখাওয়াত হোসেন রনিরা। দিদারুল আলম-পমি ল্যান্ড্রিরা মিলে আটকে দিয়েছেন তাদের। মোহামেডানের আক্রমণের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা। মাশুক মিয়া ও তৌহিদুল আলমের গোলমুখী প্রচেষ্টাগুলো আটকে দিয়েছেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ও দলীয় অধিনায়ক আতিকুর রহমান এবং গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে শেখ রাসেল। ফলও আসতে দেরি হয় না। ম্যাচের আগের দিন, পুলিশ লাইন মাঠের অনুশীলনে ম্যাচ প্র্যাকটিসের পর আলাদা করে সেটপিস অনুশীলন করিয়েছিলেন কোচ মানিক। ৫১ মিনিটে শেখ রাসেল গোলের দেখা পায় সেই সেটপিস থেকেই। ডানপ্রান্তে সাইডলাইনের একটু সামনে, গোলপোস্টের কৌণিক অবস্থানে ফ্রিকিক পেয়েছিল শেখ রাসেল। মোনায়েম খান রাজুর ফ্রিকিক থেকে নেওয়া হাওয়ায় ভেসে আসা ক্রসটা বাঁদিকের পোস্টে দাঁড়ানো পল এমিল পেয়ে যান ফাঁকায়। লাফিয়ে কৌণিক হেডে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে শেখ রাসেল সমর্থকদের আনন্দে ভাসান ক্যামেরুনের এই অদম্য সিংহ। পরের মিনিটেই সাখাওয়াত হোসেনের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ধরে ফেলেন গোলরক্ষক। খানিক পরেই দুজনকে কাটিয়ে এমিলের বাড়ানো থ্রু ধরে সাখাওয়াত হোসেন গোলরক্ষককে কাটিয়ে গড়ানো শট নিলেও সেটা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় মোহামেডানের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধের ৩৮তম মিনিটে ফরোয়ার্ড মিঠুন চৌধুরীর ডান পায়ের গোলমুখী শটটি ধরে ফেলেন মোহামেডান গোলরক্ষক নেহাল। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া পল এমিলের শট চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে। এমন অনেক প্রচেষ্টার পর যদিও আর গোল পায়নি শেখ রাসেল, তবে গোল হজমও করতে হয়নি তাদের। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই শেখ রাসেল ডাগআউটে কাঁদতে দেখা যায় অনেককে। তবে এই কান্না সুখের, অনেক হারের পর পাওয়া জয়ের আনন্দাশ্রু।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে পরিতৃপ্ত মানিক, ‘অবশেষে জয় ধরা দিল। সিলেট পুণ্যভূমি, এখান থেকে ভালো কিছু নিয়েই ফিরছি আমরা, দুই ম্যাচ থেকে পেয়েছি ৪ পয়েন্ট। আশা করছি এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হবে শেখ রাসেলের। ’


মন্তব্য