kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাইপেকেও উড়িয়ে ফাইনালের স্বপ্ন

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাইপেকেও উড়িয়ে ফাইনালের স্বপ্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেমিফাইনালই শেষ হয়নি। তার আগেই ফাইনাল চিন্তা! হ্যাঁ, বাংলাদেশ দলের কোচ কাম ম্যানেজার কাওসার আলীই কাল গড়গড় করে বলে দিচ্ছেন, ‘চাইনিজ তাইপেকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা নেই।

ফাইনালে আমি ভারতকে চাই। ’ তার আগের দিন ওমান ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ফজলে রাব্বি বলেছিলেন, ‘ফাইনালে পাকিস্তানকে চাই। ’

 

কোচ-খেলোয়াড়ের কথায় পরিষ্কার সেমিফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশের কোনো সংশয় নেই। চাইনিজ তাইপে স্বাগতিকদের ফাইনালে পথের কাঁটা হতে পারবে না। তাহলে ১৬ বছর পর আবার স্বপ্নের দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ। ২০০০ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে তৃতীয় হওয়া দলটি এবার নিজেদের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। মালয়েশিয়ায় প্রথম আসরের পর বাংলাদেশ পরের দুটি আসরে অংশই নেয়নি। গত দুই আসরে গরহাজির বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দল এবার প্রথম ম্যাচ থেকেই দুর্বার। ভারতকে হারিয়ে চমক দিয়েই হয়েছে স্বাগতিকদের শুরু। দলের ভেতরের যে বাতাবরণ তাতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে, আজ প্রথম সেমিফাইনালেও চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে সেই দাপট অক্ষুণ্ন থাকবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালের পর বিকেল ৩টায় টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।

তুলনায় প্রথম সেমিফাইনাল হয়ে যেতে পারে একদম একপেশে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্র্যাকটিস ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৯-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের এই দলটি। সংগত কারণেই তুমুল লড়াইয়ের আবাহন নেই। এর পরও সর্বশেষ গ্রুপ ম্যাচে চিনের সঙ্গে ড্র করা চাইনিজ তাইপের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন প্রধান কোচ কাওসার আলী, ‘তাইপে গ্রুপ ম্যাচগুলোতে খারাপ খেলেনি। তারা খুব শক্তিশালী দল নয়, তার পরও হালকাভাবে নিচ্ছি না। গ্রুপে আমরা যেভাবে মনোযোগ দিয়ে খেলেছি, সেটার ধারাবাহিকতা চাই সেমিফাইনালেও। ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে তারা ভারতের মতো পরাশক্তিকে কাবু করেছে আশরাফুল ইসলামের পেনাল্টি কর্নারে। এটা বড় শক্তির জায়গা স্বাগতিকদের। পরের ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে খেলেছে অন্যখেলা, চমৎকার প্রদর্শনী করেছে ফিল্ডগোলের। কোচও মনে করেন সামর্থ্যের দিক থেকে এই দল অনেকখানি এগিয়ে, ‘ছেলেরা অনেক দিন একসঙ্গে অনুশীলন করেছে। একে অন্যকে চেনে খুব ভালোভাবে। এই টুর্নামেন্টের জন্য তাদের ট্যাকটিক্যালি যেভাবে তৈরি করা হয়েছে সেভাবেই খেলছে। সেমিফাইনালেও আশা করি তার ধারাবাহিকতা দেখা যাবে। ’ স্বাগতিক দলের সবারই বেড়ে ওঠা বিকেএসপিতে, ওখানেই হয়েছে তাদের হকি শিক্ষা। সুবাদে দল হিসেবে তারা একাট্টা। দলের অধিনায়ক রোমান সরকারের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, ‘প্রথমত দলে কোনো ইনজুরি নেই। দলের ভেতর অন্য রকম এক স্পিরিট কাজ করছে এখন। চাইনিজ তাইপে আমাদের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। ’

তাদের স্বপ্ন ফাইনাল খেলা। স্বপ্নের পথে চাইনিজ তাইপে মোটেও বড় বাধা নয়। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের ম্যাচ নিয়ে এখন থেকেই কোচ শুরু করেছেন অনেক চিন্তাভাবনা, ‘টুর্নামেন্টে সাত দলের খেলা দেখেছি। ভারত ও পাকিস্তানের খেলা দিন দিন ভালো হয়েছে। আশা করি তাদের সেমিফাইনালটা অনেক উপভোগ্য হবে। ফাইনালে ভারতকে চাই। ’ ভারতকে চাওয়ার কারণ, শুরুতে তাদের হারিয়ে একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে স্বাগতিকদের। তা ছাড়া পাকিস্তানও ভীষণ শক্তিশালী, গত পরশু হংকংকের জালে ১৪ গোল করেছে তারা। তাই পাকিস্তান এড়াতে পারলেই তারা ভালো মনে করছে।


মন্তব্য