kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শুরুর আগেই অনেক প্রশ্নে বিপিএল

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শুরুর আগেই অনেক প্রশ্নে বিপিএল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনাকাঙ্ক্ষিত ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ অর্থাৎ স্বার্থের সংঘাত এড়াতে গতবার বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) কোনো দলের হয়ে নির্বাচকদের কাজ করায় বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে মুক্ত করে দিল তাঁদের চাকুরে নির্বাচকদের।

যদিও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে থাকা বিদেশি সদস্যদের ক্ষেত্রে সে নিষেধাজ্ঞা বহালই রাখা হয়েছে বলে গতকাল দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দায় মল্লিক, ‘জাতীয় দলের বিদেশি কোচ ছাড়া সবাই অর্থাৎ নির্বাচক, স্থানীয় কোচ এবং ট্রেনার, সবাই যেকোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। ’ নির্বাচকদের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে থাকার একটি সীমা অবশ্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ‘ম্যাচের দিন নির্বাচকরা ড্রেসিংরুমে থাকতে পারবেন না। তবে দল গঠনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা থেকে শুরু করে নানা ধরনের পরামর্শ দিতে পারবেন। ’

যত দূর জানা গেছে ঘোষণা আসার আগেই বিপিএলে নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ঠিক করে ফেলেছেন মিনহাজুল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির অন্তত দুজন। প্রধান নির্বাচক তাঁর দল এখনো চূড়ান্ত না করলেও অন্য দুই সহযোগী হাবিবুল বাশার এবং সাজ্জাদ আহমেদের ঠিকানা ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের চতুর্থ আসরের নতুন দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা ও রাজশাহী। নির্বাচকদের ক্ষেত্রে বিসিবি চমকিত হওয়ার মতো অবস্থান বদল করলেও আগামীকাল লটারিভিত্তিক প্লেয়ার্স ড্রাফটের জন্য আকর্ষণ বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মূল আকর্ষণ অবশ্যই স্থানীয় শীর্ষ ক্রিকেটাররা। গতবার লটারির মাধ্যমে ছয় ‘আইকন’ ক্রিকেটারকে ছয়টি দলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল। এবার একটি কমে (সিলেট) দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়ায় এই ক্যাটাগরির খেলোয়াড় সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে সাত। তবে এবার তাঁদের রাখা হয়েছে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির আওতায়। গত এক-দেড় বছরে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া সাতজনের সেই তালিকা থেকে নাসির হোসেন ছিটকে পড়েছেন। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ ও মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে এবার ঢুকেছেন সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার।

কিন্তু তাঁরা কে কোন দলে, সেটি ঠিক হওয়ার জন্য লটারির অপেক্ষা আর নেই। এবার আগেই তাঁদের গন্তব্য ঠিক হয়ে যাওয়া নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে নানা প্রচারও আছে। বিশেষ একটি দলের সুবিধার্থেই এই নিয়ম করা হয়েছে বলেও জোর আলোচনা। সাকিবের নতুন গন্তব্য ঢাকা ডায়নামাইটসের মালিক বেক্সিমকো গ্রুপেরই চাকুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এবং বিপিএল সদস্যসচিব। যদিও মল্লিকের দাবি তারকা ক্রিকেটারদের চাহিদা মেনেই এই ব্যবস্থা, ‘সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে মাশরাফির নেতৃত্বে পাঁচজন আমাদের কাছে এসেছিল। মূল্য নির্ধারণ করার পর ওদের নিজেদের পছন্দমতো দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার অনুরোধ ওরা করেছিল। যাতে নির্ধারণ করা মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা ওরা পেতে পারে। ’

সেই স্বাধীনতা দেওয়াতেই নাকি এবার লটারির আগেই দল ঠিক হয়ে গেছে তারকা ক্রিকেটারদের। এঁদের সবচেয়ে বেশি ৫৫ লাখ টাকা মূল্য ধরা হয় সাকিবের। তামিম-মুশফিক-মাহমুদ-মাশরাফিদের প্রত্যেকের ৫০ লাখ টাকা দাম ধরা হয়েছে। আর দুই তরুণ সাব্বির-সৌম্যর মূল্য ৪০ লাখ টাকা। এঁদের মধ্যে সাকিবের দাম বাড়িয়ে ধরার কারণ অনুমিতই, ‘সাকিব আমাদের একমাত্র খেলোয়াড় যে বিদেশি সব লিগেই খেলে। ওর মূল্য তাই অন্যদের চেয়ে বেশি হওয়া স্বাভাবিক। ’

যদিও ঢাকা ডায়নামাইটস নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি দিয়েই সাকিবকে নিয়েছে বলে গুঞ্জন আছে। তবে কাল দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের পর সেটিকে আর গুঞ্জন বলার উপায় নেই। বিপিএল সদস্যসচিব এটিকে সত্যতাই দিয়ে দিলেন, ‘সাকিব নিশ্চয়ই ৫৫ লাখে যায়নি। তামিমও নিশ্চয়ই চট্টগ্রামের কাছ থেকে ৫০ লাখ নেয়নি। ওরা নিজেদের পছন্দে দল বেছে নেওয়ার সুযোগ চেয়েছে। আমরা দিয়েছিও। ’ দিলেও পুরো টাকার দায়িত্ব বিসিবি নিচ্ছে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মল্লিক, ‘অতিরিক্ত দায়ভার বোর্ড নেবে না, নেবে শুধু নির্ধারিত মূল্যেরটাই। এখন এই সাতজন দলের সঙ্গে আলোচনার করে যা বাড়িয়ে নেওয়ার নিতে পারে। ’ তামিম যেমন চিটাগাং ভাইকিংসে, তেমনি মাশরাফিও রয়ে গেছেন তাঁর আগের দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে। মুশফিক বরিশাল বুলসে আর মাহমুদ উল্লাহ খুলনা টাইটানসে। দুই তরুণের মধ্যে সৌম্যর ঠিকানা রংপুর রাইডার্স ও সাব্বিরের রাজশাহী।


মন্তব্য