kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তরুণ মোসাদ্দেকে ‘মুখরক্ষা’!

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তরুণ মোসাদ্দেকে ‘মুখরক্ষা’!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মুশফিকুর রহিমে ভর দিয়ে যেন ফিরে ফিরে আসছেন হাবিবুল বাশারও। অনেক আগেই খেলা ছেড়ে-ছুড়ে নির্বাচক হয়ে যাওয়া এই সাবেক অধিনায়ক তাঁর প্রিয় শট পুলে প্রচুর রান যেমন করেছেন, তেমনি একই শটে আউটও কম হননি।

প্রতিপক্ষের রণপরিকল্পনায় অবধারিতভাবেই এটি ঢুকে যেত যে তাঁকে এই শট যথেচ্ছ খেলিয়ে বিদায় করতে হবে। তাঁর এই শক্তির জায়গাটা প্রায়ই তাই হয়ে উঠত দুর্বলতাও। যেমনটি এখন হয়ে উঠছে মুশফিকুর রহিমের ক্ষেত্রেও।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই যেমন তাঁর প্রিয় শট স্লগ সুইপ খেলতে গিয়েই আফগানদের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েছিলেন। রশিদ খানের গুগলিতে সাজঘরের পথ দেখেছিলেন। তবে কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই ডেলিভারিতে ওই লেগ স্পিনারকে সীমানাছাড়াও করেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে চার বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করে আরেক লেগ স্পিনার রহমত শাহকে উইকেট দিয়েছেন। তাও আবার সেটি সুইপ খেলতে গিয়েই। হাবিবুলের মতো তাঁর প্রিয় শটও যেন তাই প্রতিপক্ষের অব্যর্থ নিশানা হয়ে উঠতে চলেছে।

পর পর দুই ম্যাচে মুশফিককে নিয়ে আফগানদের পরিকল্পনায় সাফল্যের দিনে অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সবচেয়ে বেশি আউট হয়েছেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে। এলবিডাব্লিউর শিকার চার চারজন ব্যাটসম্যান। এঁদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানের মতো ব্যাটসম্যান যেমন আছেন, তেমনি তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের মতো টেল এন্ডারও। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেওয়া লেগ স্পিনার রশীদের তিনটি শিকারই তো এভাবে ধরা। যা বলে দিচ্ছে যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডের উইকেটে কাল বল নিচু হচ্ছিল। শুধু তা-ই নয়, স্লো উইকেটে বল ব্যাটেও আসছিল কিছুটা থেমে।

এমন উইকেট অবশ্য স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার অজুহাত হতে পারে না কিছুতেই। সম্ভবত দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচের পরীক্ষায় উতরে যাওয়ার স্বস্তিতেই আফগানরা আর তেমন বড় কোনো সমস্যা হয়ে উঠতে পারবে না বলেও আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশ বড় এক বিপদের আশঙ্কাতেও কম ছিল না। অভিষেকেই তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন টেল এন্ডারদের নিয়ে ত্রাণকর্তা হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই শর নিচে অলআউট হওয়ার সম্ভাবনাও তো কম চোখ রাঙাচ্ছিল না।

শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেকের অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংসে সেই চোখরাঙানি উপেক্ষা করে ২০৮ রানের সংগ্রহকে তুলনায় বেশ ভালোই বলতে হয়। কারণ ১৪১ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে বসার পর তো ওই রানকেও মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। মনে হচ্ছিল গত বছর এই মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকা

ম্যাচের বিভীষিকাই বোধহয় ফিরে আসবে। তিন ম্যাচের যে সিরিজটি বাংলাদেশ ২-১ জেতার অনন্য সাফল্য দেখালেও প্রথম ম্যাচে এর বার্তা ছিল না কিছুতেই। আগের সিরিজেই ভারতকে ২-১ এ হারানো মাশরাফি বিন মর্তুজার দল সেই

ম্যাচে ৩৬.৩ ওভারে অলআউট হয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৬০ রানেই।

যে ম্যাচে ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই কোনো বোলারের সেরা বোলিংয়ের নজির গড়েছিলেন প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা। কাল যেমন মোসাদ্দেক, তেমনি গত বছর জুলাইতে সাকিবের ৪৮ রানের ইনিংসে কোনোমতে দেড় শর গণ্ডি পেরিয়েছিল বাংলাদেশ। কালও একই রকম ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর আফগানিস্তান নিশ্চয়ই এক নয়। যদিও ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি আর সহযোগী সদস্য দেশের পার্থক্য বুঝিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্সের দাবিই কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছিল স্বাগতিকদের কাছে। সেই প্রতিশ্রুতিও তো ছিল ম্যাচের আগের দিন অধিনায়কের কথায়।

প্রথম ম্যাচে ঘাম ঝরানো জয়ের কারণ ব্যাখ্যায় প্রায় ১১ মাস ওয়ানডে না খেলার ব্যাপারটি বেশ বাজার পেয়েছিল। নিজেদের সামর্থ্য আর অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই ‘কঠিন’ পরিস্থিতি পার করে ম্যাচ জেতার পর থেকে অনেক কিছু সহজ হয়ে আসবে বলেও আশাবাদী ছিল বাংলাদেশ শিবির, আশা ছিল

দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে আরো ‘বেটার’ কিছু করে দেখানোরও। টেল এন্ডারদের নিয়ে তরুণ মোসাদ্দেকের সংগ্রামের আগে ব্যাটিংয়ে সেই আশার প্রতিফলন অবশ্য ছিল সামান্যই!


মন্তব্য