kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমি শুধু বিগ হিটারই নই, ‘বিগ ইটার’ও

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমি শুধু বিগ হিটারই নই, ‘বিগ ইটার’ও

নিজের চকচকে টাক আর বিশাল বপু দেখিয়ে আফগানিস্তান দলের ম্যানেজার ওয়ালি আমিন বলছিলেন, ‘বুঝলেন, এর সবই আসলে পারিবারিক। চুল পড়ে যাওয়া যেমন, তেমনি মোটা হওয়ার ব্যাপারটিও।

’ শরীর আর চুল নিয়ে আলোচনাটা অবশ্য অপ্রাসঙ্গিক নয় কিছুতেই। কারণ একটু আগেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে তাঁর বিশাল শরীর আর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একগাদা প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখেছেন। মাসুদ পারভেজকে সাক্ষাৎকার দিতে বসে শাহজাদ উত্তরও দিয়েছেন তাঁর ব্যাটিংয়ের মতোই মার মার কাট কাট।

 

প্রশ্ন : সকালের অনুশীলনে দেখলাম এই সিরিজের ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসনের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা মারলেন।

মোহাম্মদ শাহজাদ : হ্যাঁ, উনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। এমন একজনকে সামনে পেয়ে গেলে কথা বলার সুযোগ ছাড়ে কে? আমিও তাই ছাড়িনি।

প্রশ্ন : তা আপনাদের মধ্যে কী কথা হলো, একটু জানতে পারি কী?

শাহজাদ : অবশ্যই পারেন। উনি নির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দিয়েছেন আমাকে। আমার ব্যাটিং তিনি এ সিরিজের আগেও দেখেছেন। সম্ভবত আফগানিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেই তা দেখেছিলেন। তাই ভালো করেই জানেন যে আমি আসলে কোন ধরনের ব্যাটসম্যান। আমার সৌভাগ্য যে মূল্যবান কিছু পরামর্শই তাঁর কাছ থেকে পেলাম। উনি বললেন বিগ হিট করলেই শুধু হবে না, স্ট্রাইক রোটেটও করতে হবে। অন্য প্রান্তে যে আমার সঙ্গে ব্যাট করছে, ভাবতে হবে তার ওপর থেকে চাপ কমানোর ব্যাপারটিও। তা এ রকম অনেক কিছুই উনি আমাকে বোঝালেন।

প্রশ্ন : কিন্তু আপনি আসলে কতটা বুঝলেন? এ জন্যই জিজ্ঞেস করছি যে আপনার ব্যাটিংয়ের ধর্মই হলো যেকোনো বোলারকে যখন তখন তুলে মারতে চাওয়া!

শাহজাদ : (হাসি...) এটা ঠিকই বলেছেন। আলগা বল পেলে আমার পক্ষে মারার লোভ সামলানোটা মুশকিলই হয়ে যায়। তা সেটি হোক না চার দিনের ম্যাচ! হয়তো অনেকেরই জানা নেই এ রকম ব্যাটিং করেই একবার আমি ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপের চার দিনের ম্যাচে আফগানিস্তানকে জিতিয়েছিলাম। ২১৮ রান করে অপরাজিতও ছিলাম (শারজায় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার বিপক্ষে ৪৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করে আফগানিস্তানকে জেতানো শাহজাদ আসলে অপরাজিত ছিলেন ২১৪ রানে)। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও যেখানে বল এবং বোলার বাছবিচার করে খেলিনি, সেখানে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে তো প্রশ্নই আসে না। আপনারা নিশ্চয়ই আমার ব্যাটিংয়ের ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাবটা বুঝতে পারেন। একেকজনের একেক ধরন থাকে। আমারটা এ রকমই।

প্রশ্ন : এ রকমই যখন, তখন ব্যাটিংয়ে আপনার আদর্শ হওয়ার কথা ক্রিস গেইলের। কিংবা তাঁর মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানদের কারো। কিন্তু তাঁরা কেউ নন, আপনি ব্যাটিংয়ের অনুপ্রেরণা খোঁজেন মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে। বিশেষ কোনো কারণ আছে?

শাহজাদ : আমিও তাঁর মতো উইকেটকিপিং করি। এটি একটি কারণ তো অবশ্যই। ২০১০ সালে তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখায় কথাও বলেছিলাম। তবে আমি আরো অনেক আগে থেকেই তাঁর ভক্ত। বলতে পারেন ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমি একটু বেশিই মজে গিয়েছিলাম। ওই বিশ্বকাপেই এমএসডিকে আমার প্রথম দেখা। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারটিও খুব অনুপ্রাণিত করেছিল আমাকে। বলতে পারেন তাঁকে প্রথম দেখার স্মৃতিই আমার মনে গেঁথে আছে।

প্রশ্ন : এমএসডিকে প্রথম দেখার কথা বলছিলেন। কিন্তু প্রথম দেখায় আপনাকে হয়তো অনেকেরই ক্রিকেটার বলে মনে হয় না। তা কখনো এ ভাবনা আসে না যে নাহ, ওজনটা এবার কমিয়েই ফেলি!

শাহজাদ : কেন আসবে? আমি তো এই একই ওজন নিয়ে প্রায় ১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেললাম। আমার তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমার যদি সমস্যা না হয়, তাহলে অন্যদের সমস্যাটা কোথায় আমি বুঝি না। হ্যাঁ, আমার কানেও এমন কথা আসে যে ‘আরে, এই ছেলে এত ওজন নিয়ে ক্রিকেট খেলে কী করে?’ মাঠে আমার খেলাতেই তারা প্রশ্নের জবাবটা পেয়ে যায়। খেলা দিয়ে মানুষের ধারণাটা বদলে দিতে পেরেছি বলেই বিশ্বাস করি আমি। শারজার প্রচণ্ড গরমে ৫০ ওভার উইকেটকিপিং করার পর ৪৮ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে দলকে জিতিয়ে (গত ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ১৩১ রানের ইনিংসে জিতিয়েছিলেন) প্রমাণ করেছি যে আমি এই পর্যায়ের জন্য যথেষ্ট ফিট।

প্রশ্ন : অবশ্য এমন আরো অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সাফল্যের সঙ্গেই খেলে গেছেন।

শাহজাদ : আমি ঠিক এ প্রসঙ্গেই আসতে চাচ্ছিলাম। অর্জুনা রানাতুঙ্গা-ডেভিড বুনের মতো ক্রিকেটাররা ছিলেন। ইনজামাম উল হকের কথাও বলতে হয়। অত বড় শরীর নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঠিকই হাজার হাজার রান করে গেছেন।

প্রশ্ন : আপনাকে দেখে এটাও বোঝা যায় যে আপনি বেশ ভোজনরসিকও। তা আপনার খাদ্য তালিকাটাও এ সুযোগে জানতে খুব ইচ্ছে করছে।

শাহজাদ : (হাসি...) আমি সর্বভুক। ভাত, গরুর মাংস, কাবাব থেকে শুরু করে সব খাই। ডায়েট আমার একদমই পছন্দের নয়। খেতে পছন্দ করি এবং প্রচুর খেতেও পারি। আমি শুধু বিগ হিটারই নই, ‘বিগ ইটার’ও।

প্রশ্ন : তা খাওয়ার কোনো রেকর্ড-টেকর্ড আছে আপনার?

শাহজাদ : আছে তো (হাসি...)! এক বসায় দুই কেজি গরুর মাংস সাবাড় করে দেওয়ার রেকর্ড আছে আমার।

প্রশ্ন : আপনার ব্যাটিংয়ের ধরন যা, তাতে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে ভালোই চাহিদা থাকার কথা। কিন্তু সহযোগী সদস্য দেশের বলেই কি সুযোগটি আসছে না?

শাহজাদ : ইনশা আল্লাহ এবারই আপনাদের বিপিএলে আমাকে দেখতে পাবেন। রংপুরের সঙ্গে চুক্তিও হয়ে গেছে আমার। ক্রিস গেইল আর ডোয়াইন ব্রাভোদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা হয়ে আছে আমার। পরের সিপিএলে (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) খেলার সুযোগও আশা করি আসবে। আর ৮৫ পারসেন্ট সম্ভাবনা আছে পরের আইপিএলেও আমাকে দেখা যাওয়ার।


মন্তব্য