kalerkantho


বোলারদের প্রশংসায় ওয়ালশ

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বোলারদের প্রশংসায় ওয়ালশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মুঠো গলে আস্তে আস্তে ম্যাচ বেরিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির উত্তাপ গায়ে মাখতে হয় ড্রেসিংরুমে যাঁরা থাকেন তাঁদেরও। বহুদিন পর তা মাখলেন কোর্টনি ওয়ালশও। খেলা ছাড়ার পর এই প্রথম যুক্ত হলেন কোচিংয়ের সঙ্গে আর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হিসেবে আফগানিস্তান দিয়েই ম্যাচ পরিস্থিতির গমগমে আগুনে তাপ অনুভব করার নতুন শুরু তাঁর। কেমন গেল তাঁর সেই প্রথম দিনটি?

নিশ্চয়ই স্নায়ুচাপে ক্ষণে-ক্ষণেই নড়েচড়ে বসতে হয়েছে এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তিকেও। বিশেষ করে রহমত শাহ আর হাসমতউল্লাহ শহীদির বিশাল পার্টনারশিপে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে হারের আশঙ্কায় ভয়ের শিরশিরে অনুভূতি ছড়িয়ে পড়াও খুব স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। ওয়ালশ যদিও দাবি করলেন ব্যাপারটি ঠিক সেরকম কিছু ছিল না। টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক পেরোনো প্রথম বোলার বলছিলেন, ‘আমরা মোটেও স্নায়ুচাপে ভুগিনি। তবে কিছুটা উদ্বেগ তো ছিলই। ’

মাঠে থাকা অধিনায়ককে নিরুদ্বেগ রাখার চেষ্টায়ও কোনো কমতি ছিল না বলে জানালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমরা ঘন ঘন বার্তা পাঠিয়ে ওকে নির্ভার রাখার চেষ্টা করছিলাম। মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম অনুশীলনে আমরা কী কী করেছিলাম। সবাই যে যার কাজটা যথাসাধ্য করেছেও। অনেক দিন ধরে খেলার অনভ্যাসের কারণে সমস্যাও হয়েছে কিছু। তবে ছেলেরা সেখান থেকে দুর্দান্ত খেলে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। ’

ড্রেসিংরুমে তাঁদের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাসও অটুট ছিল বলে জানিয়েছেন এ জ্যামাইকান, ‘ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটি জেতার বিশ্বাস আমাদের ছিল। ড্রেসিংরুমে আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলিও করছিলাম যে যদি দুটি ভালো ওভার যায় এবং ওই ওভারগুলোতে উইকেটও মেলে, তাহলে খেলাই বদলে যাবে। বরাবরের মতো এদিন আমাদের ফিল্ডিং যদিও ভালো ছিল না। তবে যেই না উইকেট তুলে নিতে শুরু করলাম, জানতাম যে আমাদের সুযোগ আছে। ’

রহমত আর হাসমতউল্লাহর পার্টনারশিপ ভাঙা সাকিব নিজের শেষ ওভারে মাত্র ১ রান খরচ করেন। তার পরও ২৪ বলে ২৮ রানের সমীকরণ আফগানদের অনুকূলেই ছিল। এরপর প্রথম ৬ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ফেলা তাসকিন আহমেদও ছন্দটা ফিরে পান। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা রুবেল হোসেনও দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান। সব মিলিয়ে প্রথম ওয়ানডের জয়কে দারুণ এক দলীয় পারফরম্যান্সের উদাহরণই বললেন ওয়ালশ, ‘শেষ দুই ওভারে ওরা দুজন (তাসকিন-রুবেল) দুর্দান্ত বোলিংই করেছে। আর ম্যাচ বদলে দেওয়া ওভারটি করে পথটা তৈরি করেছে সাকিব। যা অন্যদেরও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এবং আফগানদের রানরেট তাতে আরো বেড়েছে। সত্যিই দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্স। ’

বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা তাসকিনের জন্য বাড়তি প্রশংসাও বরাদ্দ রাখছেন এই বোলিং কোচ, ‘ম্যাচের আগে ও চাপে ছিল। একেই নিষিদ্ধ ছিল, তার ওপর অনেক দিন পর খেলতে নেমে শুরুতে বাড়তি কিছু করার চেষ্টাও করছিল। কিন্তু আমরা ওর কাছ থেকে যা চাচ্ছিলাম, সেটাই ও দিয়েছে। যেভাবে ও ফিরল, তাতে কৃতিত্বটা অবশ্যই ওর প্রাপ্য। পুরো দিনটিই ওর জন্য খারাপ যেতে পারত এবং তাতে আমরাও ম্যাচটি হেরে যেতে পারতাম। ’


মন্তব্য