kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিদ্ধান্তটা তাসকিনকেই নিতে বলেছিলেন মাশরাফি

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিদ্ধান্তটা তাসকিনকেই নিতে বলেছিলেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নিজের প্রথম ৬ ওভারে ৪৯ রান খরচ করে ফেলা তরুণ ফাস্ট বোলারকে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ফিরিয়ে আনায় ঝুঁকিও ছিল। তবু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেই ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সেটি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়কের প্রথম বিবেচনাটা শুনলে একটু বিস্মিতই হতে পারেন, ‘প্রথমত ওর সাম্প্রতিক ফর্ম। ’

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগও তো শেষ হয়েছে সেই কবে! জুনে শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগও তো ছিল না কোনো। তাহলে তাসকিন খেললেনটা কোথায়? মাশরাফি অবশ্য এর ব্যাখ্যাও দিয়ে দিতে বিলম্ব করলেন না, ‘সাম্প্রতিক ফর্ম বলতে ম্যাচের ওই সময়ে যে বোলিংটা করা দরকার ছিল, সেটা অনুশীলনে খুব ভালো করছিল তাসকিন। আপনারা তো জানেনই যে আমরা গত কিছুদিনে নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি। ’

সেসব ম্যাচে তাসকিনের টানা ইয়র্কার মারার দক্ষতাও অধিনায়কের আরেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রেখেছে বড় ভূমিকা, ‘ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে আমার হাতে বিকল্পও তো ছিল না। ঠিক করতে হতো রুবেল দুটি ওভার করবে নাকি তাসকিন? দুজনেরই ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় সমান। তার পরও ধারাবাহিকভাবে ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাসকিন একটু এগিয়ে থাকায় ওকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। ’

অধিনায়ক এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অবশ্য আরেকজন দলের জয়ের স্বপ্ন রঙিন করে দিয়ে যান, ‘সাকিবের একটি ওভার রেখে দিয়েছিলাম এ জন্য যে আমি জানি ওটা আমার ট্রাম্পকার্ড ওভার হবে। হয় ওরা সুযোগ নিতে গিয়ে দুই-তিনটি উইকেট হারাবে অথবা আরেকটি জিনিস হতে পারে যে ওরা সুযোগ নিয়ে ম্যাচ জিতে যাবে। সৌভাগ্য যে সাকিব অসাধারণ একটি ওভার করে দেওয়াতে সবার জন্য কাজ কিছুটা সহজও হয়ে গিয়েছিল। ’ এরপর তাসকিনের হাতে বল তুলে দেওয়ার ভাবনায় কোনো জটিলতাও আসেনি, ‘এর আগে ৬ ওভারে ৪৯ রান দেওয়ার ব্যাপারটিকে আমি গুরুত্ব দেইনি। গুরুত্ব দিয়ে এটাই ভেবেছি যে নতুন ওভারটিতে তো সে ভালোও করতে পারে। ’

তাসকিন ভালোই করেননি শুধু, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রত্যাবর্তনে মাতও করে দিয়েছেন। শেষ দুই ওভারে ৪ উইকেট তোলা তরুণের ওপর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারও ছেড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক, ‘ওকে বলেছিলাম যে আগের ৬ ওভার খারাপ করেছো মানে এই নয় যে তুমি ম্যাচ হারিয়ে দিয়েছো। এই দুই ওভারে তুমি ম্যাচও জেতাতে পারো। এখন সিদ্ধান্তটা তোমার। আগের ৬ ওভার নিয়ে ভাববে নাকি পরের ২ ওভার নিয়ে?’ সেই সঙ্গে অধিনায়ক এই কথাগুলোও জুড়ে দিতে ভুললেন না, ‘নতুন করে ভাবতে বলেছিলাম ওকে। ক্রিকেটে এরকমই হয়। একটি ওভার আপনাকে শেষও করে দিতে পারে আবার ম্যাচও জেতাতে পারে। যেটা হয়ে গেছে সেটা তো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। তবে পরেরটা নিয়ে নতুন করে ভাবলে ফিরে আসা সম্ভব। ’

সাকিব হয়ে তাসকিন-রুবেলের বোলিংয়ে সেটি সম্ভব হওয়ার দিন বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক হিসেবেও নিজের নামটি টুকে নিয়েছেন মাশরাফি। এর আগে টেস্ট আর ওয়ানডে মিলিয়ে ৮৭টি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩০টি জয় নিয়ে সফলতম ছিলেন হাবিবুল বাশার। আর মাশরাফি কিনা তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েই। যদিও অর্জনের তুলনায় মাশরাফির উত্তেজনা সামান্যই, ‘শুনে ভালো লেগেছে। আর ওই ভালো লাগা পর্যন্তই শেষ। আমি মনে করি, এর কৃতিত্বটা অধিনায়কের চেয়ে ছেলেদেরই বেশি প্রাপ্য। ’

একই সঙ্গে হাবিবুলের পরিসংখ্যানেও বাড়তি কিছু জয় লিখে দিতে চাইলেন। একের পর এক ব্যর্থতার ২০১৪ সালের শেষে আবার নেতৃত্ব পেয়েই দলকে বদলে দেওয়া অধিনায়ক দিতে ভোলেননি এর ব্যাখ্যাও, ‘এখন তো আমরা দল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছি। সুমন ভাইয়ের দলটি সবে গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। সাকিব-তামিম-মুশফিকরা তখন মাত্র শুরু করেছিল। আমার কাছে তাই সুমন ভাইয়ের ৩০টি জয় ৫০টির সমান। ’

হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে ২৯ ওয়ানডের সঙ্গে প্রথম টেস্টও জিতেছিল বাংলাদেশ। আর অধিনায়ক মাশরাফি সবচেয়ে বেশি জয়ের স্বাদ নিয়েছেন যথারীতি ওয়ানডে থেকে, ২১টি। টি-টোয়েন্টিতে ৯টি আর তাঁর টেস্ট সাফল্য হাবিবুলের সমান, ১টি। অবশ্য ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই চোট নিয়ে ছিটকে পড়েছিলেন মাশরাফি। এরপর আর টেস্টে ফেরা হয়নি তাঁর। যদিও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রায়ই শোনা যায় মাশরাফির কণ্ঠে। কবে ফিরবেন, সে প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তাঁরও।


মন্তব্য