kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এভাবে জেতা বড় দল হওয়ার ঘোষণাও

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এভাবে জেতা বড় দল হওয়ার ঘোষণাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের তুলনা চলে না। ভিনদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে যেমন তুলনীয় নয় নিজ দেশের ওয়ানডে।

তবু এ বছরের ২৩ মার্চের বেঙ্গালুরুর সঙ্গে ২৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকাকে মেলালে আত্মবিশ্বাসের অনেক উপাদান পাবে বাংলাদেশ। পাচ্ছে বড় দল হয়ে ওঠার বিশ্বাস। পরশু আফগানদের বিপক্ষে ৭ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে এই প্রাপ্তিই হয়তো সবচেয়ে বড়।

বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সেই ম্যাচে ভারতের কাছে হারার কথা না বাংলাদেশের। শেষ তিন বলে প্রয়োজন মাত্র দুই রান। হাতে চার উইকেট। ক্রিজে দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহ। কিন্তু ওই অবস্থা থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি হেরে যায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে। তা না হয় বাড়াবাড়ি, তবে এমন জেতা ম্যাচ তো কম হারেনি বাংলাদেশ। জয়ের সূর্য কতবার উঁকি দিয়ে হারিয়ে গেছে পরাজয়ের মেঘে!

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরশুর ম্যাচে আবার ভিন্ন চিত্র। নিশ্চিত পরাজয়ের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে জয়ে রাঙিয়ে দেন মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা। শেষ ১০ ওভারে আট উইকেট হাতে রেখে প্রতিপক্ষের প্রয়োজন ৭৭ রান, শেষ পাঁচ ওভারে ছয় উইকেটে ৩৮—এমন ম্যাচেও আফগানদের জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনা কি বড় দল হয়ে ওঠার লক্ষণ না? ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে শেষ ওভারে ক্রিজে থাকা মাহমুদ উল্লাহ মেনে নেন, ‘আমার মনে হয়, হ্যাঁ। এমন অনেক ম্যাচে আমরা জয়ের কাছে গিয়েও হেরে যাই। হয়তো ছোট ছোট ভুলের কারণে। এখন মনে হয় পরিবর্তনটা চলে এসেছে। আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন গড়ে উঠছে। তো আশা করছি এটা আমরা অব্যাহত রাখতে পারব এবং আরো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। ’

প্রথম ওয়ানডের পরদিন কাল কোনো অনুশীলন ছিল না পরাজিত আফগানিস্তানের। কিন্তু বিজয়ী বাংলাদেশ ঠিকই হাজির শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে খোলা মাঠে সেভাবে ঝালাই করে নিতে পারেনি নিজেদের। পরে অনুশীলন করেছে ইনডোরে। তবে পরশুর ম্যাচ ঘুরে-ফিরে ছিল আলোচনায়। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাহমুদ অবশ্য প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকার কথা জানান, ‘এতটুকু বিশ্বাস ছিল যে, দু-একটা উইকেট গেলে হয়তো-বা আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। যা আমরা করতে পেরেছি। ম্যাচ জেতায় সত্যি খুব ভালো লেগেছে। ’ সে জন্য শেষ দিকে বোলারদের কৃতিত্ব দেন তিনি, ‘মাশরাফি ভাইয়ের শেষ স্পেলের তিন ওভার এবং সাকিবের ৪৭তম ওভারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ ওখান থেকে মাত্র এক রান আসে। তারপর রানরেট চলে যায় ৯-এর ওপর। তখন বিশ্বাস ছিল, রুবেল ও তাসকিনরা ভালো ইয়র্কার দিতে পারলে ম্যাচে ফিরতে পারব। একইসঙ্গে ওই সময় উইকেটও তুলেছি। এখানে এগিয়ে গিয়েছি বলে আমি মনে করি। ’

প্রায় ১১ মাস পর ওয়ানডে খেলল বাংলাদেশ। অনভ্যাসে বিদ্যানাশ হয়নি, তবে কিছুটা বিদ্যাহ্রাস তো হয়েছেই। এত দিন পর খেলা কঠিন বলে মেনে নেন মাহমুদ, ‘আমরা যদি সব সময় খেলতে থাকি, তাহলে ছন্দের বিষয় থাকে। যতই ফিটনেস নিয়ে কাজ করি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিটনেস ভিন্ন বিষয়। তো আশা করি ওই বিষয়গুলো কাটিয়ে উঠে আমরা পরবর্তী ম্যাচে আরো ভালো করতে পারব। ’ আফগানিস্তানকে ভালো দলের সনদ দিয়েও পরের দুই ওয়ানডেতে নিজেদের আরো ভালো খেলার লক্ষ্য ঠিক করার কথা জানান তিনি, ‘ভালো দল হিসেবে আমাদের জেতা উচিত। যদিও যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বলতে চাই আফগানিস্তান অনেক ভালো দল। কিন্তু আমার মনে হয়, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা হয়তো আরো ভালো ফলাফল করতে পারব। ’

পরশুর ম্যাচে ৭৪ বলে ৬২ রান করে নিজের দায়িত্বটুকুন ভালোভাবেই পালন করেন মাহমুদ। ৪১তম ওভারে আউট না হলে এমনকি সেঞ্চুরিও অসম্ভব ছিল না। মাহমুদ অবশ্য প্রত্যাশিতভাবেই জানান, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের চাহিদাই তাঁর কাছে বড়, ‘আমি সেঞ্চুরির কথা চিন্তা করছিলাম না।  উইকেট খুব ভালো আচরণ করছিল এবং বল সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। তাই চিন্তা ছিল যতটা রান বাড়ানো যায়। পরের দিকে বড় শট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা করতে পারিনি। আমার আরো কিছু সময় ক্রিজে থাকা উচিত ছিল। মনে হচ্ছিল যে উইকেটটা ২৮০ রানের। সে ক্ষেত্রে আমরা হয়তোবা ২০ রান কম করি। ’ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দীর্ঘ সময় ছয়-সাত নম্বরে ব্যাটিং করেন তিনি। চার নম্বরে থিতু হন ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে। এর আগে ২০১১-র এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেবল একবারই ওয়ানডেতে চার নম্বরে যান তিনি। সব মিলিয়ে এই পজিশনে ১৩ ওয়ানডেতে ৭৩৪ রান। দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে গড় ৭৪.১২। এটি যে তাঁর স্বচ্ছন্দের পজিশন, তা অনুমেয়। দলের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেও কাল আবার সেটিই বলেন মাহমুদ, ‘দল আমার কাছ থেকে কী চায়, তার ওপর সব কিছু নির্ভর করে। এই মুহূর্তে চার নম্বরে ব্যাট করছি এবং বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। সব সময় বিশ্বাস করি, আমি একটা দলের খেলোয়াড়। এই দলটা যেখানে চাইবে সেখানেই ভালো পারফর্ম করার চেষ্টা থাকবে। তবে চার নম্বরে এখন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। ’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বাংলাদেশ ক্যাম্পেও ওই স্বাচ্ছন্দ্যের হাওয়া। জয়ের ধরনে যে বড় দল হয়ে ওঠার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি!


মন্তব্য