kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রত্যাশিত দর্শক পেল না সিলেটও

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রত্যাশিত দর্শক পেল না সিলেটও

সিলেট অফিস : প্রথম ম্যাচে সব মিলিয়ে ৯ গোল! তার পরও জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১ গোল। কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল ব্রাদার্স ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের মধ্যেকার ম্যাচ তা সহজেই অনুমেয়।

এরকম জমজমাট ম্যাচ দিয়েই গতকাল রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেট পর্বের খেলা। তবে সিলেটের ফুটবল উন্মাদনার বিচারে মাঠে দর্শক উপস্থিতি কম ছিল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খেলার তুলনায় উদ্বোধনী কনসার্টের প্রচারণা বেশি হয়ে যাওয়া এর কারণ বলে মনে করছেন তারা।

কৌশলে ভুল থাকায় দর্শক উপস্থিতি কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। সিলেটের ফুটবল কোচিং এর সঙ্গে জড়িত জেলা দলের সাবেক এক ফুটবলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, খেলার চেয়ে উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে গেছে প্রচারণায়। এতে মমতাজ ও আইয়ুব বাচ্চু থেকে গেছেন মানুষের মাথায়, খেলার বিষয়টি সেভাবে থাকেনি। তা ছাড়া বিপিএলকে ঘিরে সিলেটে যে প্রচারণা হয়েছে, তোরণ টানানো হয়েছে সেগুলোতে কনসার্টকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের ছবির বদলে আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মতো বিখ্যাত ক্লাবগুলোর লোগো যদি তোরণে প্রাধান্য দেওয়া হতো আমার মনে হয় প্রচুর দর্শক মাঠমুখী হতেন।

যাঁরা মাঠে এসেছেন খেলার মান নিয়ে তাঁরা অবশ্য সন্তুষ্ট। লিডিং ইউনিভার্সিটির এমবিএ পড়ুয়া আইনুল হক বাপ্পি বললেন, ‘সিলেটে আগে যে কয়টা ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে তার তুলনায় আজকে শেখ জামাল ও ব্রাদার্সের ম্যাচ আমার কাছে অনেক ভালো মনে হয়েছে। ’ প্রথম ম্যাচ মুগ্ধ করেছে শামীম আহমদকেও। নগরের পীরমহল্লার বাসিন্দা এই ব্যবসায়ী বললেন, অনেক দিন পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল দেখলাম। এতটা প্রত্যাশা অবশ্য ছিল না। সময় থাকলে প্রতিটি ম্যাচ দেখার ইচ্ছা আছে।

টিকিটের দামও একটু বেশি বলে মনে করছেন অনেকে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বললেন, ‘টিকিটের দাম ৫০ টাকা রাখা হয়েছে। সেটা ২০ টাকা হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থী যারা তাদের সুবিধা হতো। ’ শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের দাম একটু বেশি হয়ে গেছে বলে করছেন মাহিউদ্দিন সেলিমও। তিনি বললেন, ৫০ টাকায় টিকিট কিনে প্রতিদিন খেলা দেখা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটু কঠিনই।

সিলেটের ফুটবল উন্মাদনার বিচারে যে দর্শক উপস্থিতি কম সে কথা মেনে নিয়েছেন ডিএফএর সভাপতি। তিনি বললেন, ‘প্রচারণার জন্য আমি পর্যাপ্ত সময় পাইনি। আমাকে ১৯ তারিখে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর হাতে যে পাঁচ দিন সময় পেয়েছি তার বড় অংশ ব্যয় হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কনসার্টকে ঘিরে। ’


মন্তব্য