kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশরাফুলের অন্য রকম সকাল

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আশরাফুলের অন্য রকম সকাল

১৮ বছর বয়সে নিজেকে এতটা বড় মনে হয়নি তাঁর কখনোই, ‘মনে হচ্ছিল স্বপ্নের ঘোরে আছি। কাল (পরশু) যা হয়েছে তা যেন স্বপ্নেই হয়েছে... আর আজ পত্রিকার পাতা খুলেই দেখি আমার সব ছবি। অবিশ্বাস্য লাগছিল!’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করলেন আশরাফুল। ক্যাম্পের সঙ্গীরা একের পর এক পত্রিকা হাতে ছুটে আসছেন তাঁর রুমে।

সেই পত্রিকার পাতাজুড়ে তাঁর ছবি, তাঁর নাম। ‘নতুন ইতিহাস’, ‘নতুন তারকা’, ‘আশরাফুলের হাত ধরেই ভারত-বধ’—এমন প্রশস্তির বন্যা। ১৮ বছর বয়সে নিজেকে এতটা বড় মনে হয়নি তাঁর কখনোই, ‘মনে হচ্ছিল স্বপ্নের ঘোরে আছি। কাল (পরশু) যা হয়েছে তা যেন স্বপ্নেই হয়েছে... আর আজ পত্রিকার পাতা খুলেই দেখি আমার সব ছবি। অবিশ্বাস্য লাগছিল!’

সত্যি এমন একটা দিনের স্বপ্নই তো দেখেছেন আশরাফুল—তাঁর গোলে বড় কোনো দলকে হারাবে বাংলাদেশ, মাতামাতি শুরু হয়ে যাবে তাঁকে নিয়ে, এখন যা হচ্ছে। এত দিন পিসি স্পেশালিস্ট বলতে ছিলেন মামুনুর রহমান। পরশু ভারতের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের জয়ে পিসি থেকেই ৪ গোল করে সেই মামুনুরের ছায়া থেকেও বেরিয়ে এলেন আশরাফুল। এ বছরই ক্যারিয়ারের তৃতীয় লিগ খেলেছেন মামুনুরের পাশে থেকেই মেরিনার ইয়াংসে। পিসি নেওয়ার একচেটিয়া সুযোগটা তাই ছিল না। বৈচিত্র্যের প্রয়োজনে যে কয়বার সুযোগ পেয়েছেন; তাতেই ৮ গোল তাঁর। আগেরবার আবাহনীতেও ছিলেন খোরশেদুর রহমানের ‘সাপোর্ট’ হিসেবে। সেই আশরাফুল এবারের অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপের এক ম্যাচেই ড্র্যাগ ফ্লিকের নতুন তারা হিসেবে খ্যাতি পেয়ে যাচ্ছেন।

বিকেএসপির কোচ থাকাকালে মামুনুরকে তৈরি করেছিলেন সাবেক তারকা খেলোয়াড় মামুন-অর রশিদ। আশরাফুলকে হাত ধরে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার কৃতিত্ব এখনকার কোচ জাহিদ হুসাইন রাজুর। তিনি জুনিয়র এশিয়া কাপের দলটিকেও কোচিং দিচ্ছেন এবার। ভারত-বধ, সঙ্গে আশরাফুলের সাফল্য—দারুণ সুখী একটা সময় পার করছেন তিনিও। তবে পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে তিনি সতর্ক, ‘আশরাফুল কেমন পেনাল্টি কর্নার নেয়, বাংলাদেশ কেমন খেলে—প্রথম ম্যাচের পর অন্য দলগুলো তা জেনে গেছে। সামনের ম্যাচগুলোও আমাদের জন্য তাই সহজ হবে না। খেলোয়াড়দের বলব, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে তারা যেন পারফর্ম করে। ’

ভারতকে হারানোয় বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখন উজ্জ্বল। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানকে সহজেই হারানোর কথা রোমান, আশরাফুলদের। ওমান কাল ভারতের কাছেই যে হেরেছে ১১-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিতে নাম লেখাতে পারে বাংলাদেশ। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ চীন, যারা কালই পাকিস্তানের বিপক্ষে হজম করেছে ৬ গোল। বাংলাদেশের কোচ নিজেদের এগিয়েই রাখেন এই চীনাদের থেকে। তাদের হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেলে ভারত বা পাকিস্তানের কোনো একটি দলই হবে শিরোপার পথে বাংলাদেশের বাধা। সেখানে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি বাংলাদেশকে যদি আত্মবিশ্বাসী করে, তবে পাকিস্তানও অনতিক্রম্য হবে না—এমনটাই মনে করেন রাজু, ‘দল হিসেবে ভারত বরং পাকিস্তানের চেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। পাকিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড় বেশ ভালো কিন্তু অন্যরা সেই মানের না। ’

১২ বছর আগে ভারতকে হারিয়েই অনূর্ধ্ব-২১ চ্যালেঞ্জ কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। আবারও সেই ভারত-বধেই নতুন ইতিহাসের হাতছানি। আশরাফুলের স্বপ্নের দিনগুলো আরেকটু প্রলম্বিত হলেই কেবল হয়।


মন্তব্য