kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবাহনীর সঙ্গে ড্র শেখ রাসেলের

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবাহনীর সঙ্গে ড্র শেখ রাসেলের

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : ভেন্যু বদলের সঙ্গে ভাগ্যের খানিকটা বদল। বুড়িগঙ্গা পারের ঢাকা থেকে সুরমা পারের সিলেটে এসে পয়েন্টের দেখা পেয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড।

সাখাওয়াত হোসেন রনির দেওয়া গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তারা ধরে রাখতে পারেনি অগ্রগামিতা, জুয়েল রানার দারুণ এক গোলে সমতা ফিরিয়েছে আবাহনী। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতাতেই শেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সিলেট পর্বে শেখ রাসেলের প্রথম ম্যাচ। এগিয়ে গিয়েও জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়তে না পারার হতাশায় সান্ত্বনা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে ১ পয়েন্ট পাওয়া। ১২ আগস্ট টিম বিজেএমসির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকে কাল আবাহনীর সঙ্গে ড্র করার আগের ম্যাচগুলোতে  যে শুধু হেরেই গেছে শেখ রাসেল। তাই লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আবাহনীর সঙ্গে এগিয়ে থেকে ড্র করাটাও কম কৃতিত্বের নয়।

শেখ রাসেলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের অভিযোগ ছিল অনুশীলন মাঠের দুরবস্থা নিয়ে। মাঠের খেলা গুছিয়ে আনতে তাই শুরুতে কিছুটা সমস্যাই হচ্ছিল তাঁর। প্রথমার্ধ দুই দলই খেলেছে কিছুটা অগোছালো ফুটবল। অচেনা মাঠ কিংবা অপর্যাপ্ত অনুশীলনই হয়তো যার কারণ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে শুরু করে শেখ রাসেল। মাঝমাঠে জামাল ভুঁইয়া-ইকাঙ্গা আর মোনায়েম খান রাজু মিলে বেশ কিছু সুযোগই তৈরি করার চেষ্টা করেন ফরোয়ার্ড সাখাওয়াত হোসেন রনির জন্য। প্রচেষ্টাতেই একসময় ফল মিলে যায়। ৬৬ মিনিটে গোল করে শেখ রাসেলকে এগিয়ে দেন সাখাওয়াত হোসেন। গোল করার পর প্রতিপক্ষের ওপর আরো চড়াও হয় শেখ রাসেল, পল এমিলির বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সোজাসুজি শটটা ফিরিয়ে দিয়েছেন আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেল। ম্যাচের ৮০ মিনিটে নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদানের পর বাড়ানো থ্রু পেয়ে রনি ঢুকে পড়েন ডি বক্সের ভেতর। কিন্তু পার হতে পারেননি শেষ ডিফেন্ডারের বাধা।

খেলার ধারার উল্টোদিকেই প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল খেয়ে বসে শেখ রাসেল। ডানপ্রান্ত থেকে ইমন বাবুর বাড়ানো ক্রসে জুয়েল রানার প্লেসিং শটে গোল পেয়ে যায় আবাহনী, ম্যাচের আয়ু তখন ৮৪ মিনিট। এমন সময় গোল খেয়ে জয় হাতছাড়া হওয়াটাকে দুর্ভাগ্য হিসেবেই দেখছেন শেখ রাসেলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, ‘যখনই আমি রক্ষণটা জমাট করব, তখন আমার দলের একজন চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। বল না থামায় আরেকজনকে তুলতে পারছিলাম না, ১০ জন হয়ে গিয়েছিল মাঠে, এই সুযোগেই গোল হয়ে যায়। দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কি বলব। ’ মানিকের অভিযোগ রেফারিং নিয়েও। একটি ন্যায্য পেনাল্টি পাননি বলেই জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে, সেই সঙ্গে আবাহনীর মিডফিল্ডার ফাহাদ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখতে পারত বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, খারাপ সময়েই দুর্ভাগ্য আরো জেঁকে বসার কথা। তবে ড্র দিয়ে হারের বৃত্ত থেকে বের হওয়া মানিক মনে করেন, পুণ্যভূমি সিলেট থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রাটা শুরু হবে শেখ রাসেলের। যে যাত্রায় কিছুটা অগ্রসর হওয়া গেছে শীর্ষে থাকা আবাহনীর সঙ্গে ড্র করে।


মন্তব্য