kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্কোরটা আরো বড় হতে পারত

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্কোরটা আরো বড় হতে পারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যে কারো জন্যই ভালো শুরু গুরুত্বপূর্ণ তবে এই ম্যাচের বাংলাদেশের জন্য সেটি ছিল আরো বেশি। প্রায় ১১ মাস যে ওয়ানডেই খেলা হয়নি তাদের।

অনভ্যাস তো অনেক সমস্যার দরজাই খুলে রাখে। আশঙ্কা ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের জন্যও না তা আবার খুলে যায়। খুলে যেতেও পারত কিন্তু শেষ পর্যন্ত খোলেনি। বলা ভালো তামিম ইকবালের ব্যাটই তাড়িয়েছে আফগান গেরিলা হামলার ভয়!

যে ভয় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর প্রথম ওভারেই। স্কোরবোর্ডে প্রথম রানটি জমা হতে না হতেই নেই সৌম্য সরকার। আফগান পেসার দৌলত জাদরানের শিকার এ ওপেনার ফিরে গেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। সতীর্থদের তুলনায় ওয়ানডে খেলার অনভ্যাস সৌম্যর আরো বেশি। অন্যরা যেখানে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, তখন তাঁর শেষ ম্যাচটি খেলা আরো আগে। গত বছরের জুলাইতে দেশের মাটিতেই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে।

সেই সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া সৌম্য নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিস করেছিলেন পাঁজরের চোটের কারণে। সেই চোট সারিয়ে মাঠে ফিরলেও অনেক দিন থেকেই রানে ফেরার জন্য লড়ছেন সাতক্ষীরার এ তরুণ। ঘরোয়া ক্রিকেট তো বটেই, বড় ইনিংসের দেখা পাননি ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। সেই ধারা অব্যাহত থাকল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও। যদিও সৌম্য ভক্তদের এখনই এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ তাঁর শেষ দুটি ওয়ানডে ইনিংস অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের। তাও আবার দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে। বড় দলের বিপক্ষেও জয়ের তীর দেখানো ব্যাটিং যিনি করতে পারেন, তাঁর রানে ফিরতে কতক্ষণ?

ফেরাটা আফগানিস্তানের বিপক্ষে না হওয়ায় বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে ভীতি ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক ছিল। এ জন্যই যে অনভ্যাসজনিত ভয় থেকে ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আগের দিনই মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। প্রথম ঘণ্টা যাওয়া দূরের কথা, প্রথম ওভারেই সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের কিছুটা বিচলিত হওয়ারই কথা ছিল। যদিও শুরুর অস্বস্তি ভুলিয়ে স্বাগতিক শিবিরে এরপর স্বস্তি ফেরাতে খুব বেশি সময় নেয়নি তামিম ও ইমরুল কায়েসের ৮৩ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

এরকম কিছু অবশ্য তাঁদের কাছে প্রত্যাশিতও ছিল। কারণ প্রায় ১১ মাস আগে বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডে যেটি, তাতেও এ দুজনের ব্যাটেই দারুণ শুরু পেয়েছিল দল। ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সিরিজে সৌম্য ছিলেন না, তাই ওপেন করেছিল তামিম-ইমরুল জুটি। ১৪৭ রানের উড়ন্ত সূচনা এসেছিল তাঁদের ব্যাটে। দুজনেই খেলেছিলেন ৭৩ রানের ইনিংস। নিজেদের শেষ ইনিংসে ভালো ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা এত দিন পরও রাখলেন তাঁরা। দুজনে মিলে শুরুর অস্বস্তি তাড়ানো ব্যাটিংয়ের পথে তামিম পেরোলেন আরেকটি মাইলফলকও।

এমনিতেও তিন ফরম্যাটের প্রতিটিতেই তিনি বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন। তিন সংস্করণেই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিকও তিনি। এবার তিন ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়েছেন কাল। সে জন্য দরকার ছিল ১৫ রানের। আফগান পেসার দৌলত জাদরানের বল স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই মাইলফলকে পৌঁছে যাওয়া তামিমের ব্যাট আফগানদের বিপক্ষে সেই দূরের পথও দেখাচ্ছিল, যতটা গেলে তিন শ পেরোনো স্কোরও অসম্ভব ছিল না।

ইমরুলের (৩৭) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পরও মাহমুদ উল্লাহকে নিয়ে ৭৯ রানের তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপ অনায়াসেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে বলেও মনে হচ্ছিল। দুজনেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন। যদিও মাঝখানে একটিই সুযোগ দিয়েছিলেন তামিম। ৩০ রানে থাকার সময় পেসার মিরওয়াইজ আশরাফের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দেওয়া ক্যাচটি হাসমতউল্লাহ শহীদি নিতে পারলে হয়তো বাংলাদেশ ইনিংসের চেহারা অন্য রকমও হতে পারত। সেটি হয়নি তামিমের ব্যাটে ৮০ রানের ইনিংসের দেখা মেলায়। আবার তিন শও হয়নি সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তামিমের ৮০ রানের ইনিংসটি শেষ হয়ে যাওয়ায়।

তামিমের বিদায়ের পর মাহমুদ উল্লাহর (৬২) পাশাপাশি সাকিব আল হাসানও (৪৮) খেলেছেন কার্যকর ইনিংস। তাতে দলের ইনিংস প্রত্যাশিত আকার পায়নি এবং যে কারণে গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অস্বস্তিটা আবার বাংলাদেশ শিবিরে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের ২৬৫ রান তাড়া করতে নামা আফগানরা যে ততক্ষণে ৩২ ওভারেই দেড়শ পেরিয়ে চোখ রাঙাচ্ছিল বাংলাদেশকে। তামিমের সেঞ্চুরি না হলেও রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শহীদি মিলে তৃতীয় উইকেটে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়ে বড় অঘটনের আভাসও দিচ্ছিলেন। যাতে মিশে ছিল প্রায় ১১ মাস পর বাংলাদেশের ভালো শুরু ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কাও।


মন্তব্য