kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুস্তাফিজকে ছাড়াও দুর্দান্ত বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মুস্তাফিজকে ছাড়াও দুর্দান্ত বাংলাদেশ

কাঁধের চোট মুস্তাফিজুর রহমানের এমন হাল করে রেখেছে যে আফগানিস্তান আর ইংল্যান্ড সিরিজ তো বটেই, ডিসেম্বর-জানুয়ারির নিউজিল্যান্ড সফরেও তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় মুছে যায়নি। আর দলে তাঁর না থাকা মানেই প্রতিপক্ষ শিবিরে বাড়তি আতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাওয়া।

কারণ বাংলাদেশ দলের অন্য বোলারদের যাঁর যতই কারিকুরি থাকুক না কেন, ‘দ্য ফিজ’-এর মতো কাটার নামের দুর্বোধ্য মারণাস্ত্র তো আর নেই। আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা সেই বাস্তবতা মানলেনও। মেনেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটের বাংলাদেশ অধিনায়ক তবু বললেন, ‘আমি মনে করি আমাদের সেরা অ্যাটাকই আছে। ’

যা বলেছেন, তা মাশরাফি বলতেই পারেন। এ জন্যই বলতে পারেন যে বাংলাদেশ দলের বোলিং লাইনআপে মুস্তাফিজের সংযোজন ২০১৫ বিশ্বকাপেরও পরে। গত বছর দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজেই হইচই ফেলে দেওয়া ওয়ানডে অভিষেক এই তরুণ বাঁহাতি পেসারের। এরপর নিজেদের ডেরায় বাংলাদেশের জয়রথে পিষ্ট হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। কিন্তু টানা সেই সাফল্যের পথে বাংলাদেশের ছুটে চলার শুরু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে হওয়া বিশ্বকাপ থেকেই। যেখানে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা মাশরাফির দল সাফল্যের ধারাবাহিকতা রেখেছিল এর পরপরই দেশের মাটিতে খেলা পাকিস্তান সিরিজেও। সেই সিরিজেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের, তবে সেটি টি-টোয়েন্টিতে। তাতেও ৭ উইকেটে জেতা বাংলাদেশ এর আগেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানিদের ডুবিয়েছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়। মুস্তাফিজ সেই সাফল্যের অংশীদার ছিলেন না। ছিলেন না বিশ্বকাপেও।

যে বা যাঁরা ছিলেন, এই আফগানিস্তান সিরিজে ঠিক তাঁরাই আছেন। সিরিজ শুরুর মাত্র এক দিন আগে তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া সেই পেস বোলিং লাইনআপই দাঁড় করিয়েছে, যেটি ছিল ২০১৫-র বিশ্বকাপেও। এরপর মুস্তাফিজ যোগ হওয়ার আগে নিজেদের মাঠে পাকিস্তান সিরিজেও দেখা গেছে সেই একই পেসত্রয়ীকে—মাশরাফি, তাসকিন ও রুবেল হোসেন। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরার মানুকা ওভালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই পেস অ্যাটাক নিয়ে নেমেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অ্যাডিলেড ওভালে ব্রিটিশ বধ করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সাফল্য কিংবা শেষ আটের লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষেও ওই তিন পেসারেই আস্থা রেখে নেমেছিল বাংলাদেশ। ব্যতিক্রমও যে ছিল না, তা নয়। স্লো ওভার রেটের জন্য এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকায় যেমন হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল মাশরাফিকে। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করায় শেষ পর্যন্ত এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতেই হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ককে। যেটি কার্যকর হয়েছিল দেশে ফেরার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে।

ওই দুই ম্যাচে দুজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলা বাংলাদেশ লম্বা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে তিন পেসার নিয়ে। মুস্তাফিজ আসার পর অবশ্য সেই লাইনআপ বদলে গেছে। এবার যখন তাঁকে ছাড়াই খেলতে হচ্ছে, তখন মাশরাফি পুরনো সাফল্যের নিরিখে ভরসাই পাচ্ছেন। খুব আশাবাদীও হয়ে উঠছেন এই ভেবে যে, ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকা রুবেলও তো ফিরে আবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবেন, ‘বিশ্বকাপেও আমরা একই অ্যাটাক নিয়ে খেলেছিলাম। মুস্তাফিজকে আমরা অবশ্যই মিস করব। তবে অন্যদের জন্য এটা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ। এখন তো ওয়ানডেতে দলে থাকার জন্য আমাদের মধ্যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আছে। ’

অবশ্য আফগানিস্তান শিবির নিজেদের বোলিং আক্রমণ নিয়ে যেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আসছে, তাতে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনজন লেগ স্পিনার এই সফরে নিয়ে আসা দলটিতে আছেন অফ স্পিনার এবং বাঁহাতি স্পিনারও। ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে দুই তরুণ পেসারও দারুণ বোলিংয়ে আশা জাগিয়েছেন। আফগান বোলিং তাই মাশরাফির কাছ থেকে প্রাপ্য শ্রদ্ধা পাচ্ছেও, ‘আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ অবশ্যই খুব ভালো। আসলে ওদের পুরো দলটিকেই আমরা সম্মান করছি। তবে ব্যাপার হচ্ছে আমরা নিজেরা বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা বোলিং লাইনআপ এখন আমাদের আছে। ’ সেই বিশ্বাসের ব্যাখ্যাও মিলেছে মাশরাফির কাছ থেকে, ‘একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ যখন খেলতে নামব, তখন আমরা নিজেরা কী বিশ্বাস করি সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের বিশ্বাস ও শক্তি নিয়েই আমরা খেলতে নামব। ’ আর আজ প্রথম ওয়ানডেতে তো পেস আক্রমণে থাকছে সেই পুরনো জ্বালানি। যে জ্বালানিতেই এগিয়েছিল বিশ্বকাপ অভিযান। পথ দেখিয়েছিল পাকিস্তান সিরিজেও।


মন্তব্য